আজ বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

রাজনীতি ও কূটনীতিতে আলোকচিত্রের প্রভাব: নেপথ্যের সমীকরণ

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:41:59 pm, Thursday, 8 October 2026
  • 13
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজনীতিতে প্রতিকৃতি বা আলোকচিত্র কেবল ফ্রেমবন্দি কোনো স্থিরচিত্র নয়। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে এটি রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য, পারস্পরিক সুসম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে কাজ করে।

কিন্তু সেই একই আলোকচিত্র যখন কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দেউলিয়াত্ব এবং করুণ পতনের রূপরেখাকে উলঙ্গ করে দেয়, তখন তা তাদের জন্য হয়ে ওঠে তীব্র মানসিক দহন ও আতঙ্কের কারণ। সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশের পর স্বৈরাচারী পতিত শক্তি ও তাদের দোসরদের মনোজগতে যে অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হয়েছে, তা মূলত তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব সঙ্কটেরই বহিঃপ্রকাশ।

হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ক্যামেরায় তোলা সেই ঐতিহাসিক ছবি দেখে তারা কেন জ্বলছে, আর কেনই বা সেটিকে মিথ্যা প্রমাণ করতে তারা আধা-জল খেয়ে মাঠে নেমেছে—তা বিশ্লেষণ করলেই তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বাস্তব চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফল কূটনৈতিক সফর সমাপ্ত করে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে এসেছেন।

অধিবেশনে যোগদানের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি কাটিয়েছেন বিশ্বনেতাদের সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনারে। সফরের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে নৈশ ভোজের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরকারি বাসভবনে যে প্রোটোকল ও নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকে, সেখানে বাইরের কোনো ক্যামেরা বা ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তোলার ন্যূনতম সুযোগ নেই।

প্রেসিডেন্টের নিজস্ব সরকারি ফটোগ্রাফারের মাধ্যমিক ছবি তোলাই একমাত্র নিয়ম। সেই প্রটোকল অনুযায়ীই ছবিটি তোলা হয় এবং সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার প্রায় এক সপ্তাহ পর হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি ছবিটি উপহার হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। একই সাথে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ভেরিফাইড ফেসবুক পেজেও ছবিটি মহাসমারোহে প্রকাশ করা হয়।

একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানের এই সম্মানজনক কূটনৈতিক সাক্ষাৎ ও আলোকচিত্র যেকোনো দেশের জন্যই পরম গৌরব ও মর্যাদার। মার্কিন দূতাবাস নিজেই যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে, তার চেয়ে বড় ও পরিষ্কার প্রমাণ আর কী হতে পারে? তা সত্ত্বেও, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসররা যখন এই ছবিটিকে ‘ফেক’ বা ‘এডিটেড’ প্রমাণের জন্য অপপ্রচারের নিকৃষ্ট প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে, তখন তা দেখে অনুকম্পা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন যথার্থই বলেছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, শেয়ার বা ভিউ পাওয়ার অশুভ প্রতিযোগিতা এবং সত্যকে আড়াল করে মিথ্যাচার করা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না। ” যা সত্য ও ধ্রুব, তা স্পষ্ট করার নতুন কিছু নেই; কিন্তু পলাতক রাজনৈতিক অপশক্তির গায়ে কেন আগুন জ্বলছে, তার উত্তর লুকিয়ে আছে এই ছবির কূটনৈতিক গুরুত্ব ও মর্যাদার মধ্যে।

একই সময়ে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে দ্য সেন্ট রেজিস-এ আয়োজিত মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী শিশু কল্যাণ বিষয়ক উদ্যোগ “ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার”-এর বিশেষ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সহধর্মিণীদের নিয়ে আয়োজিত এই বিশেষ হাই-লেভেল ফোরামে মার্কিন ফার্স্ট লেডির পাশে ডা. জুবাইদা রহমানের উপস্থিতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে দেশের সরকারপ্রধান এবং তাঁর সহধর্মিণী উভয়ই একই সাথে বৈশ্বিক মঞ্চে বিশ্বনেতাদের মুখোমুখি বসে আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে কথা বলার মতো পাণ্ডিত্য, ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রেখেছেন। জিয়া পরিবারের এই অনন্য নজির স্থাপনই মূলত অপশক্তির হৃদয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। কারণ, তারা যাদের চিরতরে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, সেই পরিবারই আজ আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ও পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিশ্বের শীর্ষ পরাশক্তিগুলোর সাথে সমানে সমান টেবিলে বসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে।

এখানেই প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে আসে অতীতের এক করুণ ও হাস্যকর স্মৃতির কথা। দেশের মানুষ এখনো ভুলে যায়নি ২০২৩ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের সেই ঘটনাটি। তৎকালীন ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনা এবং তাঁর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে একটি ‘সেলফি’ তুলে তা নিয়ে দেশজুড়ে কী পরিমাণের সস্তা ঢাক-ঢোল পিটিয়েছিলেন!

একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের করিডোরে বা হাঁটার পথে বা ভিড়ের মধ্যে যে কেউ যেকোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পাশে দাঁড়িয়ে একটি মোবাইল সেলফি তুলে নিতেই পারেন—কূটনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় বিচারে যার মূল্য শূন্যের কোঠায়। ভিড়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ক্যাজুয়াল সেলফিতে শেখ হাসিনা ও পুতুলের হাসিমুখের ছবিকে সেদিন রাজকীয় অর্জন হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল।

কিন্তু কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা ভালো করেই জানেন, কোনো সামিট বা সম্মেলনের করিডোরে দাঁড়িয়ে তোলা সেলফি আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের সংরক্ষিত প্রটোকলে নিজস্ব ফটোগ্রাফার দ্বারা তোলা অফিসিয়াল আলোকচিত্রের মধ্যে ব্যবধান ঠিক কতটা। শেখ হাসিনার সেই সেলফি ছিল একজন বৈধতাহীন স্বৈরাচারীর কৃত্রিম আত্মতুষ্টি ও সস্তা প্রচারণার খোরাক, যা দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন।

আর অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের বৈঠক ও ছবি হলো রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুদৃঢ় দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের এক প্রামাণ্য দলিল। তুলনামূলক বিচারে এই দুটি ঘটনার গুণগত ও কূটনৈতিক পার্থক্য আসমান-জমিন। জিয়া পরিবারের আন্তর্জাতিক সাফল্য ও স্বীকৃতির এই ধারাবাহিকতায় আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়।

তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা ব্যরিস্টার জাইমা রহমান সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি কার্যালয়ের লিগ্যাল অফিসার (আইন কর্মকর্তা) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বিশ্ব কূটনীতির সর্বোচ্চ তীর্থস্থান জাতিসংঘের প্রধানতম একটি দপ্তরে এমন একটি অতিপ্রয়োজনীয় ও সম্মানজনক পদে একজন বাংলাদেশি তরুণীর স্থান করে নেওয়া কোনো রাজনৈতিক দলের একক অর্জন নয়—এটি পুরো ১৮ কোটি বাঙালি তথা গোটা দেশ ও জাতির জন্য এক মহৎ গৌরবের স্মারক।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এই আন্তর্জাতিক অর্জনটিকে নিয়েও পলাতক পতিত ফ্যাসিস্ট, তাদের দোসর এবং দেশে-বিদেশে অবস্থানরত কিছু কথিত সাংবাদিক ও ইউটিউবার জল ঘোলা করতে ছাড়েনি। আরও হতাশার বিষয় হচ্ছে, এই অনভিপ্রেত ও সংকীর্ণ অপপ্রচারে যোগ দিয়েছে দেশের কিছু বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক অংশের নেতাকর্মীরাও; বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি-র মতো দলগুলো সরাসরি এর সমালোচনা করে তাদের রাজনৈতিক সংকীর্ণতারই পরিচয় দিয়েছে।

যেসকল নাগরিকের হৃদয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেম ও স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে, তারা মাত্রই জাইমা রহমানের এই অর্জনে আনন্দিত ও গর্বিত হবেন। এটি বোঝা জরুরি যে, জাতিসংঘের লিগ্যাল অফিসারের মতো একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত ও কারিগরি পদে রাজনৈতিক সুপারিশ বা স্বজনপ্রীতি করে যুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শতভাগ পেশাগত দক্ষতা, গভীর আইনি জ্ঞান এবং কঠোর একাডেমিক যোগ্যতা না থাকলে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকেও কাউকে এই পদে বসানো সম্ভব নয়।

জাইমা রহমান সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতাবলে এই আন্তর্জাতিক সম্মান অর্জন করেছেন। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় জাইমা রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতেই পারেন। জাতিসংঘের মতো সর্বোচ্চ বৈশ্বিক সংস্থায় আইন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আন্তর্জাতিক মানের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ একজন বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

