আজ সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৫%

আশুলিয়ায় জমি দখল ও ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগ আহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:38:33 pm, Saturday, 7 November 2026
  • 30

আশুলিয়ায় জমি দখল ও ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগ আহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় জমি কেনার বায়না করেও দীর্ঘদিন ধরে বাকি টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে আহাদুজ্জামান চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি কারখানা স্থাপনের কথা বলে একাধিক মালিকের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ভাড়া না দিয়ে সেগুলো দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এতে জমির ন্যায্য মূল্য ও ভাড়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন একাধিক জমির মালিক। ভুক্তভোগী জমির মালিকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী আত্মীয়ের পরিচয় এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমিগুলো দখলে রেখেছেন আহাদুজ্জামান। জমি ছেড়ে দেওয়া কিংবা বকেয়া টাকা ও ভাড়া পরিশোধের কথা বললে তাঁদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হতো বলেও দাবি তাঁদের।

ভুক্তভোগী আব্দুল মাজেদ মানিক (৬৮) এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাইপাইল মৌজায় তাঁর ও নিকটাত্মীয় লুৎফুন নাহারের মালিকানাধীন ১১৩২ অযুতাংশ জমি বিক্রির জন্য আহাদুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এ সময় ১২ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে ১৫০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নানামা করেন আহাদুজ্জামান।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন মাসের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করে জমি রেজিস্ট্রি করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দীর্ঘদিন পার হলেও বাকি টাকা পরিশোধ কিংবা জমির দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন আব্দুল মাজেদ মানিক। অভিযোগে আরও বলা হয়, বায়নানামা সম্পাদনের পর জমিতে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে ভোগদখল করছেন আহাদুজ্জামান। বাকি টাকা পরিশোধ করে দলিল সম্পন্ন করার জন্য একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৬ জুলাই বকেয়া টাকা পরিশোধের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মানিক। শুধু বায়নাকৃত জমি নয়, একই এলাকায় পোশাক কারখানা স্থাপনের কথা বলে একাধিক মালিকের কাছ থেকে প্রায় ২০১ শতাংশ জমি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে। জমির মালিকদের দাবি, ২০১১ সালের দিকে কারখানা পরিচালনার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নেওয়া হয়।

শুরুতে কয়েক মাসের ভাড়া পরিশোধ করা হলেও পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন আর কোনো ভাড়া দেওয়া হয়নি। কারখানাটি চালুর কয়েক দিনের মধ্যেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে জমিগুলো কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকলেও মালিকদের ভোগদখলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন জমি ব্যবহার করতে না পারায় তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান। বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলে তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একাধিক মামলায় আহাদুজ্জামানের নাম রয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানা ও তেজগাঁও থানায় এ-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার দাবি সত্ত্বেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জমির মালিকেরা। ভুক্তভোগী আব্দুল মাজেদ মানিকসহ অন্যরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন। জমির বকেয়া টাকা পরিশোধ ও দলিল রেজিস্ট্রির দাবিতে একাধিকবার আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

কিন্তু দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাঁরা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহাদুজ্জামান চৌধুরীকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি জমি ভাড়া নিইনি, তবে বায়না করেছি। ’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি নেতা আপেল মাহমুদের ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় এজাহার

আশুলিয়ায় জমি দখল ও ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগ আহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে

Update Time : 10:38:33 pm, Saturday, 7 November 2026

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় জমি কেনার বায়না করেও দীর্ঘদিন ধরে বাকি টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে আহাদুজ্জামান চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি কারখানা স্থাপনের কথা বলে একাধিক মালিকের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ভাড়া না দিয়ে সেগুলো দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এতে জমির ন্যায্য মূল্য ও ভাড়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন একাধিক জমির মালিক। ভুক্তভোগী জমির মালিকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী আত্মীয়ের পরিচয় এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমিগুলো দখলে রেখেছেন আহাদুজ্জামান। জমি ছেড়ে দেওয়া কিংবা বকেয়া টাকা ও ভাড়া পরিশোধের কথা বললে তাঁদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হতো বলেও দাবি তাঁদের।

ভুক্তভোগী আব্দুল মাজেদ মানিক (৬৮) এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাইপাইল মৌজায় তাঁর ও নিকটাত্মীয় লুৎফুন নাহারের মালিকানাধীন ১১৩২ অযুতাংশ জমি বিক্রির জন্য আহাদুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এ সময় ১২ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে ১৫০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নানামা করেন আহাদুজ্জামান।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন মাসের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করে জমি রেজিস্ট্রি করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দীর্ঘদিন পার হলেও বাকি টাকা পরিশোধ কিংবা জমির দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন আব্দুল মাজেদ মানিক। অভিযোগে আরও বলা হয়, বায়নানামা সম্পাদনের পর জমিতে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে ভোগদখল করছেন আহাদুজ্জামান। বাকি টাকা পরিশোধ করে দলিল সম্পন্ন করার জন্য একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৬ জুলাই বকেয়া টাকা পরিশোধের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মানিক। শুধু বায়নাকৃত জমি নয়, একই এলাকায় পোশাক কারখানা স্থাপনের কথা বলে একাধিক মালিকের কাছ থেকে প্রায় ২০১ শতাংশ জমি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে। জমির মালিকদের দাবি, ২০১১ সালের দিকে কারখানা পরিচালনার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নেওয়া হয়।

শুরুতে কয়েক মাসের ভাড়া পরিশোধ করা হলেও পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন আর কোনো ভাড়া দেওয়া হয়নি। কারখানাটি চালুর কয়েক দিনের মধ্যেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে জমিগুলো কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকলেও মালিকদের ভোগদখলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন জমি ব্যবহার করতে না পারায় তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান। বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলে তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একাধিক মামলায় আহাদুজ্জামানের নাম রয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানা ও তেজগাঁও থানায় এ-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার দাবি সত্ত্বেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জমির মালিকেরা। ভুক্তভোগী আব্দুল মাজেদ মানিকসহ অন্যরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন। জমির বকেয়া টাকা পরিশোধ ও দলিল রেজিস্ট্রির দাবিতে একাধিকবার আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

কিন্তু দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাঁরা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহাদুজ্জামান চৌধুরীকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি জমি ভাড়া নিইনি, তবে বায়না করেছি। ’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।