আজ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৪°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা ও উসকানির অভিযোগে ২০৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দ

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:46:35 pm, Thursday, 5 November 2026
  • 0

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা ও উসকানির অভিযোগে ২০৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

তৈরি পোশাকশিল্প খাতে শ্রমিক অসন্তোষ ও নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় রূপ নিয়েছে। পঞ্চম দিনের মতো বৃহস্পতিবারও (৫ নভেম্বর) ছিল সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল উত্তপ্ত। এ অবস্থায় পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও অর্থায়নের অভিযোগে দেশের ১২টি শিল্পগ্রুপ ও গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট সব পরিচালকসহ ২০৪ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দ করার অনুরোধ জানিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে এনবিআরের দুটি গোয়েন্দা ইউনিট। পাশাপাশি লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণও চেয়েছে সংস্থাটি।

ইতোমধ্যে মিরপুর এলাকায় আন্দোলনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে বলে এনবিআর সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা রয়েছেন বলে এনবিআরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১২টি গ্রুপের মালিক এ আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার জন্য অর্থায়ন করছেন। এ তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু মুনশি।

এ ছাড়া যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, হামিদ গ্রুপের মালিক এবং সাবেক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন, গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।

জানা যায়, তালিকায় তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সুতা, কাপড়ের রং, পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য, প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি এসব ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় মন্ডল গ্রুপের ২৮টি প্রতিষ্ঠানের নাম আছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— মন্ডল ইন্টিমেটস, কটন ফিল্ড (বিডি), কটন ক্লাব (বিডি), কটন ক্লোদিং (বিডি), মন্ডল ফেব্রিকস, ট্রপিক্যাল নিটেক্স, মার্ক সোয়েটার, মন্ডল স্পিনিং মিলস, মন্ডল ফার্মিং অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং, আলিম নিট, মন্ডল সিকিউরিটিজ, অ্যাপোলো ফ্যাশন, ট্রিমস ইন্টারন্যাশনাল, ইকো ইন্টিমেটস, অ্যাপোলো নিটওয়্যার, মন্ডল নিট কম্পোজিট, মন্ডল নিটওয়্যারস ও মন্ডল ইয়ার্ন ডাইং।

এ ছাড়া পানামা অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স, জিগজ্যাগ স্টুডিও, মন্ডল অ্যান্ড কোম্পানি, মনটেক্স ফেব্রিকসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। মন্ডল গ্রুপ ও এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তালিকায় রয়েছেন আবদুল আলিম মন্ডল, তারিন তাসলিমা, মো. জুবায়ের মন্ডল, সুলতানা খাতুন, মাসুদা খাতুন, আবদুল মান্নান মন্ডল, মোমেনা খাতুন, আবদুল মোমিন মন্ডল, মাহমুদুল হাসান, জান্নাতুল ফেরদৌস ও আবদুল মজিদ মন্ডল।

এনভয় গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তালিকায় রয়েছে। এগুলো হলো— এনভয় গার্মেন্টস, এনভয় প্যাকেজেস, এনভয় ডিজাইন, এনভয় ফ্যাশনস ও এনভয় টেকনোলজি। এই গ্রুপ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তালিকায় আছে আবদুস সালাম মুর্শেদী (সাবেক এমপি), রাশিদা আহমেদ, শারমিন সালাম, তানভীর আহমেদ ও শেহরিন সালাম। তবে আবদুস সালাম মুর্শেদীর পরিবার ছাড়া বাকিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্র।

গিভেন্সি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে তালিকায়। এগুলো হলো গিভেন্সি গার্মেন্টস, গিভেন্সি স্পিনিং মিলস, গিভেন্সি গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, গিভেন্সি ইয়ার্ন ডাইং এবং গিভেন্স ফুডস অ্যান্ড অ্যাসেনশিয়াল। তালিকায় এই গ্রুপের আবদুল জাহিদ মুকুল, মাসুমা খাতুন, মাহমুদা খাতুন ও আবদুল হাদির নাম রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজের নাম রয়েছে তালিকায়।

এ ছাড়া দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং সাগর ইনফো বিল্ডার্স লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগের নামও রয়েছে। এ গ্রুপের হোসনা আরা বেগম, মো. আতিউর রহমান, মাহমুদা বেগম, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তাসমিয়া রহমান, হাসনাত মোশাররফ, ফারিয়া রহমান, ফাহিম মোশাররফ ও হাসিব মোশাররফ আছেন। নিপা গ্রুপের তালিকায় রয়েছে নিপা নিটওয়্যার কোম্পানি, সেলিনা অ্যাপারেলস ও নিপা ফ্যাশন ওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি।

