আজ সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬%

বাগেরহাটে অবৈধ ড্রেজারে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে গ্রাম, রাস্তা ও ফসলি জমি

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:19:36 pm, Monday, 12 October 2026
  • 14

বাগেরহাটে অবৈধ ড্রেজারে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে গ্রাম, রাস্তা ও ফসলি জমি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় একটি চক্র প্রতিদিন ভূগর্ভ থেকে হাজার হাজার ঘনফুট বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

এতে চিতলমারীর উপজেলার গ্রামগুলো তলাশূন্য হয়ে পড়ছে। যেকোনো সময় মাটি দেবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। তারা অবৈধ বালু কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগে করে বলেন, দুটি পাইপ বালু তুলতে মাটির নিচে ডাবাতে থাকে। একটি পাইপ দিয়ে পানির ফ্লো মাটির তলদেশের শুকনো বেলেমাটি পানি দিয়ে অনবরতভাবে ভেজাতে থাকে এবং অন্য পাইপ দিয়ে ভূগর্ভস্থ এই পানি মেশানো বেলেমাটি পাইপের মাধ্যমে তোলা হয়। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ড্রেজারকে স্থানীয়রা ‘আত্মঘাতী মেশিন’ বলে অবহিত করেন।

ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার ঘনফুট ভূগর্ভস্থ বেলেমাটি তোলা হয়ে থাকে। চিতলমারীতে এ রকম প্রায় ১৫ ডেজার মেশিন রয়েছে। ড্রেজার মেশিন দিয়ে এ উপজেলার টেকেরবাজার, পাঙ্গাশিয়া, দরিউমাজুড়ি, চরাবানিয়ারী উত্তরপাড়া, শান্তিখালী উত্তরপাড়া, কলাতলা, চরবড়বাড়িয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে দিনেরাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে সরকারি রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে না, ফসলি জমিও নষ্ট হচ্ছে।

এলাকাবাসীরা বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন নীবর ভূমিকা পালন করছে। যত্রতত্র এই বালু উত্তোলন প্রতিরোধ করতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ বাস্তবায়ন করার জন্য প্রসাশনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। সাংবাদিক ও পরিবেশবিদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ভূগর্ভস্থ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মাটির স্বাভাবিক গঠন দুর্বল হয়ে ভূমিধস ও মাটি দেবে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এতে বসতবাড়ি, সড়ক, ফসলি জমি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জননিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, শান্তিখালী এলাকার অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তবে উপজেলার অন্য এলাকাগুলোতে বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমার জানা নেই।

ভূগর্ভ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নরসিংদীতে পিস্তল ও গুলিসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

বাগেরহাটে অবৈধ ড্রেজারে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে গ্রাম, রাস্তা ও ফসলি জমি

Update Time : 01:19:36 pm, Monday, 12 October 2026

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় একটি চক্র প্রতিদিন ভূগর্ভ থেকে হাজার হাজার ঘনফুট বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

এতে চিতলমারীর উপজেলার গ্রামগুলো তলাশূন্য হয়ে পড়ছে। যেকোনো সময় মাটি দেবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। তারা অবৈধ বালু কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগে করে বলেন, দুটি পাইপ বালু তুলতে মাটির নিচে ডাবাতে থাকে। একটি পাইপ দিয়ে পানির ফ্লো মাটির তলদেশের শুকনো বেলেমাটি পানি দিয়ে অনবরতভাবে ভেজাতে থাকে এবং অন্য পাইপ দিয়ে ভূগর্ভস্থ এই পানি মেশানো বেলেমাটি পাইপের মাধ্যমে তোলা হয়। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ড্রেজারকে স্থানীয়রা ‘আত্মঘাতী মেশিন’ বলে অবহিত করেন।

ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার ঘনফুট ভূগর্ভস্থ বেলেমাটি তোলা হয়ে থাকে। চিতলমারীতে এ রকম প্রায় ১৫ ডেজার মেশিন রয়েছে। ড্রেজার মেশিন দিয়ে এ উপজেলার টেকেরবাজার, পাঙ্গাশিয়া, দরিউমাজুড়ি, চরাবানিয়ারী উত্তরপাড়া, শান্তিখালী উত্তরপাড়া, কলাতলা, চরবড়বাড়িয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে দিনেরাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে সরকারি রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে না, ফসলি জমিও নষ্ট হচ্ছে।

এলাকাবাসীরা বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন নীবর ভূমিকা পালন করছে। যত্রতত্র এই বালু উত্তোলন প্রতিরোধ করতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ বাস্তবায়ন করার জন্য প্রসাশনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। সাংবাদিক ও পরিবেশবিদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ভূগর্ভস্থ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মাটির স্বাভাবিক গঠন দুর্বল হয়ে ভূমিধস ও মাটি দেবে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এতে বসতবাড়ি, সড়ক, ফসলি জমি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জননিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, শান্তিখালী এলাকার অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তবে উপজেলার অন্য এলাকাগুলোতে বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমার জানা নেই।

ভূগর্ভ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।