আজ রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

খেজুর রসের মৌসুম: কেশবপুরে ভাড় ও কলসী তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:23:39 pm, Sunday, 8 November 2026
  • 12

খেজুর রসের মৌসুম: কেশবপুরে ভাড় ও কলসী তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

খেজুরের গুড়ের মৌসুমকে সামনে রেখে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মৃৎ শিল্পীরা এখন খেজুরের রস-গুড় সংরক্ষণের জন্য ভাড়ও কলসী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। পাল সম্প্রদায়ভুক্ত অনেকেরই আজ আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

তারপরেও উপজেলার গৌরীঘোনা, ভেরচী, বুড়-লী, কলাগাছি গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের মৃৎ শিল্পীরা বংশ পরম্পরায় বাপ-দাদার এ আদি পেশাটি আকড়ে ধরে আছেন। ইতি মধ্যে এ অঞ্চলের গাছিরা গুড় উৎপাদনে রস আহরণের জন্য খেজুর গাছ তোলার কাজ শুরু করেছে। আর কয়েক দিন পরেই গুড় উৎপাদনে ব্যসত্ম হয়ে পড়বে তারা। এ জন্য গাছিদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ভাড়ের যোগান দিতে মৃৎ শিল্পীরা দিন-রাত এখন মহাব্যসত্ম।

সরেজমিনে উপজেলার গৌরীঘোনা গ্রামের পাল পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, রবীন পাল ও তার স্ত্রী পারুল রাণী একমনে হাতের কারুকার্যের নিখুঁত ছোয়ায় ভাড় তৈরি করে চলেছেন। ছাঁচে ভাড় তৈরির নান্দনিক দৃশ্যটি খুবই মনোমুগ্ধকর। কাজের ফাঁকে ফাঁকে কথা হয় পুলিন, বিষ্ণুপদ, রাসমনিসহ কয়েকজনের সাথে। ভাড় তৈরি কাজে শুধু পুরুষ সদস্যই না বাড়ির গৃহিনী থেকে শুরু করে ছেলে-মেয়েরাও পড়ালেখার ফাঁকে তাদের বাবা মায়ের কাজে সাহায্য করছে।

মোলায়েমকৃত মাটি বোলে দিয়ে বালির সংমিশ্রণে মাটি চাপড় বানানোর পর ছাঁচে দিয়ে হাতের কারুকার্য দিয়ে ভাড়ের কানাসহ ভাড়ের উপরিভাগ তৈরি করা হয়। এই ছাঁচে ভাড়ের নীচের অংশ তৈরির পর পৃথক দুটি অংশকে জোড়া লাগিয়ে দুদিন রোদে শুকানো হয়। রোদে শুকানো ভাড়ে রং লাগিয়ে পাজায় (আগুনে) ৫ ঘন্টা ব্যাপী পোড়ানোর পর তৈরি হয় ব্যবহারযোগ্য ভাড়। মৃৎ শিল্পী পারুল রাণী বলেন, প্রতিদিন তিনি ও তার স্বামী মিলে ৫০ থেকে ৬০টি ভাড় তৈরি করতে পারেন।

মৃৎ শিল্পী গোপাল ও জয়দেব পাল বলেন, প্রতিটি ভাড় ২৫/৩০ টাকা করে বিক্রি করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

মৌলভীবাজারে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ভারতীয় সিগারেট উদ্ধার, বিজিবির ওপর চোরাকারবারিদের হামলা

খেজুর রসের মৌসুম: কেশবপুরে ভাড় ও কলসী তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

Update Time : 05:23:39 pm, Sunday, 8 November 2026

খেজুরের গুড়ের মৌসুমকে সামনে রেখে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মৃৎ শিল্পীরা এখন খেজুরের রস-গুড় সংরক্ষণের জন্য ভাড়ও কলসী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। পাল সম্প্রদায়ভুক্ত অনেকেরই আজ আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

তারপরেও উপজেলার গৌরীঘোনা, ভেরচী, বুড়-লী, কলাগাছি গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের মৃৎ শিল্পীরা বংশ পরম্পরায় বাপ-দাদার এ আদি পেশাটি আকড়ে ধরে আছেন। ইতি মধ্যে এ অঞ্চলের গাছিরা গুড় উৎপাদনে রস আহরণের জন্য খেজুর গাছ তোলার কাজ শুরু করেছে। আর কয়েক দিন পরেই গুড় উৎপাদনে ব্যসত্ম হয়ে পড়বে তারা। এ জন্য গাছিদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ভাড়ের যোগান দিতে মৃৎ শিল্পীরা দিন-রাত এখন মহাব্যসত্ম।

সরেজমিনে উপজেলার গৌরীঘোনা গ্রামের পাল পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, রবীন পাল ও তার স্ত্রী পারুল রাণী একমনে হাতের কারুকার্যের নিখুঁত ছোয়ায় ভাড় তৈরি করে চলেছেন। ছাঁচে ভাড় তৈরির নান্দনিক দৃশ্যটি খুবই মনোমুগ্ধকর। কাজের ফাঁকে ফাঁকে কথা হয় পুলিন, বিষ্ণুপদ, রাসমনিসহ কয়েকজনের সাথে। ভাড় তৈরি কাজে শুধু পুরুষ সদস্যই না বাড়ির গৃহিনী থেকে শুরু করে ছেলে-মেয়েরাও পড়ালেখার ফাঁকে তাদের বাবা মায়ের কাজে সাহায্য করছে।

মোলায়েমকৃত মাটি বোলে দিয়ে বালির সংমিশ্রণে মাটি চাপড় বানানোর পর ছাঁচে দিয়ে হাতের কারুকার্য দিয়ে ভাড়ের কানাসহ ভাড়ের উপরিভাগ তৈরি করা হয়। এই ছাঁচে ভাড়ের নীচের অংশ তৈরির পর পৃথক দুটি অংশকে জোড়া লাগিয়ে দুদিন রোদে শুকানো হয়। রোদে শুকানো ভাড়ে রং লাগিয়ে পাজায় (আগুনে) ৫ ঘন্টা ব্যাপী পোড়ানোর পর তৈরি হয় ব্যবহারযোগ্য ভাড়। মৃৎ শিল্পী পারুল রাণী বলেন, প্রতিদিন তিনি ও তার স্বামী মিলে ৫০ থেকে ৬০টি ভাড় তৈরি করতে পারেন।

মৃৎ শিল্পী গোপাল ও জয়দেব পাল বলেন, প্রতিটি ভাড় ২৫/৩০ টাকা করে বিক্রি করা হয়।