আজ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারম গ্রেপ্তার

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:29:31 pm, Wednesday, 4 November 2026
  • 27

কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারম গ্রেপ্তার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারমকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ। গ্রেপ্তার আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার উত্তর বরকল এলাকার আবু তালেবের ছেলে।

তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশে একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৬ আগস্ট সকালে কারাগারের বন্দীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে কারারক্ষীদের জিম্মি করে বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে তৈরি করা মই দিয়ে কারাগারের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান বন্দীরা।

তাদের মধ্যে আবু মোকারমও ছিলেন। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় মামলা করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চন্দনাইশ থানায় দায়ের করা হত্যা মামলাটির নম্বর ০৭(১১)২০০৯। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার এ মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালের ১৯ মে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত আবু মোকারমকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

কারাগার থেকে পালানোর পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করেন এবং পরিচয় গোপন রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে এসআরবি-১১-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পারিবারিক শত্রুতার জেরে আবু মোকারমসহ অন্য আসামিরা তার বোনের চাচি-শাশুড়িকে হত্যা করে বাড়ির পাশের ধানখেতে ফেলে রাখেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় মামলা হয় এবং আবু মোকারম ছিলেন ওই মামলার এক নম্বর আসামি। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারম গ্রেপ্তার

Update Time : 07:29:31 pm, Wednesday, 4 November 2026

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারমকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ। গ্রেপ্তার আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার উত্তর বরকল এলাকার আবু তালেবের ছেলে।

তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশে একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৬ আগস্ট সকালে কারাগারের বন্দীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে কারারক্ষীদের জিম্মি করে বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে তৈরি করা মই দিয়ে কারাগারের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান বন্দীরা।

তাদের মধ্যে আবু মোকারমও ছিলেন। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় মামলা করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চন্দনাইশ থানায় দায়ের করা হত্যা মামলাটির নম্বর ০৭(১১)২০০৯। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার এ মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালের ১৯ মে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত আবু মোকারমকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

কারাগার থেকে পালানোর পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করেন এবং পরিচয় গোপন রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে এসআরবি-১১-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পারিবারিক শত্রুতার জেরে আবু মোকারমসহ অন্য আসামিরা তার বোনের চাচি-শাশুড়িকে হত্যা করে বাড়ির পাশের ধানখেতে ফেলে রাখেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় মামলা হয় এবং আবু মোকারম ছিলেন ওই মামলার এক নম্বর আসামি। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে।