মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহেরান্দী গ্রামে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। অন্তত সাতটি ঘরে আগুন দেওয়া এবং তিনটি বাড়ির প্রায় ৩০টি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। এতে কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগও তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের কমিটি গঠন করা হয়। এতে মোশারফ ফকিরকে সভাপতি করা হলে আপত্তি জানান স্থানীয় বাচ্চু মোড়ল। নিজেকে সভাপতি দাবি করে তিনি বিরোধে জড়ান। এ নিয়ে বাচ্চু মোড়ল ও সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ভোরে শতাধিক লোক নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বাচ্চু মোড়লের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চলে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় সদর থানা পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত জুলাই যোদ্ধা তামিম মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ তাদের পক্ষ নিয়ে আমাদের বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এরপর বাচ্চু মোড়লের লোকজন আমাদের বাড়িঘরে ঢুকে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

























