আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭১%

রাজধানীতে চিকিৎসা নিতে এসে ৮ বছরের ক্যানসার রোগীর করুণ পরিণতি

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:48:16 pm, Wednesday, 28 October 2026
  • 22

রাজধানীতে চিকিৎসা নিতে এসে ৮ বছরের ক্যানসার রোগীর করুণ পরিণতি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে দিনাজপুর থেকে বোনম্যারো ক্যানসারে আক্রান্ত ৮ বছরের ছোট্ট ফাইজার পেট সিটি স্ক্যান পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসেন তার বড় ভাই শিকদার হোসেন।

এখানে দুটি মেশিন থাকলেও পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ফ্লুইড সরবরাহ বন্ধ থাকায় এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পরীক্ষা করাতে পারেননি তারা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বিশেষ কায়দায় ফ্লুইড নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হলেও তত দিনে ফাইজার জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে। শুধু পেট সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না নিতে পারায় করুণ মৃত্যু হয় ছোট্ট এই প্রাণের।

শুধু ফাইজা নয়, দেশে পেট সিটি স্ক্যান মেশিনের অপ্রতুলতার কারণে ঝরছে এমন হাজারো প্রাণ। ক্যানসার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পজিট্রন এমিশন টমোগ্রাফি বা পেট সিটি স্ক্যান। রোগের বিস্তার নির্ণয়, শরীরের কোথায় ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে, তা শনাক্ত করা এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা মূল্যায়নে অনেক ক্ষেত্রে এই পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।

কিন্তু বাংলাদেশে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে ক্যানসার রোগীরা। অর্থের সংস্থান থাকলেও নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা করানোর সুযোগ মিলছে না। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সীমিতসংখ্যক মেশিনের ওপর বিপুল রোগীর চাপ থাকায় সিরিয়াল পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে সক্রিয় পেট সিটি স্ক্যান মেশিনের সংখ্যা মাত্র চারটি।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় ফ্লুইড বা রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল সরবরাহের সীমাবদ্ধতা। ফলে যন্ত্র থাকলেও সব সময় পরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। ক্যানসারের মতো সময়সংবেদনশীল রোগের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ অপেক্ষা রোগী ও তাদের স্বজনদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি সরকার ক্যানসার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি মেশিন আমদানির কথা বারবার বললেও উপেক্ষিতই রয়ে গেছে পেট সিটি স্ক্যান মেশিনের গুরুত্ব।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ক্যানসার চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামী দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা শুধু বিভাগীয় শহরকেন্দ্রিক না রেখে জেলা পর্যায়েও পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে রূপালী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পেট সিটি স্ক্যান মেশিনের অপ্রতুলতা এবং এ নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

তাই এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে রেডিওথেরাপির মেশিন আমদানির প্রস্তুতি নেওয়া হলেও রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একই ধরনের তৎপরতা দেখা না যাওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি বাড়বে বই কমবে না। রাজধানীকেন্দ্রিক সেবা, ভোগান্তি সারা দেশের রোগীর : পেট সিটি স্ক্যানের সীমিত সক্ষমতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ঢাকার বাইরের রোগীরা।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে তাদের একদিকে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে রাজধানীতে এসে থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ও চিকিৎসার আনুষঙ্গিক ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে। অনেক রোগীর জন্য এই বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গত আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে (ইনমাস) নতুন পেট সিটি স্ক্যান ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হয়।

