সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ছনবাড়ী-ইছামতী সড়কে চুনাপাথরবাহী ভারী ট্রাক চলাচল নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। একদিকে ভারী ট্রাক চলাচল বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছেন এলাকাবাসী।
অন্যদিকে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি সামনে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন একপক্ষের ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে সোনাই নদীপথে পুনরায় এলসি পাথর আমদানি কার্যক্রম চালুর দাবিও জোরালো হচ্ছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় ছনবাড়ী বাজারে ভারী ট্রাক চলাচলের প্রতিবাদে সভা করেন এলাকাবাসী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পুরান নোয়াকুটের বিশিষ্ট মুরব্বি কাচা মিয়া। পরিচালনা করেন নিজগাঁওয়ের জাহাঙ্গীর আলম। সভায় বক্তব্য দেন গাংপাড় নোয়াকুটের ইয়াছিন মিয়া, নিজগাঁওয়ের ডা. হান্নান, মদরিছ আলী, আলী হোসেন, আব্দুল কাদির, শাহিদ আলম, অ্যাডভোকেট সাইফুল আলম, নূর আহমদ ও মাহমুদ আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, ছনবাড়ী–ইছামতী সড়কটি কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
অতীতে এ সড়ক দিয়ে চুনাপাথরবাহী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং বর্ষাকালে কাদাপানির কারণে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আবারও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এলাকাবাসী আরও বলেন, সড়কটি তুলনামূলক সরু এবং ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামীণ এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে।
সড়কের দুই পাশে বসতবাড়ি ও জনবসতি থাকায় ভারী চুনাপাথরবাহী ট্রাক চলাচল শুরু হলে সাধারণ যানবাহন, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচল বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। তাঁদের মতে, বর্তমান অবকাঠামো ভারী ট্রাক চলাচলের উপযোগী নয়। অন্যদিকে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি সামনে এনে একপক্ষের ব্যবসায়ীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের দাবি তুলে ধরছেন।
এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, সোনাই নদীপথে এলসি কার্যক্রম চালু হলে ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের দুই পাড়ের বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারত। তাহলে নদীপথে এলসি কার্যক্রম চালুর বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে এখন গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচলের দাবিতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের কথা সামনে আনা হচ্ছে কেন?
এলাকাবাসী জানান, তাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিরোধী নন। বরং ছনবাড়ী–ইছামতী সড়কটি যথাযথভাবে সংস্কার ও উন্নত করার পাশাপাশি সোনাই নদীপথে পুনরায় এলসি পাথর আমদানির কার্যক্রম চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালো পদক্ষেপ চান। তাঁদের মতে, পরিকল্পিতভাবে নদীপথে আমদানি ও পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা গেলে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়সহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি লাভবান হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, সোনাই নদীতে পুনরায় ইমপোর্ট ব্যবসা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি ছনবাড়ী–ইছামতী সড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। এলসি কার্যক্রম চালু হলে উভয় দিক থেকেই পাথর পরিবহনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে সড়কের ধারণক্ষমতা, নিরাপত্তা ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রতিবাদ সভা থেকে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়, ছনবাড়ী–ইছামতী সড়ক দিয়ে চুনাপাথরবাহী ভারী ট্রাক চলাচলের অনুমতি বা সুযোগ দেওয়া যাবে না। সম্ভাব্য ভারী যান চলাচল শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই।
খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। ” এলাকাবাসীর দাবি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান যেমন প্রয়োজন, তেমনি গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। তাই সোনাই নদীপথে এলসি কার্যক্রম পুনরায় চালু এবং ছনবাড়ী–ইছামতী সড়কের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।





















