আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৯%

বিএনপির শূন্য পদে কারা আসছেন?

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:35:53 am, Friday, 14 August 2026
  • 63

বিএনপির শূন্য পদে কারা আসছেন?

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভারপ্রাপ্ত ও নির্বাচিত মহাসচিব হিসেবে টানা প্রায় দেড় দশক দায়িত্ব সামলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর ২০১৮ সাল থেকে কার্যত দলের হাল ধরেন তিনি।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকলেও দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সামনে থেকে বিএনপির আন্দোলন পরিচালনা করেছেন মির্জা ফখরুল। শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের মধ্যে দলকে দিশা দেখানো মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করায় এখন বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসছেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে বিএনপির বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে। আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই নেতা দলের অন্যতম পোড়খাওয়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য জানিয়েছেন, আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দিয়েই দল পরিচালিত হবে।

কাউন্সিলের মাধ্যমে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হবেন। বাংলানিউজের প্রতিবেদনে দলের একাধিক নীতিনির্ধারক, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রাজনীতির মাঠের বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে মূলত তিন জ্যেষ্ঠ নেতাকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে-বাইরে জোরালো হিসাব-নিকাশ চলছে। তারা হলেন—রুহুল কবির রিজভী, সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এই তিন নেতার প্রত্যেকেরই রয়েছে ভিন্ন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নিজস্ব শক্তির জায়গা। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হয়ে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে যে নামটি বেশি আলোচনায় আসছে, তিনি দলের স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

বর্তমানে সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে নেবেন, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। দলের ভেতরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নামও আলোচনায় রয়েছে। সাবেক এই ছাত্রদল নেতা বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলের কেউ কেউ মনে করছেন। তারেক রহমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৭ আগস্ট। এ সময়ের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

সরকারের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিডিনিউজের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তাদের ভাষ্য, অন্তত দুটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখও দেখা যেতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এত দ্রুত সময়ে—অর্থাৎ ছয় মাসের মধ্যে—মূল্যায়ন করে কাউকে বাদ দেওয়ার কোনো মনোভাব এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দেখা যায়নি।

তবে মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে পুনর্গঠন হতে পারে বলে তিনি জানান। এর আগে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হয়নি। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে সরকারে ২৪ জন মন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।

তাদের মধ্যে কোনো কোনো মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন হতে পারে। আবার কাউকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারের একজন মন্ত্রী বিডিনিউজকে বলেছেন, অন্তত সাত থেকে আটটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মন্থর। এসব মন্ত্রণালয়ে রদবদল আসতে পারে। যেসব মন্ত্রীর হাতে দুই বা তিনটি করে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে, তাদের কারও কারও দায়িত্ব কমানো হতে পারে।

সেক্ষেত্রে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ওই মন্ত্রী আরও বলেন, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েকজন মন্ত্রীকে ডেকে তাদের কাজ নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন। কোনো কোনো মন্ত্রীকে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের জন্য সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তরের কার্যক্রমের ওপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

সব মিলিয়ে বিএনপির মহাসচিব পদে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি নির্বাচন এবং সরকারের ছয় মাস পূর্তিকে ঘিরে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল—দুই বিষয়ই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ডাব মার্কার এজেন্টরা জামায়াতের এজেন্ট হয়ে গেছে: মির্জা ফয়সল

বিএনপির শূন্য পদে কারা আসছেন?

Update Time : 10:35:53 am, Friday, 14 August 2026

ভারপ্রাপ্ত ও নির্বাচিত মহাসচিব হিসেবে টানা প্রায় দেড় দশক দায়িত্ব সামলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর ২০১৮ সাল থেকে কার্যত দলের হাল ধরেন তিনি।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকলেও দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সামনে থেকে বিএনপির আন্দোলন পরিচালনা করেছেন মির্জা ফখরুল। শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের মধ্যে দলকে দিশা দেখানো মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করায় এখন বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসছেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে বিএনপির বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে। আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই নেতা দলের অন্যতম পোড়খাওয়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য জানিয়েছেন, আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দিয়েই দল পরিচালিত হবে।

কাউন্সিলের মাধ্যমে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হবেন। বাংলানিউজের প্রতিবেদনে দলের একাধিক নীতিনির্ধারক, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রাজনীতির মাঠের বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে মূলত তিন জ্যেষ্ঠ নেতাকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে-বাইরে জোরালো হিসাব-নিকাশ চলছে। তারা হলেন—রুহুল কবির রিজভী, সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এই তিন নেতার প্রত্যেকেরই রয়েছে ভিন্ন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নিজস্ব শক্তির জায়গা। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হয়ে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে যে নামটি বেশি আলোচনায় আসছে, তিনি দলের স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

বর্তমানে সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে নেবেন, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। দলের ভেতরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নামও আলোচনায় রয়েছে। সাবেক এই ছাত্রদল নেতা বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলের কেউ কেউ মনে করছেন। তারেক রহমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৭ আগস্ট। এ সময়ের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

সরকারের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিডিনিউজের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তাদের ভাষ্য, অন্তত দুটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখও দেখা যেতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এত দ্রুত সময়ে—অর্থাৎ ছয় মাসের মধ্যে—মূল্যায়ন করে কাউকে বাদ দেওয়ার কোনো মনোভাব এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দেখা যায়নি।

তবে মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে পুনর্গঠন হতে পারে বলে তিনি জানান। এর আগে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হয়নি। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে সরকারে ২৪ জন মন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।

তাদের মধ্যে কোনো কোনো মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন হতে পারে। আবার কাউকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারের একজন মন্ত্রী বিডিনিউজকে বলেছেন, অন্তত সাত থেকে আটটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মন্থর। এসব মন্ত্রণালয়ে রদবদল আসতে পারে। যেসব মন্ত্রীর হাতে দুই বা তিনটি করে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে, তাদের কারও কারও দায়িত্ব কমানো হতে পারে।

সেক্ষেত্রে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ওই মন্ত্রী আরও বলেন, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েকজন মন্ত্রীকে ডেকে তাদের কাজ নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন। কোনো কোনো মন্ত্রীকে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের জন্য সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তরের কার্যক্রমের ওপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

সব মিলিয়ে বিএনপির মহাসচিব পদে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি নির্বাচন এবং সরকারের ছয় মাস পূর্তিকে ঘিরে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল—দুই বিষয়ই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।