রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার পর অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উগ্র আচরণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে ক্যাম্পাস ও সাংবাদিক মহলে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রধান ফটকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছিল শাখা ছাত্রদলের একাংশ। সেই ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় ডেইলি স্টার, আগামীর সময়, বিডিনিউজ ২৪ এবং সমকালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
হামলায় গুরুতর আহত বেশ কয়েকজন সাংবাদিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই অভিযুক্ত নেতারা ফেসবুকে সাংবাদিকদের নিয়ে আক্রমণাত্মক ও অপমানজনক পোস্ট করতে শুরু করেছেন। হামলার অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ও শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব আহত সাংবাদিকদের ‘গুপ্তচর’ ও ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট করেন।
তিনি দাবি করেন, রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়নি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গুপ্ত সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা হয়েছে। একই ভাষায় পোস্ট করেছেন আরেক নেতা বিশাল চক্রবর্তী। এছাড়া শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে পোস্ট করেন, যা পরবর্তীতে তিনি মুছে ফেলেন।
তবে ততক্ষণে সেসব পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরের রাবি প্রতিনিধি ইরফান তামিম বলেন, স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে কোনো উসকানি ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর দায় স্বীকারের পরিবর্তে আহত সাংবাদিকদের ‘ট্যাগিং’ ও বিকৃত পোস্ট করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করা হচ্ছে।
ছাত্রদলের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সাংবাদিকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটাবে। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার সময় রাত হওয়ায় বিস্তারিত তাৎক্ষণিক জানা সম্ভব হয়নি। ফেসবুকে উগ্র পোস্টের বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়গুলো তার নজরে আসেনি এবং কোনো সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এর আগে হামলার সময় পুলিশ ও প্রশাসনের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি, এমনকি পুলিশও নিরাপত্তার অভাবে পিছু হটেছিল’।
























