আজ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১৬%

বনের ভেতর থেকে ডাক পড়ল দুষ্টু ছেলে পল্টুর

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:01:56 am, Tuesday, 3 November 2026
  • 19

বনের ভেতর থেকে ডাক পড়ল দুষ্টু ছেলে পল্টুর

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

এক গ্রামে পল্টু নামে এক দুষ্টু ছেলে বাস করত। পড়াশোনায় তার মন নেই, কিন্তু দুষ্টুমিতে সে সবার সেরা! একদিন পল্টু ছোট্ট এক বনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। হঠাৎ ঝোপের ভেতর থেকে কে যেন বলল, – এই পল্টু, এদিকে আয়!

সাধারণত এই কণ্ঠ শুনে ওর বয়সি বাচ্চারা ভয়ে দৌড়ে পালাত। কিন্তু পল্টু ভয় পেল না। এদিক-ওদিক তাকিয়ে উল্টো প্রশ্ন করল, এই কে রে! ভূত নাকি? পল্টুর এই সাহস দেখে মুগ্ধ হয়ে ঝোপের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো এক ছোট্ট পরি। পরি দেখে পল্টুর চোখ চকচক করে উঠল। পরিটির মাথায় ঝলমলে মুকুট, আর হাতে চিকন একটা কাঠি। পরি বলল, – তোর তো খুব সাহস রে পল্টু!

– হ্যাঁ আমি সাহসী। ভয় পাই না। আমি পড়াশোনা করি না। একটু দুষ্টু। কিন্তু কোনো খারাপ কাজ করি না। পল্টুর মুখে এই কথা শুনে পরির ভালো লাগল। সে খুশি হয়ে বলল তোকে আমার খুব ভালো লেগেছে পল্টু। এই নে, এটা জাদুর কাঠি। এই কাঠির কাছে তুই যা চাইবি, তাই পাবি! খুশিতে পল্টুর চোখ মুখ জ¦লজ¦ল করতে লাগল। কিন্তু তার বিশ^াস হচ্ছিল না।

সে পরিকে পরীক্ষা করার জন্য বলল, – এটা আবার সম্ভব নাকি? আমি বিশ^াস করি না। – আরে বোকা ছেলে এটা সত্যি। বল তুই কি চাস। যা চাইবি সেটাই তোর সামনে হাজির হবে। – ঠিক আছে, তাহলে আমাকে এক হাঁড়ি রসগোল্লা দাও তো! পরি কাঠি ঘুরিয়ে বলল, – তবে তাই হোক! ব্যস! পল্টুর সামনে এক হাঁড়ি রসগোল্লা হাজির। রসগোল্লার হাঁড়ি দেখে পল্টু লোভ সামলাতে পারল না।

গপগপ খেতে শুরু করল রসগোল্লা। একটা, দুইটা, দশটা, বিশটা! খেতে খেতে পেট এমন ফুলে গেল যে সে হাঁটতেই পারছিল না। পরি হেসে বলল, – এবার বুঝলি তো, আমি আসল না নকল। পল্টু পেট চেপে বলল, – বুঝেছি! তুমি সত্যি। এবার একটা সাইকেল দাও। সাইকেলে চড়ে বাড়ি যাব! পরি কাঠি ঘোরাতেই সাইকেল এলো। পল্টু খুশিতে প্যাডেল মারতে মারতে বাড়ি ফিরল। সারারাত সে পরির কথা ভাবল।

– ইশ! কদিন পরেই তো পরীক্ষা কিন্তু আমি তো কিছুই পড়িনি। পরি যদি আমাকে জাদুর কিছু দিত। যা দিয়ে আমি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে যেতাম। নাহ্ , কালকেই পরির কাছে জাদুর কিছু চাইতে হবে। যা দিয়ে আমি পরীক্ষায় প্রথম হতে পারি। পরদিন স্কুলে যাওয়ার পথে সে আমার সেই ঝোপের কাছে গেল। পরিকে ডেকে বলল, – পরি ও পরি!! আমাকে এমন জাদু দাও, যাতে পরীক্ষায় প্রথম হতে পারি!