ব্যক্তি হিসেবে রয়েছেন সঞ্জীব চৌধুরী, মো. খসরু চৌধুরী (সাবেক এমপি), এম মুনিরুল ইসলাম ও মো. টিপু সুলতান। ওয়েল গ্রুপের তালিকায় রয়েছে ওয়েল অ্যাকসেসরিজ, ওয়েল ফ্যাশন ও ওয়েল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানি। এ ছাড়া ব্যক্তি হিসেবে নাসরিন আখতারের নাম রয়েছে। তুসুকা গ্রুপের তালিকায় রয়েছে তুসুকা প্যাকেজিং, তুসুকা স্টিচেস, তুসুকা অ্যাপারেলস, তুসুকা ফ্যাশনস, তুসুকা ওয়াশিং, তুসুকা প্রসেসিং, তুসুকা ডেনিম, তুসুকা জিনস ও তুসুকা ট্রাউজার্স।

ব্যক্তি হিসেবে রয়েছেন ফিরোজ আলম, মো. রাফায়েত উল্লাহ খান, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. ইকবাল কবির, ফয়জুর রহমান (সাবেক এমপি), আরশাদ জামাল, একরামুল হক, মো. আতিউজ্জামান, মো. আতিউজ্জামান। তুসুকা গ্রুপের একজন উদ্যোক্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যে অভিযোগে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে, তা অবাস্তব। আমাদের কারখানাগুলোতে ২০-২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।

একদিন উৎপাদন না হলে এক থেকে দেড় কোটি টাকা ক্ষতি হয়। ফলে নিজেদের স্বার্থ পরিপন্থি কাজ করার কোনো কারণ বা সুযোগই নেই। ’ তিনি জানান, তুসুকা গ্রুপের চার উদ্যোক্তার একজন ফয়জুর রহমান বিগত সময়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি জেলে আছেন। বাকি তিনজন উদ্যোক্তা রাজনীতির সঙ্গে কখনোই যুক্ত হননি। তাহলে কেন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

এতে বাংলাদেশের একটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাবে, যা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এনবিআর জানায়, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিশাল একটি অংশ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনবিআর সূত্রে গতকাল জানা গেছে, এনবিআরের দুটি গোয়েন্দা ইউনিট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দ করার অনুরোধ জানিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে।

পাশাপাশি ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছে সংস্থাটি। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক হিসাব জব্দ করার তালিকায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বোনের জামাই আলিফ মোল্লার নামও রয়েছে। আর মোবাইল ব্যাংকিং ছাড়াও ক্রিপ্টো কারেন্সি দিয়েও লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনীহা জানিয়ে বলেন, কয়েকটি সরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের বিবরণ চাওয়া হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব ব্যক্তির কেউ কেউ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, আবার কেউ কেউ পলাতক।

তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এনবিআরের তদন্ত শেষ হয়নি। এ তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এটিকে চলমান প্রক্রিয়া বলছেন তারা। কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, ‘সরকারের কয়েকটি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ নিয়েছে।

কিছু সরকারি সংস্থার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আমরা ব্যাংকগুলোকে এই ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছি। ’ জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান রূপালী প্রতিবেদক বলেন, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি পোশাক খাত ধ্বংস করার জন্য নেপথ্যে অর্থায়ন বা ইন্ধন দিয়ে থাকে, তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা হওয়া উচিত।

তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ তদন্ত যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বা ঢালাও না হয়। তিনি বলেন, অ্যাকাউন্ট যাচাই-বাছাই বা তদন্তের প্রক্রিয়ার কারণে যেন কারখানাগুলোর ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলা, কাঁচামাল আমদানি এবং সাধারণ শ্রমকদের সময়মতো বেতন-ভাতা দেওয়ার মতো অতি জরুরি দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। অর্থনীতিবিদ ও গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত।

এ খাতে যদি কোনো গোষ্ঠী রাজনৈতিক ফায়দা বা নাশকতামূলক উদ্দেশ্যে কৃত্রিমভাবে অস্থিরতা তৈরি করে থাকে, তবে তার নেপথ্যের অর্থায়ন খুঁজে বের করা দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি। শতাধিক ব্যক্তি ও সোয়া একশ প্রতিষ্ঠানের ওপর একসঙ্গে এ ধরনের কঠোর আর্থিক নজরদারি বা হিসাব স্থগিতের সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি করতে পারে।

যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া ঢালাওভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে দেওয়া হয়, তবে তা দেশে ও বিদেশে সামগ্রিক ব্যবসা পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ভুটানের বিপক্ষে জয় দিয়ে শিরোপা মিশন শুরু বাংলাদেশের

