চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের ঐতিহ্যবাহী ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দোহাজারী স্টেশনে কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতির জোর দাবি জানিয়েছেন দোহাজারীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ।
১৯৩১ সালে ব্রিটিশ আমলে চালু হওয়া ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথটি দীর্ঘ প্রায় নয় দশক ধরে দোহাজারী স্টেশনেই শেষ হতো। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শেষ স্টেশন বা ঐতিহ্যবাহী ‘আখেরি স্টেশন’ হিসেবে পরিচিত এই স্টেশন যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পরবর্তী সময়ে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন ১০১ কিলোমিটার রেললাইন চালু হওয়ায় ঐতিহাসিক এই স্টেশনটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী স্টেশনে পরিণত হয়েছে।
তবে এই রেলপথ দিয়ে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর কোনো বিরতি দোহাজারী স্টেশনে রাখা হয়নি। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দোহাজারী স্টেশনটি চন্দনাইশ, সাতকানিয়ার উত্তরাঞ্চল, পটিয়ার দক্ষিণাঞ্চল, সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
স্থানীয়দের মতে, দোহাজারী স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি চালু হলে প্রতিদিন হাজার হাজার চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, পর্যটক ও চিকিৎসাপ্রার্থী কম সময়ে এবং স্বল্প খরচে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি দোহাজারীর বৃহৎ কৃষিপণ্য বাজার থেকে শাকসবজি ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অন্যান্য পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।
দোহাজারী স্টেশনের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অবদান, জনস্বার্থ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সেখানে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ পুনর্নির্ধারণের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।






