ভবিষ্যতে তিনি যদি বাংলাদেশের নেতৃত্বে আসেন, তবে তাঁর এই বৈশ্বিক কাজের গভীর অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সুফল পুরো বাংলাদেশ ও দেশের জনগণই ভোগ করবে। সুতরাং, এমন একটি ইতিবাচক ও জাতীয় গৌরবের বিষয়কে নিয়ে যারা অন্ধ বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করতে পারে, স্পষ্টতই দেশ, জাতি কিংবা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের প্রতি তাদের ন্যূনতম চিন্তা বা দায়বদ্ধতা নেই।

এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসাত্মক মনোভাব সুস্থ ও বিকাশমান গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পলাতক ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসররা আজ মারাত্মক রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বে ভুগছে। তারা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে যে, বাংলাদেশে জনম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি গণতান্ত্রিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্পের সাথে তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের প্রটোকলভিত্তিক ছবি এবং জাতিসংঘে জাইমা রহমানের বর্ণিল পেশাগত অবস্থান—এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এগুলো বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা ও মেধার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দৃশ্যমান দলিল। অতএব, অশুভ অপপ্রচার ও গুজবের দোকান খুলে তারা যতই মিথ্যাচারের ফানুস ওড়াক না কেন, সত্যের আলোকিত বাস্তবতাকে কখনোই ঢাকা দেওয়া যায় না।

মার্কিন দূতাবাসের পেজে প্রকাশিত ছবিটি কিংবা জাতিসংঘে বাংলাদেশের মেধার এই পদচারণা শুধুই ব্যক্তি বা পরিবারের সাফল্য নয়—এটি ফ্যাসিবাদের কফিনে শেষ পেরেক এবং বাংলাদেশের এক নতুন আন্তর্জাতিক সূর্যোদয়ের সনদ। তারা কেন জ্বলছে? কারণ তারা দেখছে, চাটুকারিতা কিংবা ঝুপ করে তুলে ফেলা সস্তা সেলফির দিন শেষ হয়ে গেছে; বাংলাদেশ আজ বিশ্বমঞ্চে নিজস্ব মেধা, ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

যা দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষের জন্য গর্বের এক অনুপম অনুষঙ্গ। মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সহায় হোন। লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ২ প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

রাজনীতি ও কূটনীতিতে আলোকচিত্রের প্রভাব: নেপথ্যের সমীকরণ

Update Time : 01:41:59 pm, Thursday, 8 October 2026

রাজনীতিতে প্রতিকৃতি বা আলোকচিত্র কেবল ফ্রেমবন্দি কোনো স্থিরচিত্র নয়। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে এটি রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য, পারস্পরিক সুসম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে কাজ করে।

কিন্তু সেই একই আলোকচিত্র যখন কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দেউলিয়াত্ব এবং করুণ পতনের রূপরেখাকে উলঙ্গ করে দেয়, তখন তা তাদের জন্য হয়ে ওঠে তীব্র মানসিক দহন ও আতঙ্কের কারণ। সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশের পর স্বৈরাচারী পতিত শক্তি ও তাদের দোসরদের মনোজগতে যে অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হয়েছে, তা মূলত তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব সঙ্কটেরই বহিঃপ্রকাশ।

হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ক্যামেরায় তোলা সেই ঐতিহাসিক ছবি দেখে তারা কেন জ্বলছে, আর কেনই বা সেটিকে মিথ্যা প্রমাণ করতে তারা আধা-জল খেয়ে মাঠে নেমেছে—তা বিশ্লেষণ করলেই তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বাস্তব চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফল কূটনৈতিক সফর সমাপ্ত করে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে এসেছেন।

অধিবেশনে যোগদানের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি কাটিয়েছেন বিশ্বনেতাদের সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনারে। সফরের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে নৈশ ভোজের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরকারি বাসভবনে যে প্রোটোকল ও নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকে, সেখানে বাইরের কোনো ক্যামেরা বা ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তোলার ন্যূনতম সুযোগ নেই।

প্রেসিডেন্টের নিজস্ব সরকারি ফটোগ্রাফারের মাধ্যমিক ছবি তোলাই একমাত্র নিয়ম। সেই প্রটোকল অনুযায়ীই ছবিটি তোলা হয় এবং সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার প্রায় এক সপ্তাহ পর হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি ছবিটি উপহার হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। একই সাথে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ভেরিফাইড ফেসবুক পেজেও ছবিটি মহাসমারোহে প্রকাশ করা হয়।

একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানের এই সম্মানজনক কূটনৈতিক সাক্ষাৎ ও আলোকচিত্র যেকোনো দেশের জন্যই পরম গৌরব ও মর্যাদার। মার্কিন দূতাবাস নিজেই যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে, তার চেয়ে বড় ও পরিষ্কার প্রমাণ আর কী হতে পারে? তা সত্ত্বেও, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসররা যখন এই ছবিটিকে ‘ফেক’ বা ‘এডিটেড’ প্রমাণের জন্য অপপ্রচারের নিকৃষ্ট প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে, তখন তা দেখে অনুকম্পা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন যথার্থই বলেছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, শেয়ার বা ভিউ পাওয়ার অশুভ প্রতিযোগিতা এবং সত্যকে আড়াল করে মিথ্যাচার করা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না। ” যা সত্য ও ধ্রুব, তা স্পষ্ট করার নতুন কিছু নেই; কিন্তু পলাতক রাজনৈতিক অপশক্তির গায়ে কেন আগুন জ্বলছে, তার উত্তর লুকিয়ে আছে এই ছবির কূটনৈতিক গুরুত্ব ও মর্যাদার মধ্যে।

একই সময়ে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে দ্য সেন্ট রেজিস-এ আয়োজিত মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী শিশু কল্যাণ বিষয়ক উদ্যোগ “ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার”-এর বিশেষ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সহধর্মিণীদের নিয়ে আয়োজিত এই বিশেষ হাই-লেভেল ফোরামে মার্কিন ফার্স্ট লেডির পাশে ডা. জুবাইদা রহমানের উপস্থিতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে দেশের সরকারপ্রধান এবং তাঁর সহধর্মিণী উভয়ই একই সাথে বৈশ্বিক মঞ্চে বিশ্বনেতাদের মুখোমুখি বসে আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে কথা বলার মতো পাণ্ডিত্য, ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রেখেছেন। জিয়া পরিবারের এই অনন্য নজির স্থাপনই মূলত অপশক্তির হৃদয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। কারণ, তারা যাদের চিরতরে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, সেই পরিবারই আজ আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ও পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিশ্বের শীর্ষ পরাশক্তিগুলোর সাথে সমানে সমান টেবিলে বসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে।

এখানেই প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে আসে অতীতের এক করুণ ও হাস্যকর স্মৃতির কথা। দেশের মানুষ এখনো ভুলে যায়নি ২০২৩ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের সেই ঘটনাটি। তৎকালীন ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনা এবং তাঁর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে একটি ‘সেলফি’ তুলে তা নিয়ে দেশজুড়ে কী পরিমাণের সস্তা ঢাক-ঢোল পিটিয়েছিলেন!

একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের করিডোরে বা হাঁটার পথে বা ভিড়ের মধ্যে যে কেউ যেকোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পাশে দাঁড়িয়ে একটি মোবাইল সেলফি তুলে নিতেই পারেন—কূটনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় বিচারে যার মূল্য শূন্যের কোঠায়। ভিড়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ক্যাজুয়াল সেলফিতে শেখ হাসিনা ও পুতুলের হাসিমুখের ছবিকে সেদিন রাজকীয় অর্জন হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল।

কিন্তু কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা ভালো করেই জানেন, কোনো সামিট বা সম্মেলনের করিডোরে দাঁড়িয়ে তোলা সেলফি আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের সংরক্ষিত প্রটোকলে নিজস্ব ফটোগ্রাফার দ্বারা তোলা অফিসিয়াল আলোকচিত্রের মধ্যে ব্যবধান ঠিক কতটা। শেখ হাসিনার সেই সেলফি ছিল একজন বৈধতাহীন স্বৈরাচারীর কৃত্রিম আত্মতুষ্টি ও সস্তা প্রচারণার খোরাক, যা দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন।

আর অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের বৈঠক ও ছবি হলো রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুদৃঢ় দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের এক প্রামাণ্য দলিল। তুলনামূলক বিচারে এই দুটি ঘটনার গুণগত ও কূটনৈতিক পার্থক্য আসমান-জমিন। জিয়া পরিবারের আন্তর্জাতিক সাফল্য ও স্বীকৃতির এই ধারাবাহিকতায় আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়।

তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা ব্যরিস্টার জাইমা রহমান সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি কার্যালয়ের লিগ্যাল অফিসার (আইন কর্মকর্তা) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বিশ্ব কূটনীতির সর্বোচ্চ তীর্থস্থান জাতিসংঘের প্রধানতম একটি দপ্তরে এমন একটি অতিপ্রয়োজনীয় ও সম্মানজনক পদে একজন বাংলাদেশি তরুণীর স্থান করে নেওয়া কোনো রাজনৈতিক দলের একক অর্জন নয়—এটি পুরো ১৮ কোটি বাঙালি তথা গোটা দেশ ও জাতির জন্য এক মহৎ গৌরবের স্মারক।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এই আন্তর্জাতিক অর্জনটিকে নিয়েও পলাতক পতিত ফ্যাসিস্ট, তাদের দোসর এবং দেশে-বিদেশে অবস্থানরত কিছু কথিত সাংবাদিক ও ইউটিউবার জল ঘোলা করতে ছাড়েনি। আরও হতাশার বিষয় হচ্ছে, এই অনভিপ্রেত ও সংকীর্ণ অপপ্রচারে যোগ দিয়েছে দেশের কিছু বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক অংশের নেতাকর্মীরাও; বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি-র মতো দলগুলো সরাসরি এর সমালোচনা করে তাদের রাজনৈতিক সংকীর্ণতারই পরিচয় দিয়েছে।

যেসকল নাগরিকের হৃদয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেম ও স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে, তারা মাত্রই জাইমা রহমানের এই অর্জনে আনন্দিত ও গর্বিত হবেন। এটি বোঝা জরুরি যে, জাতিসংঘের লিগ্যাল অফিসারের মতো একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত ও কারিগরি পদে রাজনৈতিক সুপারিশ বা স্বজনপ্রীতি করে যুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শতভাগ পেশাগত দক্ষতা, গভীর আইনি জ্ঞান এবং কঠোর একাডেমিক যোগ্যতা না থাকলে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকেও কাউকে এই পদে বসানো সম্ভব নয়।

জাইমা রহমান সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতাবলে এই আন্তর্জাতিক সম্মান অর্জন করেছেন। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় জাইমা রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতেই পারেন। জাতিসংঘের মতো সর্বোচ্চ বৈশ্বিক সংস্থায় আইন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আন্তর্জাতিক মানের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ একজন বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

ভবিষ্যতে তিনি যদি বাংলাদেশের নেতৃত্বে আসেন, তবে তাঁর এই বৈশ্বিক কাজের গভীর অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সুফল পুরো বাংলাদেশ ও দেশের জনগণই ভোগ করবে। সুতরাং, এমন একটি ইতিবাচক ও জাতীয় গৌরবের বিষয়কে নিয়ে যারা অন্ধ বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করতে পারে, স্পষ্টতই দেশ, জাতি কিংবা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের প্রতি তাদের ন্যূনতম চিন্তা বা দায়বদ্ধতা নেই।

এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসাত্মক মনোভাব সুস্থ ও বিকাশমান গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পলাতক ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসররা আজ মারাত্মক রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বে ভুগছে। তারা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে যে, বাংলাদেশে জনম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি গণতান্ত্রিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্পের সাথে তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের প্রটোকলভিত্তিক ছবি এবং জাতিসংঘে জাইমা রহমানের বর্ণিল পেশাগত অবস্থান—এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এগুলো বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা ও মেধার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দৃশ্যমান দলিল। অতএব, অশুভ অপপ্রচার ও গুজবের দোকান খুলে তারা যতই মিথ্যাচারের ফানুস ওড়াক না কেন, সত্যের আলোকিত বাস্তবতাকে কখনোই ঢাকা দেওয়া যায় না।

মার্কিন দূতাবাসের পেজে প্রকাশিত ছবিটি কিংবা জাতিসংঘে বাংলাদেশের মেধার এই পদচারণা শুধুই ব্যক্তি বা পরিবারের সাফল্য নয়—এটি ফ্যাসিবাদের কফিনে শেষ পেরেক এবং বাংলাদেশের এক নতুন আন্তর্জাতিক সূর্যোদয়ের সনদ। তারা কেন জ্বলছে? কারণ তারা দেখছে, চাটুকারিতা কিংবা ঝুপ করে তুলে ফেলা সস্তা সেলফির দিন শেষ হয়ে গেছে; বাংলাদেশ আজ বিশ্বমঞ্চে নিজস্ব মেধা, ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

যা দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষের জন্য গর্বের এক অনুপম অনুষঙ্গ। মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সহায় হোন। লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।