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা ও উসকানির অভিযোগে ২০৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দ

Update Time : 10:46:35 pm, Thursday, 5 November 2026

তৈরি পোশাকশিল্প খাতে শ্রমিক অসন্তোষ ও নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় রূপ নিয়েছে। পঞ্চম দিনের মতো বৃহস্পতিবারও (৫ নভেম্বর) ছিল সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল উত্তপ্ত। এ অবস্থায় পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও অর্থায়নের অভিযোগে দেশের ১২টি শিল্পগ্রুপ ও গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট সব পরিচালকসহ ২০৪ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দ করার অনুরোধ জানিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে এনবিআরের দুটি গোয়েন্দা ইউনিট। পাশাপাশি লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণও চেয়েছে সংস্থাটি।

ইতোমধ্যে মিরপুর এলাকায় আন্দোলনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে বলে এনবিআর সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা রয়েছেন বলে এনবিআরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১২টি গ্রুপের মালিক এ আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার জন্য অর্থায়ন করছেন। এ তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু মুনশি।

এ ছাড়া যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, হামিদ গ্রুপের মালিক এবং সাবেক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন, গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।

জানা যায়, তালিকায় তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সুতা, কাপড়ের রং, পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য, প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি এসব ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় মন্ডল গ্রুপের ২৮টি প্রতিষ্ঠানের নাম আছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— মন্ডল ইন্টিমেটস, কটন ফিল্ড (বিডি), কটন ক্লাব (বিডি), কটন ক্লোদিং (বিডি), মন্ডল ফেব্রিকস, ট্রপিক্যাল নিটেক্স, মার্ক সোয়েটার, মন্ডল স্পিনিং মিলস, মন্ডল ফার্মিং অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং, আলিম নিট, মন্ডল সিকিউরিটিজ, অ্যাপোলো ফ্যাশন, ট্রিমস ইন্টারন্যাশনাল, ইকো ইন্টিমেটস, অ্যাপোলো নিটওয়্যার, মন্ডল নিট কম্পোজিট, মন্ডল নিটওয়্যারস ও মন্ডল ইয়ার্ন ডাইং।

এ ছাড়া পানামা অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স, জিগজ্যাগ স্টুডিও, মন্ডল অ্যান্ড কোম্পানি, মনটেক্স ফেব্রিকসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। মন্ডল গ্রুপ ও এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তালিকায় রয়েছেন আবদুল আলিম মন্ডল, তারিন তাসলিমা, মো. জুবায়ের মন্ডল, সুলতানা খাতুন, মাসুদা খাতুন, আবদুল মান্নান মন্ডল, মোমেনা খাতুন, আবদুল মোমিন মন্ডল, মাহমুদুল হাসান, জান্নাতুল ফেরদৌস ও আবদুল মজিদ মন্ডল।

এনভয় গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তালিকায় রয়েছে। এগুলো হলো— এনভয় গার্মেন্টস, এনভয় প্যাকেজেস, এনভয় ডিজাইন, এনভয় ফ্যাশনস ও এনভয় টেকনোলজি। এই গ্রুপ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তালিকায় আছে আবদুস সালাম মুর্শেদী (সাবেক এমপি), রাশিদা আহমেদ, শারমিন সালাম, তানভীর আহমেদ ও শেহরিন সালাম। তবে আবদুস সালাম মুর্শেদীর পরিবার ছাড়া বাকিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্র।

গিভেন্সি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে তালিকায়। এগুলো হলো গিভেন্সি গার্মেন্টস, গিভেন্সি স্পিনিং মিলস, গিভেন্সি গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, গিভেন্সি ইয়ার্ন ডাইং এবং গিভেন্স ফুডস অ্যান্ড অ্যাসেনশিয়াল। তালিকায় এই গ্রুপের আবদুল জাহিদ মুকুল, মাসুমা খাতুন, মাহমুদা খাতুন ও আবদুল হাদির নাম রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজের নাম রয়েছে তালিকায়।

এ ছাড়া দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং সাগর ইনফো বিল্ডার্স লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগের নামও রয়েছে। এ গ্রুপের হোসনা আরা বেগম, মো. আতিউর রহমান, মাহমুদা বেগম, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তাসমিয়া রহমান, হাসনাত মোশাররফ, ফারিয়া রহমান, ফাহিম মোশাররফ ও হাসিব মোশাররফ আছেন। নিপা গ্রুপের তালিকায় রয়েছে নিপা নিটওয়্যার কোম্পানি, সেলিনা অ্যাপারেলস ও নিপা ফ্যাশন ওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি।

