আজ বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

আড়াই বছর পর মায়ের কোলে ফিরল বিসান, তবে কাটেনি যুদ্ধের আতঙ্ক

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:11:12 pm, Thursday, 8 October 2026
  • 13
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জন্মের পরপরই যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল ছোট্ট বিসানের স্বাভাবিক শৈশব। ইনকিউবেটরে করেই তাকে গাজা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মিসরে। প্রায় আড়াই বছর পর পরিবারের কাছে ফিরেছে সে। কিন্তু ফিরে এসেই মাকে চিনতে পারেনি বিসান। যুদ্ধের ভয় আর অনিশ্চয়তায় এখন ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে মা-মেয়ের সেই হারানো বন্ধন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এতে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে, গাজায় যুদ্ধ শুরুর দুই সপ্তাহের মাথায় উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় তাদের বাড়িতে হামলা হয়। এতে নিহত হয় বিসানের এক বোন। গুরুতর আহত হন অন্তঃসত্ত্বা মা সুন্দুস আল-কুর্দ। সন্তানের জীবন বাঁচাতে নির্ধারিত সময়ের ৬ সপ্তাহ আগেই জন্ম হয় বিসানের।

জন্মের কয়েক সপ্তাহ পরই ইনকিউবেটরে কোরে অ্যাম্বুলেন্সে মিসরে পাঠানো হয় তাকে। গাজার হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেয়া ২৯ অপরিণত নবজাতকের একজন ছিল বিসান।

পরে বিসানের চিকিৎসা চলে মিসরে হাসপাতালে। আর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় থাকতেন সুন্দুস। অবশেষে গত মার্চে, জাতিসংঘের সহায়তায় বিসানসহ ১১ শিশুকে গাজায় ফিরিয়ে আনা হয়।

বিসানের মা সুন্দুস আল-কুর্দ বলেন, বিসান গাজায় ফেরার পর যে-ই তার কাছে আসত, খেলত বা আদর করত, তাকেই মা বলে ডাকত। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হলে সে বুঝতে শুরু করে, তার আসল মা কে। এখন আমিই তাকে খাওয়াই, পোশাক বদলে দিই, চুল আঁচড়ে দিই, তার সঙ্গে খেলি।

তবে মায়ের কাছে ফিরে এলেও বিসানের জীবন এখন আর আগের মতো নয়। মিসরে তার প্রয়োজনীয় সবকিছু ছিল। আর গাজায় তাদের ঠিকানা একটি তাঁবু। খাবার আর ঘুমের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে বোমার শব্দ আর আতঙ্ক।

বিসানের মা আরও বলেন, মিসরে বিসানের জীবন ছিল একরকম। সেখানে তার সব প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা ছিল। আর এখানে এসে প্রথমবার বিস্ফোরণের শব্দ শুনে কয়েক মিনিটের জন্য একেবারে চুপ হয়ে গিয়েছিল। এখনো কাছাকাছি বেলুন ফাটলেও ভয় পেয়ে যায় সে।

বিসানের মতো গাজার আরও অনেক শিশুর শৈশব আটকে আছে যুদ্ধের অনিশ্চয়তায়। অনেক শিশুকে স্কুলে যাওয়ার বদলে খাবার ও পানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এতে তাদের মানসিক বিকাশ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আশা পানিসম্পদমন্ত্রীর

আড়াই বছর পর মায়ের কোলে ফিরল বিসান, তবে কাটেনি যুদ্ধের আতঙ্ক

Update Time : 01:11:12 pm, Thursday, 8 October 2026

জন্মের পরপরই যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল ছোট্ট বিসানের স্বাভাবিক শৈশব। ইনকিউবেটরে করেই তাকে গাজা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মিসরে। প্রায় আড়াই বছর পর পরিবারের কাছে ফিরেছে সে। কিন্তু ফিরে এসেই মাকে চিনতে পারেনি বিসান। যুদ্ধের ভয় আর অনিশ্চয়তায় এখন ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে মা-মেয়ের সেই হারানো বন্ধন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এতে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে, গাজায় যুদ্ধ শুরুর দুই সপ্তাহের মাথায় উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় তাদের বাড়িতে হামলা হয়। এতে নিহত হয় বিসানের এক বোন। গুরুতর আহত হন অন্তঃসত্ত্বা মা সুন্দুস আল-কুর্দ। সন্তানের জীবন বাঁচাতে নির্ধারিত সময়ের ৬ সপ্তাহ আগেই জন্ম হয় বিসানের।

জন্মের কয়েক সপ্তাহ পরই ইনকিউবেটরে কোরে অ্যাম্বুলেন্সে মিসরে পাঠানো হয় তাকে। গাজার হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেয়া ২৯ অপরিণত নবজাতকের একজন ছিল বিসান।

পরে বিসানের চিকিৎসা চলে মিসরে হাসপাতালে। আর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় থাকতেন সুন্দুস। অবশেষে গত মার্চে, জাতিসংঘের সহায়তায় বিসানসহ ১১ শিশুকে গাজায় ফিরিয়ে আনা হয়।

বিসানের মা সুন্দুস আল-কুর্দ বলেন, বিসান গাজায় ফেরার পর যে-ই তার কাছে আসত, খেলত বা আদর করত, তাকেই মা বলে ডাকত। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হলে সে বুঝতে শুরু করে, তার আসল মা কে। এখন আমিই তাকে খাওয়াই, পোশাক বদলে দিই, চুল আঁচড়ে দিই, তার সঙ্গে খেলি।

তবে মায়ের কাছে ফিরে এলেও বিসানের জীবন এখন আর আগের মতো নয়। মিসরে তার প্রয়োজনীয় সবকিছু ছিল। আর গাজায় তাদের ঠিকানা একটি তাঁবু। খাবার আর ঘুমের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে বোমার শব্দ আর আতঙ্ক।

বিসানের মা আরও বলেন, মিসরে বিসানের জীবন ছিল একরকম। সেখানে তার সব প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা ছিল। আর এখানে এসে প্রথমবার বিস্ফোরণের শব্দ শুনে কয়েক মিনিটের জন্য একেবারে চুপ হয়ে গিয়েছিল। এখনো কাছাকাছি বেলুন ফাটলেও ভয় পেয়ে যায় সে।

বিসানের মতো গাজার আরও অনেক শিশুর শৈশব আটকে আছে যুদ্ধের অনিশ্চয়তায়। অনেক শিশুকে স্কুলে যাওয়ার বদলে খাবার ও পানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এতে তাদের মানসিক বিকাশ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।