যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনের ইসলামীয়া ও প্রিন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মিলেছে নানা অনিয়ম। প্রিন্সে ইউনানী চিকিৎসক দিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অন্যদিকে, ইসলামীয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাওয়া যায়নি কোনো বৈধ কাগজপত্র। সেখানে রোগী দেখছিলেন সেই হাবিবুর রহমান, যিনি ২০২২ সালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে আটক হয়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা পেয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে অভিযান চালিয়ে ইসলামীয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা এবং প্রিন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালের সামনের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীম বিনতে মুস্তাফিজ। এ সময় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. নবনিতা বনিক, পরিসংখ্যানবিদ শামসুল ফালাক ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রথমে প্রিন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মতিয়ার রহমান নামের এক ব্যক্তিকে রোগী দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক নন, একজন ইউনানী চিকিৎসক। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যবস্থাপত্রে অ্যালোপ্যাথিকসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ লিখে আসছিলেন। এ অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সেলিম হোসেনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সূত্রে আরও জানা গেছে, শহিদ নামে এক পল্লী চিকিৎসক অবৈধভাবে প্রিন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এরপর একই এলাকার ইসলামীয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এ সময় হাবিবুর রহমান নামের একজন ডিএমএফ চিকিৎসককে রোগী দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।
সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমতি ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীম বিনতে মুস্তাফিজ জানান, নানা অনিয়মের কারণে ইসলামীয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা এবং প্রিন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটির বৈধ কাগজপত্রের ঘাটতি পাওয়া গেছে।
এদিকে, ইসলামীয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতে পাওয়া হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আগেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের ৯ জুন যশোর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন। ওই সময় তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
প্রায় চার বছর পর সেই একই হাবিবুর রহমানকে আবারও হাসপাতালের সামনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতে পাওয়া গেল। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে। চিকিৎসাসেবায় প্রতারণার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।





















