আজ শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২২°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

১৩ নভেম্বর কি সত্যিই ধ্বংস হবে পৃথিবী?

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:19:28 pm, Saturday, 7 November 2026
  • 20

১৩ নভেম্বর কি সত্যিই ধ্বংস হবে পৃথিবী?

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হবে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি আরব গণমাধ্যমে এমন আলোচনা নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পেছনে রয়েছে ৬৬ বছর আগে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা।

তবে গবেষণাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে পৃথিবীর ধ্বংস বা মানবজাতির বিলুপ্তির কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়নি। ১৯৬০ সালের ৪ নভেম্বর মার্কিন বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিদ হেইঞ্জ ফন ফোরস্টার এবং তার দুই সহকর্মী প্যাট্রিশিয়া মোরা ও লরেন্স অ্যামিয়টের একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। এর শিরোনাম ছিল ‘ডুমসডে: ফ্রাইডে, নভেম্বর ১৩’।

গবেষণায় খ্রিষ্টীয় যুগের শুরু থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের জনসংখ্যার ২৪টি ঐতিহাসিক হিসাব বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকেরা ‘হাইপারবলিক গ্রোথ’ নামের একটি গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে দেখান, অতীতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা অপরিবর্তিত থাকলে ২০২৬ সালের নভেম্বরে জনসংখ্যা তাত্ত্বিকভাবে অসীমে পৌঁছাতে পারে। সমীকরণে পাওয়া ২০২৬.৮৭ সংখ্যার ভিত্তিতেই ১৩ নভেম্বর তারিখটি গবেষণার শিরোনামে আসে।

তবে ‘অসীম জনসংখ্যা’ বলতে বাস্তবে মানুষের সংখ্যা অসীম হয়ে যাওয়াকে বোঝানো হয়নি। এটি ছিল নির্দিষ্ট কিছু অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি একটি গাণিতিক ফলাফল। গবেষকেরা কোথাও গ্রহাণুর আঘাত, সূর্যের বিস্ফোরণ কিংবা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে পৃথিবী ধ্বংসের কথা বলেননি। সম্প্রতি ১৯৬৪ সালের ২৯ নভেম্বর মিশরীয় সংবাদপত্র ‘ওয়াতানি’-তে প্রকাশিত মিশেল তাকলারের একটি নিবন্ধের পুরোনো কাটিংও আলোচনায় এসেছে।

ওই নিবন্ধের শিরোনামেও ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবীর সমাপ্তির প্রসঙ্গ ছিল। তবে এটি ফন ফোরস্টারের গবেষণা থেকে আলাদা একটি প্রকাশনা। নিবন্ধটির বিষয়বস্তু নিয়েও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে ১৩ নভেম্বর সৌরঝড় বা মহাজাগতিক কোনো বিপর্যয় ঘটবে—এমন দাবিরও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। জ্যোতির্বিজ্ঞানী এমাদ মুজাহেদ জানিয়েছেন, ওই তারিখে পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের মতো কোনো পরিচিত বা প্রত্যাশিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নেই।

অন্যদিকে, ১৯৬০ সালের গবেষণার পর বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮২০ কোটি। ২০৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তা প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে কমার পূর্বাভাস রয়েছে। অর্থাৎ, ১৯৬০ সালের গবেষণাটি ছিল জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি তাত্ত্বিক গাণিতিক বিশ্লেষণ, পৃথিবী ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

১৩ নভেম্বর কি সত্যিই ধ্বংস হবে পৃথিবী?

Update Time : 04:19:28 pm, Saturday, 7 November 2026

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হবে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি আরব গণমাধ্যমে এমন আলোচনা নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পেছনে রয়েছে ৬৬ বছর আগে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা।

তবে গবেষণাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে পৃথিবীর ধ্বংস বা মানবজাতির বিলুপ্তির কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়নি। ১৯৬০ সালের ৪ নভেম্বর মার্কিন বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিদ হেইঞ্জ ফন ফোরস্টার এবং তার দুই সহকর্মী প্যাট্রিশিয়া মোরা ও লরেন্স অ্যামিয়টের একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। এর শিরোনাম ছিল ‘ডুমসডে: ফ্রাইডে, নভেম্বর ১৩’।

গবেষণায় খ্রিষ্টীয় যুগের শুরু থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের জনসংখ্যার ২৪টি ঐতিহাসিক হিসাব বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকেরা ‘হাইপারবলিক গ্রোথ’ নামের একটি গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে দেখান, অতীতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা অপরিবর্তিত থাকলে ২০২৬ সালের নভেম্বরে জনসংখ্যা তাত্ত্বিকভাবে অসীমে পৌঁছাতে পারে। সমীকরণে পাওয়া ২০২৬.৮৭ সংখ্যার ভিত্তিতেই ১৩ নভেম্বর তারিখটি গবেষণার শিরোনামে আসে।

তবে ‘অসীম জনসংখ্যা’ বলতে বাস্তবে মানুষের সংখ্যা অসীম হয়ে যাওয়াকে বোঝানো হয়নি। এটি ছিল নির্দিষ্ট কিছু অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি একটি গাণিতিক ফলাফল। গবেষকেরা কোথাও গ্রহাণুর আঘাত, সূর্যের বিস্ফোরণ কিংবা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে পৃথিবী ধ্বংসের কথা বলেননি। সম্প্রতি ১৯৬৪ সালের ২৯ নভেম্বর মিশরীয় সংবাদপত্র ‘ওয়াতানি’-তে প্রকাশিত মিশেল তাকলারের একটি নিবন্ধের পুরোনো কাটিংও আলোচনায় এসেছে।

ওই নিবন্ধের শিরোনামেও ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবীর সমাপ্তির প্রসঙ্গ ছিল। তবে এটি ফন ফোরস্টারের গবেষণা থেকে আলাদা একটি প্রকাশনা। নিবন্ধটির বিষয়বস্তু নিয়েও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে ১৩ নভেম্বর সৌরঝড় বা মহাজাগতিক কোনো বিপর্যয় ঘটবে—এমন দাবিরও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। জ্যোতির্বিজ্ঞানী এমাদ মুজাহেদ জানিয়েছেন, ওই তারিখে পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের মতো কোনো পরিচিত বা প্রত্যাশিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নেই।

অন্যদিকে, ১৯৬০ সালের গবেষণার পর বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮২০ কোটি। ২০৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তা প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে কমার পূর্বাভাস রয়েছে। অর্থাৎ, ১৯৬০ সালের গবেষণাটি ছিল জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি তাত্ত্বিক গাণিতিক বিশ্লেষণ, পৃথিবী ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।