আজ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:54:11 am, Tuesday, 20 October 2026
  • 23

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরু ও আঁকাবাঁকা পথ, মোড়ে মোড়ে দৃষ্টিসীমানার বাইরে থাকা বিপজ্জনক বাঁক, মহাসড়ক দখল করে গড়ে ওঠা হাটবাজার এবং অবৈধ যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে এ সড়কে বেড়েই চলেছে প্রাণহানি।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ রুটে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বাড়লেও সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ এখনো প্রস্তাবনার কাগজে আটকে রয়েছে। বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে বরিশাল বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় দুই হাজার চারশ মানুষ নিহত হয়েছেন। যার একটি বড় অংশ ঘটেছে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে। ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২১ সালে ৫২৪টি দুর্ঘটনায় ৫৮৭, ২০২২ সালে ৪৩০টি দুর্ঘটনায় ৫১১, ২০২৩ সালে ৪৩৬টি দুর্ঘটনায় ৪০০, ২০২৪ সালে ৪৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৫৭ ও গত বছর ৪৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪২১ জন নিহত হয়েছেন।

ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান জানান, পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর ঢাকা থেকে আসা বাসগুলো মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত মহাসড়কে প্রবেশ ও চালকরা আগের গতি বজায় রেখে গাড়ি চালানোর ফলে বাঁকগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বাঁক প্রায় ইউ-আকৃতির এবং পরিবহন সংস্থাগুলোর প্রতিযোগিতা ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বিপদ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সওজর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদ খান জানান, ১৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কের প্রায় ৭০টি বাঁক এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ বশির মৃধা জানান, ১৯৭০-এর দশকে রাস্তাটি ১২ ফুট চওড়া ছিল এবং পাঁচ দশকে তা প্রসারিত হয়ে মাত্র ২৪ ফুট হয়েছে, অথচ যানবাহনের সংখ্যা শত শত গুণ বেড়ে গেছে। তিনি পটুয়াখালীর সাখারিয়া থেকে বরগুনার আমতলীর বান্দরা পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার অংশকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

যেখানে অন্তত ১৭টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। বাসচালক আশরাফ আলী খান জানান, খায়রাবাদ ব্রিজ, দাপদাপিয়া, নলছিটি জিরো পয়েন্ট, লক্ষ্মীপাশা, বোয়ালিয়া, ভরপাশা, চরামদ্দি, লেবুখালী কৃষি গবেষণা, ধুলু গাজীর মোড়, সাখারিয়া, কেওড়াবুনিয়া, মহিষকাটা, আমড়াগাছিয়া, খুরিয়া ফেরিঘাট, মানিকঝুরি ও বান্দরা এলাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই এ সড়কে যানবাহন চাপ বেড়েছে।

সওজের টোল প্লাজার তথ্য অনুযায়ী, সেতু খোলার আগে ভূরঘাটা-কুয়াকাটা অংশে প্রতিদিন ১৬ হাজার থেকে ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে ২৫-৩০ হাজারে এবং ঈদসহ অন্যান্য ছুটির দিনে তা আরও বৃদ্ধি পায়। পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, কুয়াকাটার মহিপুর ও আলিপুরের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কারণেও যানবাহন চলাচল বহুলাংশে বেড়েছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল আক্তার লিমন জানান, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোতে সতর্কীকরণ চিহ্ন বসানো হলেও চালকদের সচেতনতার অভাব ও বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। তিনি আরও জানান, মহাসড়কটি ২৪-৩৪ ফুট প্রশস্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সম্প্রসারণের সময় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো যতদূর সম্ভব সোজা করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আজ শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী, চলছে নানা আয়োজন

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে

Update Time : 07:54:11 am, Tuesday, 20 October 2026

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরু ও আঁকাবাঁকা পথ, মোড়ে মোড়ে দৃষ্টিসীমানার বাইরে থাকা বিপজ্জনক বাঁক, মহাসড়ক দখল করে গড়ে ওঠা হাটবাজার এবং অবৈধ যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে এ সড়কে বেড়েই চলেছে প্রাণহানি।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ রুটে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বাড়লেও সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ এখনো প্রস্তাবনার কাগজে আটকে রয়েছে। বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে বরিশাল বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় দুই হাজার চারশ মানুষ নিহত হয়েছেন। যার একটি বড় অংশ ঘটেছে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে। ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২১ সালে ৫২৪টি দুর্ঘটনায় ৫৮৭, ২০২২ সালে ৪৩০টি দুর্ঘটনায় ৫১১, ২০২৩ সালে ৪৩৬টি দুর্ঘটনায় ৪০০, ২০২৪ সালে ৪৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৫৭ ও গত বছর ৪৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪২১ জন নিহত হয়েছেন।

ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান জানান, পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর ঢাকা থেকে আসা বাসগুলো মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত মহাসড়কে প্রবেশ ও চালকরা আগের গতি বজায় রেখে গাড়ি চালানোর ফলে বাঁকগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বাঁক প্রায় ইউ-আকৃতির এবং পরিবহন সংস্থাগুলোর প্রতিযোগিতা ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বিপদ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সওজর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদ খান জানান, ১৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কের প্রায় ৭০টি বাঁক এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ বশির মৃধা জানান, ১৯৭০-এর দশকে রাস্তাটি ১২ ফুট চওড়া ছিল এবং পাঁচ দশকে তা প্রসারিত হয়ে মাত্র ২৪ ফুট হয়েছে, অথচ যানবাহনের সংখ্যা শত শত গুণ বেড়ে গেছে। তিনি পটুয়াখালীর সাখারিয়া থেকে বরগুনার আমতলীর বান্দরা পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার অংশকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

যেখানে অন্তত ১৭টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। বাসচালক আশরাফ আলী খান জানান, খায়রাবাদ ব্রিজ, দাপদাপিয়া, নলছিটি জিরো পয়েন্ট, লক্ষ্মীপাশা, বোয়ালিয়া, ভরপাশা, চরামদ্দি, লেবুখালী কৃষি গবেষণা, ধুলু গাজীর মোড়, সাখারিয়া, কেওড়াবুনিয়া, মহিষকাটা, আমড়াগাছিয়া, খুরিয়া ফেরিঘাট, মানিকঝুরি ও বান্দরা এলাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই এ সড়কে যানবাহন চাপ বেড়েছে।

সওজের টোল প্লাজার তথ্য অনুযায়ী, সেতু খোলার আগে ভূরঘাটা-কুয়াকাটা অংশে প্রতিদিন ১৬ হাজার থেকে ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে ২৫-৩০ হাজারে এবং ঈদসহ অন্যান্য ছুটির দিনে তা আরও বৃদ্ধি পায়। পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, কুয়াকাটার মহিপুর ও আলিপুরের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কারণেও যানবাহন চলাচল বহুলাংশে বেড়েছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল আক্তার লিমন জানান, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোতে সতর্কীকরণ চিহ্ন বসানো হলেও চালকদের সচেতনতার অভাব ও বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। তিনি আরও জানান, মহাসড়কটি ২৪-৩৪ ফুট প্রশস্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সম্প্রসারণের সময় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো যতদূর সম্ভব সোজা করা হবে।