আজ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

পুঠিয়ার পাড়া-মহল্লায় হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:44:13 am, Sunday, 25 October 2026
  • 14

পুঠিয়ার পাড়া-মহল্লায় হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পুঠিয়ার পাড়া-মহল্লায় মাদকের কারবার ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইনের পাশাপাশি চোলাই মদের উৎপাদন ও বিক্রিও বাড়ছে। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদকাসক্ত ও খুচরা বিক্রেতাদের আটক করা হলেও বড় কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কতটা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা।

তাদের অভিযোগ, পুঠিয়া পৌর এলাকার আদিবাসী পাড়ায় চোলাই মদের উৎপাদন ও বিক্রি বেড়েছে। পরিত্যক্ত কোমল পানীয়ের বোতলে মদ ভরে তা চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব মদ কিনতে এসে কেউ কেউ চুরির মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, আগে সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাসের অভিযানে নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

থানা থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে এমন কারবার চলার অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। শুধু আদিবাসী পাড়াই নয়, পুঠিয়া বাজার, মোল্লাপাড়া, কান্দ্রা গুচ্ছগ্রাম, ধোপাপাড়া, ফুলবাড়ি, নামাজগ্রাম, শিবপুর বাজার, বানেশ্বর হাট, বানেশ^র পূর্বপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, খুটিপাড়া, গরুহাটা, শিবপুরহাট, বিড়ালদহ, পীরগাছা তালুকদার গুচ্ছগ্রাম ও ঝলমলিয়া বাজারেও মাদক কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে।

বেলপুকুর থানা এলাকার বেলপুকুর, ভড়–য়াপাড়া, জামিরা, ডিসির মোড় ও বগারটেকেও মাদকের কারবার চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদক কেনাবেচা চললেও মূল সরবরাহ চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চোখে পড়ছে না। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কয়েকজন আটক হলেও তাতে মাদকের বিস্তার কতটা কমছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

মাদক কারবারের সঙ্গে কিশোর-যুবকদের জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। অর্থের প্রলোভনে তরুণদের দিয়ে মাদক সরবরাহের কাজ করানো হলে তার প্রভাব শুধু আইনশৃঙ্খলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছড়িয়ে পড়বে পরিবার ও সমাজেওÑ এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বানেশ্বর শাখার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন বলেন, তাদের তালিকায় বর্তমানে ২২ জন মাদক কারবারির নাম রয়েছে।

প্রতি মাসে নতুন নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়। তার দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও মামলা হচ্ছে। তার বক্তব্য, জনবল-সংকটের কারণে সব সময় অফিস খোলা রাখা সম্ভব হয় না। ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় থাকা ২২ জনের বাইরে আর কতজন জড়িত, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পাশাপাশি পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট তালিকা না থাকার বিষয়টিও প্রশ্ন তুলছে। প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, মাদকের উৎস ও সরবরাহপথ শনাক্ত করা, চোলাই মদের উৎপাদন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়। বিশেষ করে কিশোর-যুবকদের মাদক কারবারে ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে অফিস-আদালত ও ব্যাংক

পুঠিয়ার পাড়া-মহল্লায় হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

Update Time : 08:44:13 am, Sunday, 25 October 2026

পুঠিয়ার পাড়া-মহল্লায় মাদকের কারবার ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইনের পাশাপাশি চোলাই মদের উৎপাদন ও বিক্রিও বাড়ছে। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদকাসক্ত ও খুচরা বিক্রেতাদের আটক করা হলেও বড় কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কতটা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা।

তাদের অভিযোগ, পুঠিয়া পৌর এলাকার আদিবাসী পাড়ায় চোলাই মদের উৎপাদন ও বিক্রি বেড়েছে। পরিত্যক্ত কোমল পানীয়ের বোতলে মদ ভরে তা চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব মদ কিনতে এসে কেউ কেউ চুরির মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, আগে সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাসের অভিযানে নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

থানা থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে এমন কারবার চলার অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। শুধু আদিবাসী পাড়াই নয়, পুঠিয়া বাজার, মোল্লাপাড়া, কান্দ্রা গুচ্ছগ্রাম, ধোপাপাড়া, ফুলবাড়ি, নামাজগ্রাম, শিবপুর বাজার, বানেশ্বর হাট, বানেশ^র পূর্বপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, খুটিপাড়া, গরুহাটা, শিবপুরহাট, বিড়ালদহ, পীরগাছা তালুকদার গুচ্ছগ্রাম ও ঝলমলিয়া বাজারেও মাদক কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে।

বেলপুকুর থানা এলাকার বেলপুকুর, ভড়–য়াপাড়া, জামিরা, ডিসির মোড় ও বগারটেকেও মাদকের কারবার চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদক কেনাবেচা চললেও মূল সরবরাহ চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চোখে পড়ছে না। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কয়েকজন আটক হলেও তাতে মাদকের বিস্তার কতটা কমছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

মাদক কারবারের সঙ্গে কিশোর-যুবকদের জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। অর্থের প্রলোভনে তরুণদের দিয়ে মাদক সরবরাহের কাজ করানো হলে তার প্রভাব শুধু আইনশৃঙ্খলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছড়িয়ে পড়বে পরিবার ও সমাজেওÑ এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বানেশ্বর শাখার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন বলেন, তাদের তালিকায় বর্তমানে ২২ জন মাদক কারবারির নাম রয়েছে।

প্রতি মাসে নতুন নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়। তার দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও মামলা হচ্ছে। তার বক্তব্য, জনবল-সংকটের কারণে সব সময় অফিস খোলা রাখা সম্ভব হয় না। ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় থাকা ২২ জনের বাইরে আর কতজন জড়িত, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পাশাপাশি পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট তালিকা না থাকার বিষয়টিও প্রশ্ন তুলছে। প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, মাদকের উৎস ও সরবরাহপথ শনাক্ত করা, চোলাই মদের উৎপাদন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়। বিশেষ করে কিশোর-যুবকদের মাদক কারবারে ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।