সেখানে সাইক্লোট্রন মেশিন স্থাপন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত ও জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন সংশ্লিষ্টরা আড়াই মাসের মধ্যে সেবা চালুর আশা প্রকাশ করেছিলেন। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে পরীক্ষা করানোর সুযোগ তৈরি হলে রোগীদের ব্যয়ও কমতে পারে বলে আশা করা হয়। যদিও এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রোগীদের জন্য ঢাকানির্ভরতা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে একটি নতুন কেন্দ্র স্থাপনই সারা দেশের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত কেন্দ্র স্থাপন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং নিয়মিত রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। কেন এত গুরুত্বপূর্ণ পেট সিটি স্ক্যান : পেট সিটি স্ক্যান একটি উন্নত নিউক্লিয়ার মেডিসিনভিত্তিক ইমেজিং পরীক্ষা। এতে সাধারণত তেজস্ক্রিয় ট্রেসার ব্যবহার করে শরীরের বিভিন্ন অংশের বিপাকীয় কার্যকলাপের ছবি নেওয়া হয়।

এর সঙ্গে সিটি স্ক্যানের ছবি মিলিয়ে চিকিৎসকেরা রোগের অবস্থান ও বিস্তার সম্পর্কে ধারণা পান। ক্যানসারের ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী এই পরীক্ষা দিয়ে শরীরের অন্য অংশে টিউমার ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করতে পারেন। চিকিৎসা শুরুর আগে রোগের বিস্তার সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন, কেমোথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসার পর রোগের প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করতে পারেন।

নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্যানসার ফিরে এসেছে কি না, তা অনুসন্ধান করতে পারেন। তবে সব ক্যানসার রোগীর জন্য পেট সিটি স্ক্যান প্রয়োজন হয় না উল্লেখ করে জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, রোগের ধরন, পর্যায় ও চিকিৎসার উদ্দেশ্য বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই পরীক্ষা নির্ধারণ করেন। তাই পরীক্ষার চাহিদা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যথাযথ চিকিৎসাগত নির্দেশনা অনুসরণ করাও জরুরি।

মেশিন থাকলেও কেন পরীক্ষা ব্যাহত : পেট সিটি স্ক্যানের জন্য শুধু স্ক্যানার থাকলেই চলে না। প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল, প্রশিক্ষিত জনবল, মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করার সক্ষমতা; বিশেষ করে বহুল ব্যবহৃত এফডিজি (১৮এফ-এফডিজি) একটি তেজস্ক্রিয় ট্রেসার, যার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে দ্রুত কমে যায়।

ফলে এর উৎপাদন, পরিবহন ও ব্যবহার নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হয়। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বা উৎপাদন ও পরীক্ষার সময়সূচিতে সমন্বয় না থাকলে মেশিন সচল থাকলেও পরীক্ষা সীমিত হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে সাইক্লোট্রন সুবিধা রয়েছে।

সেখান থেকে উৎপাদিত এফডিজি ও পিএসএমএ রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল দেশের সরকারি ও বেসরকারি পেট সিটি স্ক্যান কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ, সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এই পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এ কারণে প্রয়োজনীয় ফ্লুইড বা রেডিওফার্মাসিউটিক্যালের ঘাটতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উৎপাদন সক্ষমতা, দৈনিক চাহিদা, সরবরাহের সময়সূচি এবং কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।

চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন সরকারি ও বেসরকারি পেট সিটি স্ক্যান কেন্দ্রগুলোর রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল চাহিদা মূল্যায়ন এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে বৈঠক করে। অর্থাৎ, সরবরাহের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনায় এসেছে। তবে সেই উদ্যোগের ফলে ঘাটতি কতটা কমেছে, নিয়মিত সরবরাহ কতটা নিশ্চিত হয়েছে এবং রোগীদের অপেক্ষার সময় কমেছে কি না— তার হালনাগাদ পরিমাপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রেডিওথেরাপিতে উদ্যোগ, রোগ নির্ণয়ে কী হবে : ক্যানসার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে সরকার রেডিওথেরাপির মেশিন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি মাসের ৭ অক্টোবর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন চলতি অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭টি লিনিয়ার অ্যাকসেলারেটর কেনার পরিকল্পনার কথা জানান। ১৯ অক্টোবরও ক্যানসার হাসপাতালে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

