আজ বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২১%

ইবিতে পরীক্ষার খাতা হারানোর ঘটনায় পিওনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:38:14 pm, Wednesday, 14 October 2026
  • 15

ইবিতে পরীক্ষার খাতা হারানোর ঘটনায় পিওনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা ২০২৫-এর ‘২১০৭’ নম্বর কোর্সের ২য় পরীক্ষকের উত্তরপত্র খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় বিভাগের দৈনিক মজুরিভিত্তিক পিয়নকে বিভাগে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে প্রশাসন।

এছাড়াও আরও দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে খাতা হারিয়ে ফেলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের কোন সংশ্লিষ্টতা পায়নি তদন্ত কমিটি। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে প্রশাসনের গৃহীত ৩টি সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানানো হয়।

প্রশাসনের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ২১০৭ নম্বর কোর্সের ১ম পরীক্ষকের প্রদত্ত নম্বরকে ২য় পরীক্ষকের নম্বর হিসেবে গ্রহণ করে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিতে নিয়োজিত পিয়ন জাবেদকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভাগের পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক ও কর্মচারীকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে বিভাগে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া পিয়ন জাবেদ আলী গণমাধ্যমে জানান, শিক্ষকদের নামে বরাদ্দ করা পরীক্ষার উত্তরপত্র আনা-নেওয়াসহ বিভাগের অধিকাংশ কাজই তিনি করতেন। আনুমানিক তিন মাস আগে পুরোনো কাগজপত্রের সঙ্গে তিনি ভুলবশত উত্তরপত্র গুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। এর কিছুদিন পর উত্তরপত্রগুলো খোঁজাখুঁজি শুরু হলে তিনি সেগুলো বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জানান।

প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দ বলেন, বিভাগ থেকে খাতা হারিয়ে ফেলার ঘটনায় আমরা প্রতিটি বিষয় যাচাই-বাছাই করেই প্রতিবেদন দিয়েছি। আমরা কোন কপিও রাখিনি। এব্যাপারে আপনারা প্রশাসনের কাছ থেকে শুনলে ভালো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পরীক্ষার খাতা হারানোর ঘটনায় ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন এবং তাদের প্রতিবেদনে ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ওই বিভাগের পিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী কোন কর্মচারী না, তার অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, ইবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার ২১০৭ নম্বর কোর্সের (History of the Modern Europe Till 1848 A.C.) ৬০টির বেশি খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ মাস ধরে আটকে ছিলো শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ।

২০ মে মূল্যায়ন শেষে খাতাগুলো বিভাগে জমা দেন অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক ড. শাহাবুল আলম। কোর্সের বহিরাগত পরীক্ষক হিসেবে মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষার খাতা হাতে না পেলেও খাতা হারিয়ে ফেলার দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের উপর। খাতা হারানোর ঘটনায় প্রথমে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাবুল আলমকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সেই কমিটির প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে পাঠানোর পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দকে আহ্বায়ক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে সদস্য এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কামরুজ্জামানকে সদস্য সচিব করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির প্রতিবেদনে ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয় ইবি প্রশাসন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছে বিজিবি

ইবিতে পরীক্ষার খাতা হারানোর ঘটনায় পিওনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

Update Time : 12:38:14 pm, Wednesday, 14 October 2026

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা ২০২৫-এর ‘২১০৭’ নম্বর কোর্সের ২য় পরীক্ষকের উত্তরপত্র খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় বিভাগের দৈনিক মজুরিভিত্তিক পিয়নকে বিভাগে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে প্রশাসন।

এছাড়াও আরও দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে খাতা হারিয়ে ফেলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের কোন সংশ্লিষ্টতা পায়নি তদন্ত কমিটি। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে প্রশাসনের গৃহীত ৩টি সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানানো হয়।

প্রশাসনের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ২১০৭ নম্বর কোর্সের ১ম পরীক্ষকের প্রদত্ত নম্বরকে ২য় পরীক্ষকের নম্বর হিসেবে গ্রহণ করে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিতে নিয়োজিত পিয়ন জাবেদকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভাগের পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক ও কর্মচারীকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে বিভাগে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া পিয়ন জাবেদ আলী গণমাধ্যমে জানান, শিক্ষকদের নামে বরাদ্দ করা পরীক্ষার উত্তরপত্র আনা-নেওয়াসহ বিভাগের অধিকাংশ কাজই তিনি করতেন। আনুমানিক তিন মাস আগে পুরোনো কাগজপত্রের সঙ্গে তিনি ভুলবশত উত্তরপত্র গুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। এর কিছুদিন পর উত্তরপত্রগুলো খোঁজাখুঁজি শুরু হলে তিনি সেগুলো বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জানান।

প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দ বলেন, বিভাগ থেকে খাতা হারিয়ে ফেলার ঘটনায় আমরা প্রতিটি বিষয় যাচাই-বাছাই করেই প্রতিবেদন দিয়েছি। আমরা কোন কপিও রাখিনি। এব্যাপারে আপনারা প্রশাসনের কাছ থেকে শুনলে ভালো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পরীক্ষার খাতা হারানোর ঘটনায় ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন এবং তাদের প্রতিবেদনে ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ওই বিভাগের পিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী কোন কর্মচারী না, তার অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, ইবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার ২১০৭ নম্বর কোর্সের (History of the Modern Europe Till 1848 A.C.) ৬০টির বেশি খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ মাস ধরে আটকে ছিলো শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ।

২০ মে মূল্যায়ন শেষে খাতাগুলো বিভাগে জমা দেন অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক ড. শাহাবুল আলম। কোর্সের বহিরাগত পরীক্ষক হিসেবে মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষার খাতা হাতে না পেলেও খাতা হারিয়ে ফেলার দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের উপর। খাতা হারানোর ঘটনায় প্রথমে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাবুল আলমকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সেই কমিটির প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে পাঠানোর পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দকে আহ্বায়ক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে সদস্য এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কামরুজ্জামানকে সদস্য সচিব করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির প্রতিবেদনে ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয় ইবি প্রশাসন।