ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিএমসিএইচ) কর্মরত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) নন-ক্যাডার নার্সিং ব্যাচ-২ (২০১৮)-এর নার্সিং কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের ৮ম বর্ষপূর্তি আজ উদযাপিত হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১টায় হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় (প্রশাসনিক ব্লক) সংলগ্ন ৩য় তলার কনফারেন্স হলে এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। দীর্ঘ আট বছর ধরে সরকারি পর্যায়ে রোগীদের নিবেদিত সেবাদান, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অবদান রাখার ধারাবাহিকতায় এই বিশেষ আয়োজনের উদ্যোগ নেয় ২০১৮ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত নার্সিং কর্মকর্তারা।
বর্ষপূর্তির এই আয়োজনকে স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে নার্সিং কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে একটি মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অনুষ্ঠানে আগত রোগীদের সেবার্থে ১০টি নতুন হুইল চেয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি ওষুধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করেন নার্সিং কর্মকর্তারা।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন, উপ পরিচালক মো. আশরাফুল আলম, ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট অনিতা বারুই। অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির পক্ষে সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. ফারুক হোসাইন জানান, নার্সিং পেশার মর্যাদা, মানবিক সেবার গুরুত্ব এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবায় নার্সিং কর্মকর্তাদের নিরলস অবদানকে সবার সামনে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
রোগীদের সেবায় হুইল চেয়ার প্রদান ও বৃক্ষরোপণের মতো মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে এই উদযাপন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। ঢামেক পরিচালক ফরহাদ হোসেন অনুষ্ঠানে বলেন, সেবামূলক পেশায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মূল দায়িত্ব কেবল শারীরিক চিকিৎসা প্রদানই নয়, বরং ভালো সেবা, মিষ্টি কথা, সুন্দর আচরণ এবং আন্তরিক হাসির মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তোলা।
স্বাস্থ্যসেবা একটি অনন্য দায়িত্ব, যা সর্বক্ষণ পালন করার চেষ্টা করতে হয়। মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার একটি অমূল্য মানবিক গুণ, যার কোনো বিকল্প নেই। গুটিকয়েক মানুষের বাজে আচরণের কারণে অনেক সময় পুরো পেশার দুর্নাম হয়। তাই কর্মক্ষেত্র ছাড়াও বাসা, পরিবার ও সমাজের সব জায়গায় ভালো ব্যবহার বজায় রাখা উচিত, যার প্রতিদান মহান সৃষ্টিকর্তা দেন।
অনুষ্ঠানে ডেপুটি নার্সিং সুপারেনটেনডেন্ট অনিতা বারুই বলেন, রোগী আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আমরা যতই আনন্দ বা ব্যস্ততার মাঝে থাকি না কেন, রোগী ছাড়া আমাদের কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই রোগীর সেবা এবং তাদের পাশে থাকা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব থেকে আমরা কখনো দূরে সরে যাব না। অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নার্সিং নেতৃবৃন্দ এবং ২০১৮ ব্যাচের বিপুল সংখ্যক নার্সিং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও রোগীর মানসম্মত সেবা নিশ্চিতকরণে নার্সদের অগ্রণী ভূমিকা ও ত্যাগের প্রশংসা করেন।





