এই উদ্যোগ ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ক্যানসার ব্যবস্থাপনায় রোগ নির্ণয়, রোগের পর্যায় নির্ধারণ, চিকিৎসা নির্বাচন, চিকিৎসা প্রদান এবং পরবর্তী পর্যবেক্ষণ— প্রতিটি ধাপ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। রেডিওথেরাপির সক্ষমতা বাড়লেও প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা সময়মতো করা না গেলে চিকিৎসা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

একইভাবে রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়িয়ে চিকিৎসার সুযোগ সীমিত রাখলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন। তাই রেডিওথেরাপি মেশিন কেনার পাশাপাশি পেট সিটি স্ক্যানসহ উন্নত রোগ নির্ণয় প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও সমন্বিতভাবে নেওয়া প্রয়োজন। তবে পেট সিটি স্ক্যান সম্প্রসারণে কোনো উদ্যোগই নেই— এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরমাণু শক্তি কমিশনের চলমান প্রকল্প, বাজেট এবং ক্রয় পরিকল্পনার তথ্য যাচাই করা দরকার।

রোগীর ব্যয় বাড়ছে, কমছে না অপেক্ষা : পেট সিটি স্ক্যানের সীমিত প্রাপ্যতা রোগীদের সামনে কার্যত দুটি সংকট তৈরি করছে— অপেক্ষা অথবা বেশি খরচে বিকল্প খোঁজা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার সুযোগ পেতে দেরি হলে কেউ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার চেষ্টা করে, আবার কেউ বিদেশে পরীক্ষা করানোর কথাও বিবেচনা করে। ২০২১ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পেট সিটি স্ক্যানের খরচ প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে এগুলো ওই সময়ের মূল্য; বর্তমান মূল্য হিসেবে ব্যবহার করার আগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর হালনাগাদ ফি যাচাই করা প্রয়োজন। পরীক্ষার খরচ ছাড়াও ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীদের যাতায়াত, আবাসন ও খাবারের ব্যয় রয়েছে। সিরিয়াল পেতে একাধিকবার যাতায়াত করতে হলে সেই ব্যয় আরও বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে শুধু মেশিনের সংখ্যা বাড়ানো নয়, পরীক্ষার জন্য অপেক্ষার সময় কমানো এবং রোগীদের সহজে সিরিয়াল পাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করে কয়েকটি পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রথমত কেন্দ্রভিত্তিক সক্ষমতার হিসাব প্রকাশ। দেশে মোট কতটি পেট সিটি স্ক্যান মেশিন রয়েছে, তার মধ্যে কতটি সচল, প্রতিদিন কতটি পরীক্ষা হয় এবং কতজন অপেক্ষমাণ— এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন।

এতে প্রকৃত সংকট ও বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ সহজ হবে। দ্বিতীয়ত, রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল সরবরাহ নিশ্চিত করা: এফডিজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ট্রেসারের উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রগুলোর চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের সময়সূচি সমন্বয় করতে হবে। তৃতীয়ত, ঢাকার বাইরে সেবা সম্প্রসারণ : চট্টগ্রামে পেট সিটি স্ক্যান ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য বিভাগে চাহিদাভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা যেতে পারে।

এতে রোগীদের রাজধানীনির্ভরতা কমবে। চতুর্থত, অপেক্ষমাণ রোগীদের জন্য স্বচ্ছ সিরিয়ালব্যবস্থা : অনলাইন নিবন্ধন, অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা প্রকাশ, বাতিল হওয়া সিরিয়াল দ্রুত পুনর্বণ্টন এবং চিকিৎসাগত জরুরিতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। অগ্রাধিকার নির্ধারণ অবশ্যই চিকিৎসকের মূল্যায়ন অনুযায়ী হতে হবে।

পঞ্চমত, সমন্বিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা : রেডিওথেরাপি, পেট সিটি স্ক্যান, অন্যান্য রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রয়োজনীয় উপকরণের চাহিদা একসঙ্গে মূল্যায়ন করে ক্যানসার চিকিৎসার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করা দরকার। তাহলেই রোগীদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নারায়ণগঞ্জে একই পরিবারের ৩ জনের দাফন সম্পন্ন

রাজধানীতে চিকিৎসা নিতে এসে ৮ বছরের ক্যানসার রোগীর করুণ পরিণতি

Update Time : 10:48:16 pm, Wednesday, 28 October 2026

রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে দিনাজপুর থেকে বোনম্যারো ক্যানসারে আক্রান্ত ৮ বছরের ছোট্ট ফাইজার পেট সিটি স্ক্যান পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসেন তার বড় ভাই শিকদার হোসেন।

এখানে দুটি মেশিন থাকলেও পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ফ্লুইড সরবরাহ বন্ধ থাকায় এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পরীক্ষা করাতে পারেননি তারা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বিশেষ কায়দায় ফ্লুইড নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হলেও তত দিনে ফাইজার জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে। শুধু পেট সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না নিতে পারায় করুণ মৃত্যু হয় ছোট্ট এই প্রাণের।

শুধু ফাইজা নয়, দেশে পেট সিটি স্ক্যান মেশিনের অপ্রতুলতার কারণে ঝরছে এমন হাজারো প্রাণ। ক্যানসার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পজিট্রন এমিশন টমোগ্রাফি বা পেট সিটি স্ক্যান। রোগের বিস্তার নির্ণয়, শরীরের কোথায় ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে, তা শনাক্ত করা এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা মূল্যায়নে অনেক ক্ষেত্রে এই পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।

কিন্তু বাংলাদেশে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে ক্যানসার রোগীরা। অর্থের সংস্থান থাকলেও নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা করানোর সুযোগ মিলছে না। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সীমিতসংখ্যক মেশিনের ওপর বিপুল রোগীর চাপ থাকায় সিরিয়াল পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে সক্রিয় পেট সিটি স্ক্যান মেশিনের সংখ্যা মাত্র চারটি।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় ফ্লুইড বা রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল সরবরাহের সীমাবদ্ধতা। ফলে যন্ত্র থাকলেও সব সময় পরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। ক্যানসারের মতো সময়সংবেদনশীল রোগের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ অপেক্ষা রোগী ও তাদের স্বজনদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি সরকার ক্যানসার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি মেশিন আমদানির কথা বারবার বললেও উপেক্ষিতই রয়ে গেছে পেট সিটি স্ক্যান মেশিনের গুরুত্ব।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ক্যানসার চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামী দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা শুধু বিভাগীয় শহরকেন্দ্রিক না রেখে জেলা পর্যায়েও পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে রূপালী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পেট সিটি স্ক্যান মেশিনের অপ্রতুলতা এবং এ নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

তাই এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে রেডিওথেরাপির মেশিন আমদানির প্রস্তুতি নেওয়া হলেও রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একই ধরনের তৎপরতা দেখা না যাওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি বাড়বে বই কমবে না। রাজধানীকেন্দ্রিক সেবা, ভোগান্তি সারা দেশের রোগীর : পেট সিটি স্ক্যানের সীমিত সক্ষমতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ঢাকার বাইরের রোগীরা।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে তাদের একদিকে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে রাজধানীতে এসে থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ও চিকিৎসার আনুষঙ্গিক ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে। অনেক রোগীর জন্য এই বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গত আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে (ইনমাস) নতুন পেট সিটি স্ক্যান ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হয়।

সেখানে সাইক্লোট্রন মেশিন স্থাপন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত ও জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন সংশ্লিষ্টরা আড়াই মাসের মধ্যে সেবা চালুর আশা প্রকাশ করেছিলেন। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে পরীক্ষা করানোর সুযোগ তৈরি হলে রোগীদের ব্যয়ও কমতে পারে বলে আশা করা হয়। যদিও এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রোগীদের জন্য ঢাকানির্ভরতা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে একটি নতুন কেন্দ্র স্থাপনই সারা দেশের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত কেন্দ্র স্থাপন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং নিয়মিত রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। কেন এত গুরুত্বপূর্ণ পেট সিটি স্ক্যান : পেট সিটি স্ক্যান একটি উন্নত নিউক্লিয়ার মেডিসিনভিত্তিক ইমেজিং পরীক্ষা। এতে সাধারণত তেজস্ক্রিয় ট্রেসার ব্যবহার করে শরীরের বিভিন্ন অংশের বিপাকীয় কার্যকলাপের ছবি নেওয়া হয়।

