নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় অস্তিত্বহীন ‘জায়ান ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেওয়া সারের ডিলারশিপ পুনঃতদন্ত করে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এবং নোয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. স্বপন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার হরণী ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমনগর, টিনের মসজিদ ও হরণী এলাকায় ‘জায়ান ট্রেডার্স’ নামে সার ডিলারশিপের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে মো. ফজলে রাব্বী শামীমের নাম উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে ‘জায়ান ট্রেডার্স’ নামে কোনো সার বিক্রির দোকান নেই।
তিনি বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলার খাসেরহাট রাস্তার মাথায় ‘শামীম ডেন্টাল কেয়ার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। এ অবস্থায় তাঁর নামে সার ডিলারশিপের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকৃত ও উপযুক্ত ব্যবসায়ীর নামে সার ডিলারশিপ প্রদান করা হলে স্থানীয় কৃষকেরা উপকৃত হবেন।
তাই ‘জায়ান ট্রেডার্স’-এর নামে দেওয়া সার ডিলারশিপের অনুমোদন বাতিল করে যোগ্য ব্যক্তির নামে ডিলারশিপ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এদিকে সরেজমিন সুবর্ণচর উপজেলার খাসেরহাট রাস্তার মাথায় গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- ‘শামীম ডেন্টাল কেয়ার’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত রোগী দেখেন মো. ফজলে রাব্বী শামীম।
দন্ত চিকিৎসকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশার পাশাপাশি শামীমের সার-বীজের ব্যবসার কোন তথ্য জানা নেই তাদের। অন্যদিকে হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমনগর, টিনের মসজিদ ও হরণী এলাকায় ‘জায়ান ট্রেডার্স’ নামের কোন সার-বীজের দোকানের অস্তিত্ব দেখেননি বলে জানান স্থানীয়রা। এবিষয়ে অভিযুক্ত মো. ফজলে রাব্বী শামীম মুঠোফোনে বলেন- আবেদনের আগেই তিনি দোকানের চুক্তি করেছেন।
ডিলারশিপ নিয়োগপ্রাপ্তির পর এখন সার ছাড় পেলে কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর উপপরিচালক আশীষ কুমার কর এই সংক্রান্ত একটি অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।






















