আজ রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

বদলগাছীতে ১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:34:01 pm, Sunday, 8 November 2026
  • 14

বদলগাছীতে ১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নওগাঁর বদলগাছীতে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবকেরা।

তাঁদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক এর আগেও শিক্ষার্থীদের মারধরসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক। এতে শিশুদের চুলের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যায়। এমন ঘটনায় বিব্রত হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, এর আগেও ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন। এমনকি এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুলও কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

তবে কী কারণে শিক্ষার্থীদের চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল বিকৃতভাবে খোপ খোপ করে কাটা দেখা যায়। কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।

কারণ ছাড়াই তাঁদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়া হয়। মিলন নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে বাড়িতে এসে দেখি, আমার ছেলে ফাহামুদ হোসাইনের মাথার চুলও খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। অথচ তার মাথার চুল স্বাভাবিক ছিল। এ নিয়ে আজ বিদ্যালয়ে ঝামেলা হয়েছে। ’ আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, ‘প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে।

শীতের মধ্যে এভাবে চুল কেটে দেওয়ায় শিশুরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ’ মিতু বানু নামের আরেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার ছেলেকে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে যে তার দুই পা রক্তাক্ত হয়ে যায়।

ভয়ে এখন সে স্কুলে যেতে চায় না। একজন শিক্ষক যদি শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তাহলে তারা কীভাবে বিদ্যালয়ে নিরাপদ বোধ করবে? আমরা ঘটনার সঠিক বিচার চাই। ’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের চুল অনেক বড় হয়েছিল।

চোখের ওপর এসে পড়ছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি। ’ বিদ্যালয়ে নাপিত ডেকে বা অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা না করে কেন এভাবে চুল কেটে দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাদের দেখতে খারাপ লাগছিল। এ জন্য কপালের ওপরের চুল কেটে দিয়েছি। ’ এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি।

আমি প্রশিক্ষণে আছি। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে, তা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন তদন্ত করছেন। ’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’ শিশুদের জন্য বিদ্যালয় হওয়ার কথা নিরাপদ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ।

সেখানে শৃঙ্খলার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নরসিংদীতে বিড়ির নকল ব্যান্ডরোল জব্দ, আটক ২

বদলগাছীতে ১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

Update Time : 05:34:01 pm, Sunday, 8 November 2026

নওগাঁর বদলগাছীতে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবকেরা।

তাঁদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক এর আগেও শিক্ষার্থীদের মারধরসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক। এতে শিশুদের চুলের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যায়। এমন ঘটনায় বিব্রত হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, এর আগেও ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন। এমনকি এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুলও কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

তবে কী কারণে শিক্ষার্থীদের চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল বিকৃতভাবে খোপ খোপ করে কাটা দেখা যায়। কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।

কারণ ছাড়াই তাঁদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়া হয়। মিলন নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে বাড়িতে এসে দেখি, আমার ছেলে ফাহামুদ হোসাইনের মাথার চুলও খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। অথচ তার মাথার চুল স্বাভাবিক ছিল। এ নিয়ে আজ বিদ্যালয়ে ঝামেলা হয়েছে। ’ আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, ‘প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে।

শীতের মধ্যে এভাবে চুল কেটে দেওয়ায় শিশুরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ’ মিতু বানু নামের আরেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার ছেলেকে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে যে তার দুই পা রক্তাক্ত হয়ে যায়।

ভয়ে এখন সে স্কুলে যেতে চায় না। একজন শিক্ষক যদি শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তাহলে তারা কীভাবে বিদ্যালয়ে নিরাপদ বোধ করবে? আমরা ঘটনার সঠিক বিচার চাই। ’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের চুল অনেক বড় হয়েছিল।

চোখের ওপর এসে পড়ছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি। ’ বিদ্যালয়ে নাপিত ডেকে বা অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা না করে কেন এভাবে চুল কেটে দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাদের দেখতে খারাপ লাগছিল। এ জন্য কপালের ওপরের চুল কেটে দিয়েছি। ’ এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি।

আমি প্রশিক্ষণে আছি। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে, তা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন তদন্ত করছেন। ’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’ শিশুদের জন্য বিদ্যালয় হওয়ার কথা নিরাপদ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ।

সেখানে শৃঙ্খলার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।