এর সঙ্গে সিটি স্ক্যানের ছবি মিলিয়ে চিকিৎসকেরা রোগের অবস্থান ও বিস্তার সম্পর্কে ধারণা পান। ক্যানসারের ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী এই পরীক্ষা দিয়ে শরীরের অন্য অংশে টিউমার ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করতে পারেন। চিকিৎসা শুরুর আগে রোগের বিস্তার সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন, কেমোথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসার পর রোগের প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করতে পারেন।

নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্যানসার ফিরে এসেছে কি না, তা অনুসন্ধান করতে পারেন। তবে সব ক্যানসার রোগীর জন্য পেট সিটি স্ক্যান প্রয়োজন হয় না উল্লেখ করে জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, রোগের ধরন, পর্যায় ও চিকিৎসার উদ্দেশ্য বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই পরীক্ষা নির্ধারণ করেন। তাই পরীক্ষার চাহিদা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যথাযথ চিকিৎসাগত নির্দেশনা অনুসরণ করাও জরুরি।

মেশিন থাকলেও কেন পরীক্ষা ব্যাহত : পেট সিটি স্ক্যানের জন্য শুধু স্ক্যানার থাকলেই চলে না। প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল, প্রশিক্ষিত জনবল, মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করার সক্ষমতা; বিশেষ করে বহুল ব্যবহৃত এফডিজি (১৮এফ-এফডিজি) একটি তেজস্ক্রিয় ট্রেসার, যার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে দ্রুত কমে যায়।

ফলে এর উৎপাদন, পরিবহন ও ব্যবহার নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হয়। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বা উৎপাদন ও পরীক্ষার সময়সূচিতে সমন্বয় না থাকলে মেশিন সচল থাকলেও পরীক্ষা সীমিত হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে সাইক্লোট্রন সুবিধা রয়েছে।

সেখান থেকে উৎপাদিত এফডিজি ও পিএসএমএ রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল দেশের সরকারি ও বেসরকারি পেট সিটি স্ক্যান কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ, সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এই পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এ কারণে প্রয়োজনীয় ফ্লুইড বা রেডিওফার্মাসিউটিক্যালের ঘাটতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উৎপাদন সক্ষমতা, দৈনিক চাহিদা, সরবরাহের সময়সূচি এবং কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।

চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন সরকারি ও বেসরকারি পেট সিটি স্ক্যান কেন্দ্রগুলোর রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল চাহিদা মূল্যায়ন এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে বৈঠক করে। অর্থাৎ, সরবরাহের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনায় এসেছে। তবে সেই উদ্যোগের ফলে ঘাটতি কতটা কমেছে, নিয়মিত সরবরাহ কতটা নিশ্চিত হয়েছে এবং রোগীদের অপেক্ষার সময় কমেছে কি না— তার হালনাগাদ পরিমাপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রেডিওথেরাপিতে উদ্যোগ, রোগ নির্ণয়ে কী হবে : ক্যানসার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে সরকার রেডিওথেরাপির মেশিন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি মাসের ৭ অক্টোবর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন চলতি অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭টি লিনিয়ার অ্যাকসেলারেটর কেনার পরিকল্পনার কথা জানান। ১৯ অক্টোবরও ক্যানসার হাসপাতালে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

