আজ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

মানিক পশারীর দাফন নিয়ে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে তাসনিম জারার প্রশ্ন

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:26:08 pm, Monday, 26 October 2026
  • 21

মানিক পশারীর দাফন নিয়ে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে তাসনিম জারার প্রশ্ন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে বাধা ও উত্তেজনার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

একই সঙ্গে মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ও শোকাহত পরিবারের প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমবার কবর খোঁড়া হলেও স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন। পরে গভীর রাতে মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় আবার কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।

শনিবার রাত ২টার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা তাকে সমাহিত করেন। মানিক পশারী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তাসনিম জারা দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, সাধারণত কোনো মানুষের মৃত্যু হলে স্থানীয় বাসিন্দারাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কবর খোঁড়া ও দাফনের কাজে এগিয়ে আসেন। কিন্তু মানিক পশারীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দাফন করতে না দেওয়ার ঘোষণা, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের কারণে পরিবারকে দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, মানিক পশারীর মেয়ে সীমু আক্তার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রথমে খোঁড়া কবরটি কিছু লোক এসে ভরাট করে দেয়। পরে ফুফুদের নিয়ে তাকে আবার কবর খুঁড়তে হয়। পরিস্থিতির কারণে অন্য কাউকে কবর খোঁড়ার কাজে পাওয়া যায়নি বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন জারা। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের খোঁড়া কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়।

প্রশাসনের লোকজন ছাড়া পরিবারের বাইরের তেমন কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি। তাসনিম জারা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের এক সহকারী সেক্রেটারি তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে গার্ড অব অনার দিতে বাধা দেওয়া এবং পিরোজপুরে দাফন করতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জারার মতে, কেউ মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইলে তা যাচাই করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালতের মতো যথাযথ ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু দাফন আটকে রেখে কিংবা জনসমক্ষে ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের বিতর্কের নিষ্পত্তি করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতা বলেছেন, তাদের দলের নেতারা লাশ নিয়ে রাজনীতি করেন না।

এই বক্তব্যের সঙ্গে আগের অবস্থানের অসংগতি তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন জারা। নিজের পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, বাংলাদেশে জানাজার আগে মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা সাধারণত সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। মানুষও মৃত্যুর পর ব্যক্তিগত বিরোধ ও অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষমাশীল হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মানিক পশারীর পরিবার সেই স্বাভাবিক সামাজিক প্রক্রিয়ার সুযোগটুকুও পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জারা আরও প্রশ্ন তোলেন, একজন মানুষ নিজের গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত হবেন কি না, তা নির্ধারণের অধিকার কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কে দিয়েছে। তার মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতা বা প্রভাবের ভিত্তিতে কারও দাফন আটকে দেওয়া অন্যায়। পোস্টে তিনি ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার বক্তব্য, যে দলের নেতাকর্মীরা একসময় রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন, তারাই এখন অন্যদের মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়, রাষ্ট্রীয় সম্মান কিংবা দাফনের স্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে চাইছেন।

সবশেষে তাসনিম জারা জামায়াতের ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বক্তব্যের সঙ্গে মানিক পশারীর দাফন ঘিরে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতির তুলনা করেন। বিরোধী অবস্থানে থেকেও যদি একটি পরিবারের শেষ বিদায়ের অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বেশি ক্ষমতা পেলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

এল ক্লাসিকোতে বার্সাকে হারিয়ে এমবাপ্পের ‘সেঞ্চুরি’, ছাড়িয়ে গেলেন মেসিকে

মানিক পশারীর দাফন নিয়ে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে তাসনিম জারার প্রশ্ন

Update Time : 12:26:08 pm, Monday, 26 October 2026

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে বাধা ও উত্তেজনার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

একই সঙ্গে মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ও শোকাহত পরিবারের প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমবার কবর খোঁড়া হলেও স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন। পরে গভীর রাতে মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় আবার কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।

শনিবার রাত ২টার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা তাকে সমাহিত করেন। মানিক পশারী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তাসনিম জারা দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, সাধারণত কোনো মানুষের মৃত্যু হলে স্থানীয় বাসিন্দারাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কবর খোঁড়া ও দাফনের কাজে এগিয়ে আসেন। কিন্তু মানিক পশারীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দাফন করতে না দেওয়ার ঘোষণা, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের কারণে পরিবারকে দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, মানিক পশারীর মেয়ে সীমু আক্তার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রথমে খোঁড়া কবরটি কিছু লোক এসে ভরাট করে দেয়। পরে ফুফুদের নিয়ে তাকে আবার কবর খুঁড়তে হয়। পরিস্থিতির কারণে অন্য কাউকে কবর খোঁড়ার কাজে পাওয়া যায়নি বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন জারা। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের খোঁড়া কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়।

প্রশাসনের লোকজন ছাড়া পরিবারের বাইরের তেমন কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি। তাসনিম জারা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের এক সহকারী সেক্রেটারি তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে গার্ড অব অনার দিতে বাধা দেওয়া এবং পিরোজপুরে দাফন করতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জারার মতে, কেউ মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইলে তা যাচাই করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালতের মতো যথাযথ ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু দাফন আটকে রেখে কিংবা জনসমক্ষে ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের বিতর্কের নিষ্পত্তি করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতা বলেছেন, তাদের দলের নেতারা লাশ নিয়ে রাজনীতি করেন না।

এই বক্তব্যের সঙ্গে আগের অবস্থানের অসংগতি তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন জারা। নিজের পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, বাংলাদেশে জানাজার আগে মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা সাধারণত সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। মানুষও মৃত্যুর পর ব্যক্তিগত বিরোধ ও অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষমাশীল হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মানিক পশারীর পরিবার সেই স্বাভাবিক সামাজিক প্রক্রিয়ার সুযোগটুকুও পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জারা আরও প্রশ্ন তোলেন, একজন মানুষ নিজের গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত হবেন কি না, তা নির্ধারণের অধিকার কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কে দিয়েছে। তার মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতা বা প্রভাবের ভিত্তিতে কারও দাফন আটকে দেওয়া অন্যায়। পোস্টে তিনি ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার বক্তব্য, যে দলের নেতাকর্মীরা একসময় রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন, তারাই এখন অন্যদের মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়, রাষ্ট্রীয় সম্মান কিংবা দাফনের স্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে চাইছেন।

সবশেষে তাসনিম জারা জামায়াতের ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বক্তব্যের সঙ্গে মানিক পশারীর দাফন ঘিরে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতির তুলনা করেন। বিরোধী অবস্থানে থেকেও যদি একটি পরিবারের শেষ বিদায়ের অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বেশি ক্ষমতা পেলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।