আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৭°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১২%

গাজীপুরে থাপ্পড়কাণ্ড: হুমকি ও মামলার মুখে পরিবারসহ ‘আত্মগোপনে’ বডি বিল্ডার রুমি

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:51:57 pm, Monday, 26 October 2026
  • 33

গাজীপুরে থাপ্পড়কাণ্ড: হুমকি ও মামলার মুখে পরিবারসহ ‘আত্মগোপনে’ বডি বিল্ডার রুমি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

গাজীপুরের টঙ্গীতে ৭ বছরের শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষককে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে বাসা ছেড়েছেন আলোচিত বডি বিল্ডার শাহজালাল রুমি। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বর্তমানে অন্যত্র অবস্থান করছেন। স্বজনদের মতে, একদিকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ এবং অন্যদিকে মাদ্রাসায় হামলা, শিক্ষক মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের কারণেই তিনি পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে গেছেন।

গতকাল রোববার থেকে টঙ্গীতে রুমির বাসায় তালা ঝুলিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপনে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর বন্ধু ও স্বজনেরা জানালেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রুমি ও তাঁর স্বজনেরা। রুমি একাধিকবার ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রুমি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রুমীর বন্ধু ইসমাইল হোসেন রানা বলেন, ‘মাদ্রাসার ঘটনায় বিভিন্ন মাধ্যমে ভিকটিম পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে আমরা কেউ নিরাপদ না। এজন্য রুমী ও স্বজনেরা বাসা থেকে অন্যত্র আত্মগোপনে চলে গেছেন।’

জানা গেছে, রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার মেয়ের বয়স সাত বছর এবং ছেলের চার বছর। মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর পর সেখানে ঘটে যাওয়া অভিযোগের বিচার চাইতে গিয়ে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গড়ায়। এসময় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে থাপ্পড় মারেন রুমী। এছাড়া উত্তেজিত লোকজন ওই শিক্ষককে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ভিকটিমের বাবা শাহ জালাল রুমি বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, রুমি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষক ও অন্যদের মারধর করেন এবং ভাঙচুর চালান। এ ঘটনায় অর্থ ও মুঠোফোন লুটের অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে রুমিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, দুটি মামলাই তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের নতুন তারিখ ঘোষণা

গাজীপুরে থাপ্পড়কাণ্ড: হুমকি ও মামলার মুখে পরিবারসহ ‘আত্মগোপনে’ বডি বিল্ডার রুমি

Update Time : 02:51:57 pm, Monday, 26 October 2026

গাজীপুরের টঙ্গীতে ৭ বছরের শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষককে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে বাসা ছেড়েছেন আলোচিত বডি বিল্ডার শাহজালাল রুমি। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বর্তমানে অন্যত্র অবস্থান করছেন। স্বজনদের মতে, একদিকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ এবং অন্যদিকে মাদ্রাসায় হামলা, শিক্ষক মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের কারণেই তিনি পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে গেছেন।

গতকাল রোববার থেকে টঙ্গীতে রুমির বাসায় তালা ঝুলিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপনে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর বন্ধু ও স্বজনেরা জানালেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রুমি ও তাঁর স্বজনেরা। রুমি একাধিকবার ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রুমি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রুমীর বন্ধু ইসমাইল হোসেন রানা বলেন, ‘মাদ্রাসার ঘটনায় বিভিন্ন মাধ্যমে ভিকটিম পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে আমরা কেউ নিরাপদ না। এজন্য রুমী ও স্বজনেরা বাসা থেকে অন্যত্র আত্মগোপনে চলে গেছেন।’

জানা গেছে, রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার মেয়ের বয়স সাত বছর এবং ছেলের চার বছর। মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর পর সেখানে ঘটে যাওয়া অভিযোগের বিচার চাইতে গিয়ে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গড়ায়। এসময় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে থাপ্পড় মারেন রুমী। এছাড়া উত্তেজিত লোকজন ওই শিক্ষককে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ভিকটিমের বাবা শাহ জালাল রুমি বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, রুমি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষক ও অন্যদের মারধর করেন এবং ভাঙচুর চালান। এ ঘটনায় অর্থ ও মুঠোফোন লুটের অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে রুমিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, দুটি মামলাই তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।