মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাঁচটি শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণ করা হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার একটি কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবানন ও গাজাসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, দেশটির ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা না করার নিশ্চয়তা চেয়েছে তেহরান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। দেশটি জানিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মঙ্গলবার দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সোমবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক করে।
একই দিন সন্ধ্যায় প্রতিনিধিদলটি দোহায় ফিরে আসে। তিনি জানান, কাতারের দেওয়া প্রস্তাব দুই পক্ষ পর্যালোচনা করছে। মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান করছেন। আল-আনসারি বলেন, ‘আশার কোনো আলো না থাকলে আলোচনা চলত না। ’ তবে সমঝোতা হবে, নাকি সামরিক উত্তেজনা বাড়বে—এ বিষয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা কিংবা জাহাজে আক্রমণ—যেকোনো ধরনের উত্তেজনা আলোচনাকে প্রভাবিত করবে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার বিষয়েও কোনো আপস করা হবে না বলে জানান তিনি। তেহরান থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক রেসুল সারদার আতাস জানান, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকাতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠির পর কাতারের প্রতিনিধিদল ইরান সফর করে। পরদিন ইরানের একটি প্রতিনিধিদল কাতারে যায়। আতাসের মতে, কাতার এখনই কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির চেষ্টা করছে না। বরং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য একটি কাঠামো তৈরিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার প্রধান বাধা পারস্পরিক অবিশ্বাস।
ইরানের অভিযোগ, এর আগে দুইবার কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ কারণে আলোচনার আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির সুযোগ নিশ্চিত করার মতো বাস্তব পদক্ষেপ চায় তেহরান। এদিকে সোমবার ইরানের কেশম দ্বীপে সীমিত আকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান একটি মার্কিন উড়োজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছিল। ওই হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংস করতে পাল্টা হামলা চালানো হয়। তবে এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ইঙ্গিত নয় বলে জানিয়েছেন তারা। এক মার্কিন কর্মকর্তা হামলাটিকে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থেকে মার্কিন সামরিক সম্পদের ওপর আসা হুমকি মোকাবিলায় আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশের বন্দর লেঙ্গেহ শহরেও আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে ৮ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না। অন্যদিকে, মঙ্গলবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কেশম দ্বীপের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্ব দিকে একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করার দাবিও করেছে বাহিনীটি।






















