আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৭°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১২%

রোববার আসছে নতুন কাঠামোর সরকারি বেতন, বঞ্চনার মুখে একদল চাকরিজীবী

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:56:53 pm, Tuesday, 27 October 2026
  • 16

রোববার আসছে নতুন কাঠামোর সরকারি বেতন, বঞ্চনার মুখে একদল চাকরিজীবী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামী রোববার (১ নভেম্বর) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন ও চার মাসের বকেয়া পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে না পারায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবার বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন না।

তাদের আপাতত পুরোনো বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। নতুন কাঠামোর বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকেই এখনো নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে পারেননি।

ফলে নির্ধারিত সময়ে সবার জন্য বর্ধিত বেতন কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে জটিলতা নিরসনে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করা হলেও গত সোমবার পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। অর্থ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও একাধিক মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে ১ নভেম্বরের আগে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না বলে জানা গেছে।

নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করতে গিয়ে মূল বেতন নির্ধারণ, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়ে বিভিন্ন অসংগতি সামনে এসেছে। কোথাও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে জুনিয়র কর্মকর্তারা বেশি বেতন পাবেন, কোথাও পদোন্নতির পরও কমবে মোট আয়। এসব সমস্যা সমাধানে অর্থ বিভাগে আবেদন করেও সুরাহা পাচ্ছেন না তারা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো এ প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেননি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++-এর কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা। অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও জানাশোনার ঘাটতির কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তবে অর্থসচিব এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ প্রারম্ভিক বেতনে ১১তম গ্রেড এগিয়ে থাকলেও নতুন নিয়মে বেতন নির্ধারণের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১২তম গ্রেডের কর্মচারী বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন।

এতে গ্রেডভিত্তিক বেতনের স্বাভাবিক ক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু মূল বেতন নয়, পদোন্নতির পর বাড়িভাড়া ভাতার হিসাবেও অসংগতি দেখা দিয়েছে। কর্মচারীদের উদাহরণ অনুযায়ী, দশম গ্রেডে ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা মূল বেতনের বিপরীতে ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা ২৪ হাজার ৮৫০ টাকা। কিন্তু নবম গ্রেডে পদোন্নতির পর মূল বেতন ৫১ হাজার টাকা হলেও ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা দাঁড়ায় ২২ হাজার ৯৫০ টাকা।

ফলে মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমে যায় ১ হাজার ৯০০ টাকা। সব মিলিয়ে মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতার যোগফল কমে যায় ৬০০ টাকা। উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের আশঙ্কা, নিয়মের অস্পষ্টতার কারণে একই পদে কর্মরত জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের বেতন সমান হয়ে যেতে পারে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের ধাপের কারণে জুনিয়র কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে বেশি বেতন পেতে পারেন। কর্মচারীদের অভিযোগ, আইবাস++ ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে না পারায় অনেকেই নতুন কাঠামোর সুবিধা থেকে আপাতত বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, বেতন নির্ধারণের নিয়ম, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব পুনরায় পর্যালোচনা করে অসংগতি দূর করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত বেতন কার্যকর করতে এসব জটিলতা দ্রুত সমাধান করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মতে, নিয়মের অস্পষ্টতা দূর করে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে একদিকে যেমন জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতিজনিত বৈষম্য কমবে, অন্যদিকে তেমনি সবার বেতন নির্ধারণ এবং বকেয়া অর্থ পরিশোধও সহজ হবে। তবে নতুন কাঠামোয় যাদের বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হয়নি, তারা ঠিক কবে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ পাবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা জানা যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের নতুন তারিখ ঘোষণা

রোববার আসছে নতুন কাঠামোর সরকারি বেতন, বঞ্চনার মুখে একদল চাকরিজীবী

Update Time : 03:56:53 pm, Tuesday, 27 October 2026

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামী রোববার (১ নভেম্বর) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন ও চার মাসের বকেয়া পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে না পারায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবার বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন না।

তাদের আপাতত পুরোনো বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। নতুন কাঠামোর বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকেই এখনো নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে পারেননি।

ফলে নির্ধারিত সময়ে সবার জন্য বর্ধিত বেতন কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে জটিলতা নিরসনে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করা হলেও গত সোমবার পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। অর্থ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও একাধিক মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে ১ নভেম্বরের আগে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না বলে জানা গেছে।

নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করতে গিয়ে মূল বেতন নির্ধারণ, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়ে বিভিন্ন অসংগতি সামনে এসেছে। কোথাও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে জুনিয়র কর্মকর্তারা বেশি বেতন পাবেন, কোথাও পদোন্নতির পরও কমবে মোট আয়। এসব সমস্যা সমাধানে অর্থ বিভাগে আবেদন করেও সুরাহা পাচ্ছেন না তারা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো এ প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেননি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++-এর কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা। অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও জানাশোনার ঘাটতির কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তবে অর্থসচিব এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ প্রারম্ভিক বেতনে ১১তম গ্রেড এগিয়ে থাকলেও নতুন নিয়মে বেতন নির্ধারণের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১২তম গ্রেডের কর্মচারী বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন।

এতে গ্রেডভিত্তিক বেতনের স্বাভাবিক ক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু মূল বেতন নয়, পদোন্নতির পর বাড়িভাড়া ভাতার হিসাবেও অসংগতি দেখা দিয়েছে। কর্মচারীদের উদাহরণ অনুযায়ী, দশম গ্রেডে ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা মূল বেতনের বিপরীতে ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা ২৪ হাজার ৮৫০ টাকা। কিন্তু নবম গ্রেডে পদোন্নতির পর মূল বেতন ৫১ হাজার টাকা হলেও ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা দাঁড়ায় ২২ হাজার ৯৫০ টাকা।

ফলে মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমে যায় ১ হাজার ৯০০ টাকা। সব মিলিয়ে মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতার যোগফল কমে যায় ৬০০ টাকা। উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের আশঙ্কা, নিয়মের অস্পষ্টতার কারণে একই পদে কর্মরত জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের বেতন সমান হয়ে যেতে পারে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের ধাপের কারণে জুনিয়র কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে বেশি বেতন পেতে পারেন। কর্মচারীদের অভিযোগ, আইবাস++ ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে না পারায় অনেকেই নতুন কাঠামোর সুবিধা থেকে আপাতত বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, বেতন নির্ধারণের নিয়ম, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব পুনরায় পর্যালোচনা করে অসংগতি দূর করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত বেতন কার্যকর করতে এসব জটিলতা দ্রুত সমাধান করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মতে, নিয়মের অস্পষ্টতা দূর করে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে একদিকে যেমন জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতিজনিত বৈষম্য কমবে, অন্যদিকে তেমনি সবার বেতন নির্ধারণ এবং বকেয়া অর্থ পরিশোধও সহজ হবে। তবে নতুন কাঠামোয় যাদের বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হয়নি, তারা ঠিক কবে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ পাবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা জানা যায়নি।