ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি ডকইয়ার্ড থেকে জাহাজ মেরামতের পর অবশিষ্ট প্রায় ৪ টন গর্দা লোহা জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিকদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
এ সময় লোহার ক্রেতা ও তার লোকজনের ওপর হামলারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের কাওটাইল এলাকার ভাই ভাই শিপিং বিল্ডার্স নামের একটি ডকইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ডকইয়ার্ডের স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে জাহাজ মেরামতের পর অবশিষ্ট গর্দা লোহা জাহাজ মালিকরা বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে আসছেন।
সম্প্রতি একটি জাহাজের মেরামতকাজ শেষে প্রায় ৪ টন গর্দা লোহা অবশিষ্ট থাকে। জাহাজের মালিক ওই লোহাগুলো ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবু রায়হান নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে ক্রয় করা লোহা নিতে ডকইয়ার্ডে আসেন ব্যবসায়ী আবু রায়হান। এ সময় স্থানীয় নিলয়ের নেতৃত্বে কোন্ডা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সোহাগ ও তাইজুদ্দীন, কোন্ডা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার এবং কোন্ডা ইউনিয়ন ছাত্রদলের শফিকসহ বেশ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন।
তারা সেখানে কোন্ডা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহিনের পরিচয় দিয়ে বলেন, শাহিন ভাই আমাদের লোহা নিতে পাঠিয়েছেন। পরে তারা হামলা চালিয়ে তিনটি ট্রলারে বোঝাই করা লোহা জোরপূর্বক নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। ডকইয়ার্ড মালিক আরও জানান, কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহিন এবার চেয়ারম্যান প্রার্থী।
তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদেও রয়েছেন। ২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুথানের পর তিনি কোন্ডা ইউনিয়নের কাওটাইল এলাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা সব ডকইয়ার্ড থেকে তার কোন্ডা ইউনিয়নের যুবদলের নেতাকর্মীদের দিয়ে গর্দা লোহা জোরপূর্বক কমদামে কিনে নেন এবং বেশি দামে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। ডকইয়ার্ডের স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন এ ঘটনায় তাদের ক্ষয়ক্ষতি ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
জাহাজের ম্যানেজার কেরামত জানান, তারা ন্যায্যমূল্যে গর্দা লোহাগুলো আবু রায়হানের কাছে বিক্রি করেছেন। নির্ধারিত সময়ে ক্রেতা লোহা নিতে এলে একদল লোক হামলা চালিয়ে তিনটি ট্রলার ভর্তি লোহা জোরপূর্বক নিয়ে যায়। লোহার ক্রেতা ও ভুক্তভোগী আবু রায়হান বলেন, তিনি বৈধভাবে লোহাগুলো কিনেছেন। কিন্তু অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তিন ট্রলার ভর্তি মালামাল নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে কোন্ডা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিকদলের অফিস খরচের জন্য লোহাগুলো নেওয়া হয়েছে। লোহাগুলো এনে রাখা হয়েছে এবং জাহাজের মালিককে সেখানে আসতে বলা হয়েছে। অ্যাডভোকেট শাহিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডকইয়ার্ড থেকে লোহা ছিনতাই বা এ রকম কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
আমি কোন্ডা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। এদিকে, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লোহাগুলো উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন। তিনি বলেন, উদ্ধার করা লোহাগুলো বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ডকইয়ার্ড সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৈধভাবে কেনাবেচা করা মালামাল রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।






