ব্যক্তি হিসেবে রয়েছেন সঞ্জীব চৌধুরী, মো. খসরু চৌধুরী (সাবেক এমপি), এম মুনিরুল ইসলাম ও মো. টিপু সুলতান। ওয়েল গ্রুপের তালিকায় রয়েছে ওয়েল অ্যাকসেসরিজ, ওয়েল ফ্যাশন ও ওয়েল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানি। এ ছাড়া ব্যক্তি হিসেবে নাসরিন আখতারের নাম রয়েছে। তুসুকা গ্রুপের তালিকায় রয়েছে তুসুকা প্যাকেজিং, তুসুকা স্টিচেস, তুসুকা অ্যাপারেলস, তুসুকা ফ্যাশনস, তুসুকা ওয়াশিং, তুসুকা প্রসেসিং, তুসুকা ডেনিম, তুসুকা জিনস ও তুসুকা ট্রাউজার্স।

ব্যক্তি হিসেবে রয়েছেন ফিরোজ আলম, মো. রাফায়েত উল্লাহ খান, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. ইকবাল কবির, ফয়জুর রহমান (সাবেক এমপি), আরশাদ জামাল, একরামুল হক, মো. আতিউজ্জামান, মো. আতিউজ্জামান। তুসুকা গ্রুপের একজন উদ্যোক্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যে অভিযোগে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে, তা অবাস্তব। আমাদের কারখানাগুলোতে ২০-২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।

একদিন উৎপাদন না হলে এক থেকে দেড় কোটি টাকা ক্ষতি হয়। ফলে নিজেদের স্বার্থ পরিপন্থি কাজ করার কোনো কারণ বা সুযোগই নেই। ’ তিনি জানান, তুসুকা গ্রুপের চার উদ্যোক্তার একজন ফয়জুর রহমান বিগত সময়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি জেলে আছেন। বাকি তিনজন উদ্যোক্তা রাজনীতির সঙ্গে কখনোই যুক্ত হননি। তাহলে কেন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

এতে বাংলাদেশের একটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাবে, যা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এনবিআর জানায়, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিশাল একটি অংশ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনবিআর সূত্রে গতকাল জানা গেছে, এনবিআরের দুটি গোয়েন্দা ইউনিট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দ করার অনুরোধ জানিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে।

পাশাপাশি ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছে সংস্থাটি। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক হিসাব জব্দ করার তালিকায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বোনের জামাই আলিফ মোল্লার নামও রয়েছে। আর মোবাইল ব্যাংকিং ছাড়াও ক্রিপ্টো কারেন্সি দিয়েও লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনীহা জানিয়ে বলেন, কয়েকটি সরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের বিবরণ চাওয়া হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব ব্যক্তির কেউ কেউ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, আবার কেউ কেউ পলাতক।

তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এনবিআরের তদন্ত শেষ হয়নি। এ তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এটিকে চলমান প্রক্রিয়া বলছেন তারা। কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, ‘সরকারের কয়েকটি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ নিয়েছে।

কিছু সরকারি সংস্থার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আমরা ব্যাংকগুলোকে এই ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছি। ’ জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান রূপালী প্রতিবেদক বলেন, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি পোশাক খাত ধ্বংস করার জন্য নেপথ্যে অর্থায়ন বা ইন্ধন দিয়ে থাকে, তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা হওয়া উচিত।

তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ তদন্ত যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বা ঢালাও না হয়। তিনি বলেন, অ্যাকাউন্ট যাচাই-বাছাই বা তদন্তের প্রক্রিয়ার কারণে যেন কারখানাগুলোর ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলা, কাঁচামাল আমদানি এবং সাধারণ শ্রমকদের সময়মতো বেতন-ভাতা দেওয়ার মতো অতি জরুরি দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। অর্থনীতিবিদ ও গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত।

এ খাতে যদি কোনো গোষ্ঠী রাজনৈতিক ফায়দা বা নাশকতামূলক উদ্দেশ্যে কৃত্রিমভাবে অস্থিরতা তৈরি করে থাকে, তবে তার নেপথ্যের অর্থায়ন খুঁজে বের করা দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি। শতাধিক ব্যক্তি ও সোয়া একশ প্রতিষ্ঠানের ওপর একসঙ্গে এ ধরনের কঠোর আর্থিক নজরদারি বা হিসাব স্থগিতের সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি করতে পারে।

যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া ঢালাওভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে দেওয়া হয়, তবে তা দেশে ও বিদেশে সামগ্রিক ব্যবসা পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।