কদিন পরেই আমার পরীক্ষা। তার ডাকে পরি বেরিয়ে এসে বলল, – বেশ! তাহলে চোখ বন্ধ কর। পল্টু চোখ বন্ধ করতেই পরি তার হাতে একটা বই ধরিয়ে দিল। পল্টু চোখ খুলে অবাক! – এ কী! বই! এটা তো আমার কাছেই আছে। এটা দিলে কেন? আমি তো জাদু চেয়েছি! পরি মুচকি হেসে বলল, – এই বইয়ের মধ্যে এমন জাদু আছে, যা কোনো কাঠিতেও নেই। মন দিয়ে পড়লে তুই পরীক্ষায় প্রথম হতে পারবি।

পল্টু মুখ বাঁকিয়ে বলল, – পড়তে হবে? উফ! কী বিরক্তিকর! পরি বলল, – তা হলে তোর জন্য আরেকটা জাদু আছে! দেখবি। – কই, কই, দেখাও। দেখব। পরি জাদুর কাঠি ঘুরিয়ে পল্টুর মাথায় একটা টোকা দিল। পল্টু দেখল, বইয়ের অক্ষরগুলো লাফাচ্ছে! ‘অ’ নাচছে, ‘আ’ ঘুরছে, আর ‘ই’ তাকে জিভ দেখাচ্ছে! পল্টু হেসে গড়াগড়ি খেতে লাগল।

কিন্তু একটু পরেই অক্ষরগুলো আবার শান্ত হয়ে গেল। এরপর পরি বলল, – পল্টু যা.. এবার পড়তে বস। যত পড়বি, তত মজা পাবি! সেদিন থেকে পল্টু প্রতিদিন পড়াশোনা করতে লাগল। সে পরীক্ষা দিল। পরীক্ষার ফল বের হলে দেখা গেল, সে ক্লাসে দ্বিতীয় হয়েছে! পল্টু পরিকে ধন্যবাদ জানাতে দৌড়ে বনে গেল। সে অনেক ডাকল কিন্তু পরি আর এলো না। সে দেখতে পেল গাছের ডালে ঝুলছে ছোট্ট একটি চিরকুট।

তাতে লেখাÑ ‘আসল জাদুর কাঠি থাকে মানুষের নিজের হাতে, চেষ্টা, বুদ্ধি আর পরিশ্রমই তো আসল জাদুর কাঠি! ’ পল্টু চিরকুটটা পড়ে হাসল। তারপর বাড়ি ফিরে বই খুলে বসল।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

পরিচালনায় আসছেন গায়ক ও নায়ক হিমেশ রেশমিয়া

বনের ভেতর থেকে ডাক পড়ল দুষ্টু ছেলে পল্টুর

Update Time : 03:01:56 am, Tuesday, 3 November 2026

এক গ্রামে পল্টু নামে এক দুষ্টু ছেলে বাস করত। পড়াশোনায় তার মন নেই, কিন্তু দুষ্টুমিতে সে সবার সেরা! একদিন পল্টু ছোট্ট এক বনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। হঠাৎ ঝোপের ভেতর থেকে কে যেন বলল, – এই পল্টু, এদিকে আয়!

সাধারণত এই কণ্ঠ শুনে ওর বয়সি বাচ্চারা ভয়ে দৌড়ে পালাত। কিন্তু পল্টু ভয় পেল না। এদিক-ওদিক তাকিয়ে উল্টো প্রশ্ন করল, এই কে রে! ভূত নাকি? পল্টুর এই সাহস দেখে মুগ্ধ হয়ে ঝোপের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো এক ছোট্ট পরি। পরি দেখে পল্টুর চোখ চকচক করে উঠল। পরিটির মাথায় ঝলমলে মুকুট, আর হাতে চিকন একটা কাঠি। পরি বলল, – তোর তো খুব সাহস রে পল্টু!

– হ্যাঁ আমি সাহসী। ভয় পাই না। আমি পড়াশোনা করি না। একটু দুষ্টু। কিন্তু কোনো খারাপ কাজ করি না। পল্টুর মুখে এই কথা শুনে পরির ভালো লাগল। সে খুশি হয়ে বলল তোকে আমার খুব ভালো লেগেছে পল্টু। এই নে, এটা জাদুর কাঠি। এই কাঠির কাছে তুই যা চাইবি, তাই পাবি! খুশিতে পল্টুর চোখ মুখ জ¦লজ¦ল করতে লাগল। কিন্তু তার বিশ^াস হচ্ছিল না।

সে পরিকে পরীক্ষা করার জন্য বলল, – এটা আবার সম্ভব নাকি? আমি বিশ^াস করি না। – আরে বোকা ছেলে এটা সত্যি। বল তুই কি চাস। যা চাইবি সেটাই তোর সামনে হাজির হবে। – ঠিক আছে, তাহলে আমাকে এক হাঁড়ি রসগোল্লা দাও তো! পরি কাঠি ঘুরিয়ে বলল, – তবে তাই হোক! ব্যস! পল্টুর সামনে এক হাঁড়ি রসগোল্লা হাজির। রসগোল্লার হাঁড়ি দেখে পল্টু লোভ সামলাতে পারল না।

গপগপ খেতে শুরু করল রসগোল্লা। একটা, দুইটা, দশটা, বিশটা! খেতে খেতে পেট এমন ফুলে গেল যে সে হাঁটতেই পারছিল না। পরি হেসে বলল, – এবার বুঝলি তো, আমি আসল না নকল। পল্টু পেট চেপে বলল, – বুঝেছি! তুমি সত্যি। এবার একটা সাইকেল দাও। সাইকেলে চড়ে বাড়ি যাব! পরি কাঠি ঘোরাতেই সাইকেল এলো। পল্টু খুশিতে প্যাডেল মারতে মারতে বাড়ি ফিরল। সারারাত সে পরির কথা ভাবল।

– ইশ! কদিন পরেই তো পরীক্ষা কিন্তু আমি তো কিছুই পড়িনি। পরি যদি আমাকে জাদুর কিছু দিত। যা দিয়ে আমি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে যেতাম। নাহ্ , কালকেই পরির কাছে জাদুর কিছু চাইতে হবে। যা দিয়ে আমি পরীক্ষায় প্রথম হতে পারি। পরদিন স্কুলে যাওয়ার পথে সে আমার সেই ঝোপের কাছে গেল। পরিকে ডেকে বলল, – পরি ও পরি!! আমাকে এমন জাদু দাও, যাতে পরীক্ষায় প্রথম হতে পারি!

কদিন পরেই আমার পরীক্ষা। তার ডাকে পরি বেরিয়ে এসে বলল, – বেশ! তাহলে চোখ বন্ধ কর। পল্টু চোখ বন্ধ করতেই পরি তার হাতে একটা বই ধরিয়ে দিল। পল্টু চোখ খুলে অবাক! – এ কী! বই! এটা তো আমার কাছেই আছে। এটা দিলে কেন? আমি তো জাদু চেয়েছি! পরি মুচকি হেসে বলল, – এই বইয়ের মধ্যে এমন জাদু আছে, যা কোনো কাঠিতেও নেই। মন দিয়ে পড়লে তুই পরীক্ষায় প্রথম হতে পারবি।

পল্টু মুখ বাঁকিয়ে বলল, – পড়তে হবে? উফ! কী বিরক্তিকর! পরি বলল, – তা হলে তোর জন্য আরেকটা জাদু আছে! দেখবি। – কই, কই, দেখাও। দেখব। পরি জাদুর কাঠি ঘুরিয়ে পল্টুর মাথায় একটা টোকা দিল। পল্টু দেখল, বইয়ের অক্ষরগুলো লাফাচ্ছে! ‘অ’ নাচছে, ‘আ’ ঘুরছে, আর ‘ই’ তাকে জিভ দেখাচ্ছে! পল্টু হেসে গড়াগড়ি খেতে লাগল।

কিন্তু একটু পরেই অক্ষরগুলো আবার শান্ত হয়ে গেল। এরপর পরি বলল, – পল্টু যা.. এবার পড়তে বস। যত পড়বি, তত মজা পাবি! সেদিন থেকে পল্টু প্রতিদিন পড়াশোনা করতে লাগল। সে পরীক্ষা দিল। পরীক্ষার ফল বের হলে দেখা গেল, সে ক্লাসে দ্বিতীয় হয়েছে! পল্টু পরিকে ধন্যবাদ জানাতে দৌড়ে বনে গেল। সে অনেক ডাকল কিন্তু পরি আর এলো না। সে দেখতে পেল গাছের ডালে ঝুলছে ছোট্ট একটি চিরকুট।

তাতে লেখাÑ ‘আসল জাদুর কাঠি থাকে মানুষের নিজের হাতে, চেষ্টা, বুদ্ধি আর পরিশ্রমই তো আসল জাদুর কাঠি! ’ পল্টু চিরকুটটা পড়ে হাসল। তারপর বাড়ি ফিরে বই খুলে বসল।