আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১২%

নিজেদের ল্যাবেই ভেজাল পণ্য পরীক্ষা করবে ভোক্তা অধিদপ্তর, রয়েছে সক্ষমতার প্রশ্ন

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:56:05 am, Tuesday, 27 October 2026
  • 12

নিজেদের ল্যাবেই ভেজাল পণ্য পরীক্ষা করবে ভোক্তা অধিদপ্তর, রয়েছে সক্ষমতার প্রশ্ন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভোক্তার আস্থা অর্জনে এবার নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পণ্য পরীক্ষা করবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সংস্থাটির মহাপরিচালকের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এতে ভেজাল পণ্যের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও, অধিদপ্তরের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকেরা।

বাজারে খাদ্যপণ্য, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন খাতে ভেজাল আর নকলের ছড়াছড়ি। অভিযানে পণ্য জব্দ হলেও, মান পরীক্ষা করতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় অন্য প্রতিষ্ঠানের ল্যাবের উপর। এবার সেই জটিলতা কাটাতে নিজস্ব ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে যাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মহাপরিচালক জানান, কোনো পণ্যের মান নিয়ে সন্দেহ হলে নমুনা পাঠাতে হয় বিএসটিআই, সায়েন্স ল্যাব বা অন্য প্রতিষ্ঠানে। রিপোর্ট পেতে সময় লাগে ১৫ দিন থেকে ২ মাস। ততদিনে অভিযুক্ত জামিন নিয়ে আবারও ব্যবসায় যুক্ত হয়। অধিদপ্তরের নিজের আধুনিক ল্যাব থাকলে দ্রুত পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে। ভেজাল প্রমাণ হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়াও সহজ হবে বলে আশা করেন তিনি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘যদি সরকারের সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে ল্যাব করার চিন্তা আছে আমাদের। নিজস্ব ল্যাব থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা পণ্য পরীক্ষা করতে পারি। কিন্তু অন্যের ল্যাবে যখন আমরা এগুলো পাঠাই বা পাঠাবো তখন হয়তো সময়ের একটা বিষয় থাকে। আবার ল্যাব টেস্টে কিছু ফি আছে, অন্য জায়গায় করালে সেটা দেওয়া লাগে।’

বাজারে কারসাজি রোধ ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে এখনো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না অধিদপ্তর। পরিবহন, ডিজিটাল প্রতারণা, মোবাইল অপারেটর সহ অন্যান্য সেবা খাতেও অধিদপ্তরের কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। এমন বাস্তবতায় স্বল্প জনবল নিয়ে তদারকির পাশাপাশি গবেষণা চালানো বড় চ্যালেঞ্জ, মত বিশেষজ্ঞদের।

ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ল্যাব তৈরি করে সেই ল্যাবগুলো চালিয়ে খাদ্যের মান দেখে তারপর ইন্ট্রোগেট করা, এটা আসলে ভোক্তা অধিকার আইনের পুরোপুরি রিফ্লেকশন হয় না। আমি মনে করি যে, তার চেয়ে বরং তাদের লোকবল বাড়ানো, তাদের সক্ষমতা এই বিষয়গুলো বেশি গুরুত দেওয়া উচিৎ।’

ভোক্তার আস্থা অর্জনে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শুরু

নিজেদের ল্যাবেই ভেজাল পণ্য পরীক্ষা করবে ভোক্তা অধিদপ্তর, রয়েছে সক্ষমতার প্রশ্ন

Update Time : 11:56:05 am, Tuesday, 27 October 2026

ভোক্তার আস্থা অর্জনে এবার নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পণ্য পরীক্ষা করবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সংস্থাটির মহাপরিচালকের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এতে ভেজাল পণ্যের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও, অধিদপ্তরের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকেরা।

বাজারে খাদ্যপণ্য, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন খাতে ভেজাল আর নকলের ছড়াছড়ি। অভিযানে পণ্য জব্দ হলেও, মান পরীক্ষা করতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় অন্য প্রতিষ্ঠানের ল্যাবের উপর। এবার সেই জটিলতা কাটাতে নিজস্ব ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে যাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মহাপরিচালক জানান, কোনো পণ্যের মান নিয়ে সন্দেহ হলে নমুনা পাঠাতে হয় বিএসটিআই, সায়েন্স ল্যাব বা অন্য প্রতিষ্ঠানে। রিপোর্ট পেতে সময় লাগে ১৫ দিন থেকে ২ মাস। ততদিনে অভিযুক্ত জামিন নিয়ে আবারও ব্যবসায় যুক্ত হয়। অধিদপ্তরের নিজের আধুনিক ল্যাব থাকলে দ্রুত পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে। ভেজাল প্রমাণ হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়াও সহজ হবে বলে আশা করেন তিনি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘যদি সরকারের সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে ল্যাব করার চিন্তা আছে আমাদের। নিজস্ব ল্যাব থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা পণ্য পরীক্ষা করতে পারি। কিন্তু অন্যের ল্যাবে যখন আমরা এগুলো পাঠাই বা পাঠাবো তখন হয়তো সময়ের একটা বিষয় থাকে। আবার ল্যাব টেস্টে কিছু ফি আছে, অন্য জায়গায় করালে সেটা দেওয়া লাগে।’

বাজারে কারসাজি রোধ ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে এখনো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না অধিদপ্তর। পরিবহন, ডিজিটাল প্রতারণা, মোবাইল অপারেটর সহ অন্যান্য সেবা খাতেও অধিদপ্তরের কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। এমন বাস্তবতায় স্বল্প জনবল নিয়ে তদারকির পাশাপাশি গবেষণা চালানো বড় চ্যালেঞ্জ, মত বিশেষজ্ঞদের।

ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ল্যাব তৈরি করে সেই ল্যাবগুলো চালিয়ে খাদ্যের মান দেখে তারপর ইন্ট্রোগেট করা, এটা আসলে ভোক্তা অধিকার আইনের পুরোপুরি রিফ্লেকশন হয় না। আমি মনে করি যে, তার চেয়ে বরং তাদের লোকবল বাড়ানো, তাদের সক্ষমতা এই বিষয়গুলো বেশি গুরুত দেওয়া উচিৎ।’

ভোক্তার আস্থা অর্জনে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পরামর্শ বিশ্লেষকদের।