জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফেনীর দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয় যানজট। তবে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমানের দাবি, ককটেল নয়, কালিপূজার বাজির শব্দ শোনা গেছে।
রোববার বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দাগনভূঞা পৌর শহরের সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের সামনে থেকে র‍্যালি বের করেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন।
র‍্যালিটি স্থানীয় সরকারি আতাতুর্ক আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের ফটকে পৌঁছালে নিউ সুলতান মার্কেট ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন সড়কে যানবাহন থমকে দাঁড়ায় এবং যানজটের সৃষ্টি হয়। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ করে দেন। বিস্ফোরণের ধোঁয়ায় চারপাশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে পথচারীদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
পরে র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আকবর হোসেন বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় দল। মতের অমিল থাকতে পারে। আমরা দলের স্বার্থে ঐক্যের ডাক দিয়েছি। তবে যারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বাজারে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাস করছে, তাদের সঙ্গে কোনো ঐক্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও খালেদা জিয়ার আদর্শ মানবে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসরণ করবে, তারাই বিএনপি করার অধিকার রাখে। তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দলে কোনো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের ঠাঁই নেই। দাগনভূঞার মাটিতেও কোনো সন্ত্রাসীর স্থান হবে না।’
র‍্যালি শেষে বিএনপির নেতাকর্মীরা কলেজ রোডের দিকে যাওয়ার সময় আবারও মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, র‍্যালির আগে ও পরে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি বিশেষ পোশাক, হেলমেট ও মাস্ক পরে লাঠি হাতে র‍্যালিতে অংশ নেন। তাদের বহন করা ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু ছিল বলেও দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। কয়েকজনের পোশাকের ভেতরে অস্ত্র দেখা গেছে বলেও দাবি তাদের। তবে ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা পুলিশ নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি।
দাগনভূঞা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম স্বপন অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট, দালাল ও চাটুকারদের নিয়ে দাগনভূঞা বিএনপি চলতে পারে না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে বিএনপির কর্মসূচি শেষ হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণ কারা ঘটিয়েছে, তা জানা নেই। তবে ককটেল নয়, কালিপূজার বাজির শব্দ শোনা গেছে।’
প্রসঙ্গত, এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অবস্থান নেয়। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় দুই পক্ষের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হন।





