এই উদ্যোগ ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ক্যানসার ব্যবস্থাপনায় রোগ নির্ণয়, রোগের পর্যায় নির্ধারণ, চিকিৎসা নির্বাচন, চিকিৎসা প্রদান এবং পরবর্তী পর্যবেক্ষণ— প্রতিটি ধাপ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। রেডিওথেরাপির সক্ষমতা বাড়লেও প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা সময়মতো করা না গেলে চিকিৎসা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

একইভাবে রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়িয়ে চিকিৎসার সুযোগ সীমিত রাখলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন। তাই রেডিওথেরাপি মেশিন কেনার পাশাপাশি পেট সিটি স্ক্যানসহ উন্নত রোগ নির্ণয় প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও সমন্বিতভাবে নেওয়া প্রয়োজন। তবে পেট সিটি স্ক্যান সম্প্রসারণে কোনো উদ্যোগই নেই— এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরমাণু শক্তি কমিশনের চলমান প্রকল্প, বাজেট এবং ক্রয় পরিকল্পনার তথ্য যাচাই করা দরকার।

রোগীর ব্যয় বাড়ছে, কমছে না অপেক্ষা : পেট সিটি স্ক্যানের সীমিত প্রাপ্যতা রোগীদের সামনে কার্যত দুটি সংকট তৈরি করছে— অপেক্ষা অথবা বেশি খরচে বিকল্প খোঁজা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার সুযোগ পেতে দেরি হলে কেউ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার চেষ্টা করে, আবার কেউ বিদেশে পরীক্ষা করানোর কথাও বিবেচনা করে। ২০২১ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পেট সিটি স্ক্যানের খরচ প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে এগুলো ওই সময়ের মূল্য; বর্তমান মূল্য হিসেবে ব্যবহার করার আগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর হালনাগাদ ফি যাচাই করা প্রয়োজন। পরীক্ষার খরচ ছাড়াও ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীদের যাতায়াত, আবাসন ও খাবারের ব্যয় রয়েছে। সিরিয়াল পেতে একাধিকবার যাতায়াত করতে হলে সেই ব্যয় আরও বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে শুধু মেশিনের সংখ্যা বাড়ানো নয়, পরীক্ষার জন্য অপেক্ষার সময় কমানো এবং রোগীদের সহজে সিরিয়াল পাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করে কয়েকটি পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রথমত কেন্দ্রভিত্তিক সক্ষমতার হিসাব প্রকাশ। দেশে মোট কতটি পেট সিটি স্ক্যান মেশিন রয়েছে, তার মধ্যে কতটি সচল, প্রতিদিন কতটি পরীক্ষা হয় এবং কতজন অপেক্ষমাণ— এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন।

এতে প্রকৃত সংকট ও বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ সহজ হবে। দ্বিতীয়ত, রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল সরবরাহ নিশ্চিত করা: এফডিজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ট্রেসারের উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রগুলোর চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের সময়সূচি সমন্বয় করতে হবে। তৃতীয়ত, ঢাকার বাইরে সেবা সম্প্রসারণ : চট্টগ্রামে পেট সিটি স্ক্যান ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য বিভাগে চাহিদাভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা যেতে পারে।

এতে রোগীদের রাজধানীনির্ভরতা কমবে। চতুর্থত, অপেক্ষমাণ রোগীদের জন্য স্বচ্ছ সিরিয়ালব্যবস্থা : অনলাইন নিবন্ধন, অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা প্রকাশ, বাতিল হওয়া সিরিয়াল দ্রুত পুনর্বণ্টন এবং চিকিৎসাগত জরুরিতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। অগ্রাধিকার নির্ধারণ অবশ্যই চিকিৎসকের মূল্যায়ন অনুযায়ী হতে হবে।

পঞ্চমত, সমন্বিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা : রেডিওথেরাপি, পেট সিটি স্ক্যান, অন্যান্য রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রয়োজনীয় উপকরণের চাহিদা একসঙ্গে মূল্যায়ন করে ক্যানসার চিকিৎসার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করা দরকার। তাহলেই রোগীদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে।