মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে শত্রুর মেশিনগান পোস্ট ধ্বংস করতে গিয়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহীদ হন তিনি।
দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। দিবসটি উপলক্ষে ঝিনাইদহের মহেশপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় মহেশপুরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
পাশাপাশি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সরকারি ডিগ্রি কলেজের পক্ষ থেকেও দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হামিদুর রহমান। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ধলই সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর শক্তিশালী মেশিনগান অবস্থান দখলের অভিযানে তিনি অসাধারণ সাহসিকতা প্রদর্শন করেন।
শত্রুর মেশিনগান পোস্ট নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন এই তরুণ যোদ্ধা। তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা অভিযানে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। স্বাধীনতাযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিন ভারতের ত্রিপুরায় সমাহিত থাকার পর ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর তাঁর দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে এনে ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুনঃসমাহিত করা হয়।
জন্মভূমি মহেশপুরের এই বীর সন্তানের শাহাদতবার্ষিকীতে তার সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস চর্চার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন মহল।





















