নানা আলোচনা, সমালোচনা ও প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মাঝেই চট্টগ্রাম বন্দরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বিদেশি অপারেটরকে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এ বিষয়ে ১৫ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে সরকার। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।
২০০৭ সালে নির্মাণের পরের বছরই নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ দেখায় চারটি আন্তর্জাতিক অপারেটর। তবে, দায়িত্ব পায় দেশীয় অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে আবুধাবিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে সমঝোতা সইয়ের পর ২০২৩ সালে এ টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তি নিয়ে অনেকটা এগোলেও শেষ মুহুর্তে তা থমকে যায়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১ অক্টোবর ১৫ বছরের রেয়াতি চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় একনেক।
চুক্তি অনুযায়ী, বন্দর ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মাশুল নেবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। বিনিময়ে এককালীন অর্থ ও কনটেইনারপ্রতি নির্ধারিত মাশুল দেবে। চুক্তির প্রাথমিক ব্যয় ২০৫ মিলিয়ন ডলার।
বন্দর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এই চুক্তি ইতিবাচক। তবে বিতর্ক ঠেকাতে সব তথ্য জানানো উচিত।
বন্দর বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ জাফর আলম বলেন, ‘১০০ কোটি টাকা প্রতিবছর ১০ শতাংশ বৃদ্ধিতে আমরা চুক্তি করলাম ১৫ বছরের, এটা একটা কথা। কিন্তু আমি কম করছি কি না…; যেহেতু আমি চুক্তি সম্পর্কে জানি না, সেহেতু চুক্তি জানানোর বিষয়টা এখানে বড় মূখ্য ভুমিকা পালন করবে। যার ফলে কিন্তু বিরোধীতা আসছে।’
এদিকে বিদেশি অপারেটর বিরোধী শ্রমিক-কর্মচারীরা বলছেন, চুক্তির ফলে কর্মসংস্থান ও আয় কমা ছাড়াও ঝুঁকিতে পড়বে জাতীয় নিরাপত্তা।
চট্টগ্রাম বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘের সভাপতি হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই চুক্তির বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে কোনোভাবে আমরা বিপি ওয়াল্ডের মতো মাফিয়াদের ছেড়ে দিতে পারি না।’
বন্দর রক্ষা পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বর্তমানে যারা বন্দরকে চালাতে চায়, তারা যে অফার করেছে তার চেয়ে বেশি আমরা হ্যান্ডেলিং করছি। আমরা অদক্ষ হলে এটা নিশ্চয়ই করতে পারতাম না।’
গত অর্থবছর এনসিটিতে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানামা করে। যা চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ।





















