3:32 pm, Saturday, 1 August 2026

নদীভাঙন আতঙ্কে চার গ্রামের শতাধিক পরিবার

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:15:34 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পানিশ্বর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে চার গ্রামের শতাধিক পরিবার। আতঙ্কে দিন কাটচ্ছেন তারা। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, চাতালকল, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সরেজমিনে নদীভাঙন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মেঘনা নদীর পূর্ব তীরে উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের পালপাড়া, সাখাইতি, দেওবাড়িয়া ও লায়ারহাটি গ্রামসহ প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের কবলে রয়েছে। ইতোমধ্যে ওসমান মিয়া ও আখতার মিয়া নামে দুই ব্যক্তির চাতালকলসহ প্রায় ২০টি চাতালকল এবং শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে গত কয়েক বছরে শতাধিক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন মুন্সী, মোবারক মিয়া এবং আবদুল কুদ্দুস বলেন, প্রতি বছরই নদীভাঙনে গ্রামের পর গ্রাম বিলীন হচ্ছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হলে অবশিষ্ট বসতভিটাও নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে। পানিশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. তৌহিদ মিয়া বলেন, চারটি গ্রামের শতাধিক পরিবার এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ এলাকায় অর্ধশতাধিক চাতালকল থাকলেও ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি চাতালকল নদীগর্ভে চলে গেছে। এলাকার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী দ্রুত এখানে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পানিশ্বর এলাকার নদী ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উপজেলা প্রশাসনের সীমিত বরাদ্দ দিয়ে এ ধরনের ভয়াবহ ভাঙন মোকাবিলা সম্ভব নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি উদ্যোগ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরাইল শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী মহসিন কবির শিহাব বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় পানিশ্বর এলাকায় এক হাজার ৩৫০ মিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজের প্রস্তাব পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধে কিছু জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

তৃণমূলের ক্রীড়া প্রতিভা তুলে আনাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য : মীর শাহে আলম

নদীভাঙন আতঙ্কে চার গ্রামের শতাধিক পরিবার

Update Time : 01:15:34 pm, Saturday, 1 August 2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পানিশ্বর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে চার গ্রামের শতাধিক পরিবার। আতঙ্কে দিন কাটচ্ছেন তারা। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, চাতালকল, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সরেজমিনে নদীভাঙন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মেঘনা নদীর পূর্ব তীরে উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের পালপাড়া, সাখাইতি, দেওবাড়িয়া ও লায়ারহাটি গ্রামসহ প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের কবলে রয়েছে। ইতোমধ্যে ওসমান মিয়া ও আখতার মিয়া নামে দুই ব্যক্তির চাতালকলসহ প্রায় ২০টি চাতালকল এবং শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে গত কয়েক বছরে শতাধিক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন মুন্সী, মোবারক মিয়া এবং আবদুল কুদ্দুস বলেন, প্রতি বছরই নদীভাঙনে গ্রামের পর গ্রাম বিলীন হচ্ছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হলে অবশিষ্ট বসতভিটাও নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে। পানিশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. তৌহিদ মিয়া বলেন, চারটি গ্রামের শতাধিক পরিবার এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ এলাকায় অর্ধশতাধিক চাতালকল থাকলেও ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি চাতালকল নদীগর্ভে চলে গেছে। এলাকার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী দ্রুত এখানে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পানিশ্বর এলাকার নদী ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উপজেলা প্রশাসনের সীমিত বরাদ্দ দিয়ে এ ধরনের ভয়াবহ ভাঙন মোকাবিলা সম্ভব নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি উদ্যোগ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরাইল শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী মহসিন কবির শিহাব বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় পানিশ্বর এলাকায় এক হাজার ৩৫০ মিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজের প্রস্তাব পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধে কিছু জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে।