আজ বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

জাতিসংঘের এআই হ্যাকাথনে বিশ্বসেরা বাংলাদেশ, নেতৃত্বে বদলগাছীর নাফিউ

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:34:51 pm, Wednesday, 21 October 2026
  • 8

জাতিসংঘের এআই হ্যাকাথনে বিশ্বসেরা বাংলাদেশ, নেতৃত্বে বদলগাছীর নাফিউ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

৩৭ দেশের কয়েকশ দলকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করল বাংলাদেশ! নওগাঁর বদলগাছীর মাস্টারপাড়ার ছেলে আবু নাছের মুহা. নাফিউর নেতৃত্বে জাতিসংঘের বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হ্যাকাথন ২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম zAI BD।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফাইনালে আন্তর্জাতিক বিচারকেরা বাংলাদেশকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এই জয়ের মূল কারিগর দলটির তৈরি এআই প্ল্যাটফর্ম ‘ক্লজচেইন’ (ClauseChain), যা বিভিন্ন দেশের আইন ও বিধিমালা বিশ্লেষণের পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতাও যাচাই করতে পারে। নাফিউ বদলগাছী সদর মাস্টারপাড়া এলাকার শিক্ষক আবুল হোসেনের ছেলে।

বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুলের ২০১০ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এই অর্জনে গর্বিত সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বদলগাছীর মানুষ। দলের নেতৃত্বেও ছিলেন বিডিরেনের ব্যবস্থাপক (ইনোভেশন) ও এআই প্রকৌশলী আবু নাছের মুহা. নাফিউ। অন্য সদস্যরা হলেন- বিডিরেনের সিনিয়র ডেভেলপার ও এআই প্রকৌশলী পুনম চৌধুরী, এআই প্রকৌশলী মো. সানিউল বাসির সাজ এবং আইনি পর্যালোচক মো. ইনসাফুল রহমান তুষার।

গবেষণা তত্ত্বাবধানে ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নওশিন আমিন শেখ। ‘ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল হ্যাকাথন ২০২৬ ইউজিং এআই ফর ডিজিটাল ট্রেড রেগুলেটরি অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতার আয়োজক জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইউএনএসকাপ)। বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল বাণিজ্যসংক্রান্ত আইন বিশ্লেষণে সহায়ক উন্মুক্ত এআই প্রযুক্তি তৈরিই ছিল লক্ষ্য।

পাঁচ মাস ধরে কয়েক ধাপের বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্বে ওঠে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের দল। ফাইনালের দিন প্রতিটি দলকে সরাসরি পরীক্ষা দিতে হয় আগে থেকে না জানানো একটি দেশ ও বিষয় নিয়ে। বিচারকেরা নিজেরাই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যাচাই করেন। উপস্থাপনা ও প্রশ্নোত্তর শেষে ঘোষিত হয় চ্যাম্পিয়নের নাম বাংলাদেশ।

দলটির তথ্য অনুযায়ী, ক্লজচেইন এখন অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও পূর্ব তিমুর—এই ১১ দেশের আইন বিশ্লেষণ করতে পারে। ১ হাজার ৪৯টি সরকারি উৎস থেকে সংগৃহীত ৭৪৬টি আইন ও বিধিমালা থেকে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি আইনি ধারা। পুরো প্ল্যাটফর্মটি উন্মুক্ত সোর্স প্রযুক্তিতে তৈরি।

দেশের অবকাঠামোতেই বিশ্বমানের এআই এই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ডেটা সেন্টারের এনভিডিয়া ডিজিএক্স স্পার্ক কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে দলটি নিজস্বভাবে ভাষা মডেল, টেক্সট বিশ্লেষণ মডেল ও ওসিআর প্রযুক্তি চালাতে পেরেছে। ফলে বিদেশি বাণিজ্যিক এআই সেবা বা এপিআইয়ের ওপর নির্ভর না করেই পুরো কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিযোগিতার মূল্যায়নে এই সক্ষমতাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দলনেতা নাফিউ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন ব্যবস্থা তৈরি করা, যার প্রতিটি তথ্য মূল সরকারি নথি পর্যন্ত যাচাই করা যায়। বিডিরেনের ডেটা সেন্টারের ডিজিএক্স স্পার্ক আমাদের দেখিয়েছে, বাংলাদেশের নিজস্ব অবকাঠামোতেই বিশ্বমানের এআই চালানো সম্ভব। এই অর্জন পুরো বাংলাদেশের। ‘ নাফিউ ফেসবুকে সাফল্যের খবর পোস্ট করার পর থেকেই বদলগাছীর সর্বস্তরের নানা বয়সি মানুষ তাকে শুভেচ্ছায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন।

বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. মুজাফফর হোসেন উকিল বলেন, ‘নাফিউ খুবই মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে, অষ্টম শ্রেণিতেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে উপজেলা সেরা হয়েছে। এরপর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে আবারও উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে। তার এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে শিক্ষক হিসেবে আমি সত্যিই অনেক গর্বিত।

তার জন্য দোয়া ও শুভকামনা রইল।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বয়স্ক ভাতার কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ

জাতিসংঘের এআই হ্যাকাথনে বিশ্বসেরা বাংলাদেশ, নেতৃত্বে বদলগাছীর নাফিউ

Update Time : 04:34:51 pm, Wednesday, 21 October 2026

৩৭ দেশের কয়েকশ দলকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করল বাংলাদেশ! নওগাঁর বদলগাছীর মাস্টারপাড়ার ছেলে আবু নাছের মুহা. নাফিউর নেতৃত্বে জাতিসংঘের বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হ্যাকাথন ২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম zAI BD।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফাইনালে আন্তর্জাতিক বিচারকেরা বাংলাদেশকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এই জয়ের মূল কারিগর দলটির তৈরি এআই প্ল্যাটফর্ম ‘ক্লজচেইন’ (ClauseChain), যা বিভিন্ন দেশের আইন ও বিধিমালা বিশ্লেষণের পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতাও যাচাই করতে পারে। নাফিউ বদলগাছী সদর মাস্টারপাড়া এলাকার শিক্ষক আবুল হোসেনের ছেলে।

বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুলের ২০১০ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এই অর্জনে গর্বিত সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বদলগাছীর মানুষ। দলের নেতৃত্বেও ছিলেন বিডিরেনের ব্যবস্থাপক (ইনোভেশন) ও এআই প্রকৌশলী আবু নাছের মুহা. নাফিউ। অন্য সদস্যরা হলেন- বিডিরেনের সিনিয়র ডেভেলপার ও এআই প্রকৌশলী পুনম চৌধুরী, এআই প্রকৌশলী মো. সানিউল বাসির সাজ এবং আইনি পর্যালোচক মো. ইনসাফুল রহমান তুষার।

গবেষণা তত্ত্বাবধানে ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নওশিন আমিন শেখ। ‘ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল হ্যাকাথন ২০২৬ ইউজিং এআই ফর ডিজিটাল ট্রেড রেগুলেটরি অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতার আয়োজক জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইউএনএসকাপ)। বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল বাণিজ্যসংক্রান্ত আইন বিশ্লেষণে সহায়ক উন্মুক্ত এআই প্রযুক্তি তৈরিই ছিল লক্ষ্য।

পাঁচ মাস ধরে কয়েক ধাপের বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্বে ওঠে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের দল। ফাইনালের দিন প্রতিটি দলকে সরাসরি পরীক্ষা দিতে হয় আগে থেকে না জানানো একটি দেশ ও বিষয় নিয়ে। বিচারকেরা নিজেরাই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যাচাই করেন। উপস্থাপনা ও প্রশ্নোত্তর শেষে ঘোষিত হয় চ্যাম্পিয়নের নাম বাংলাদেশ।

দলটির তথ্য অনুযায়ী, ক্লজচেইন এখন অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও পূর্ব তিমুর—এই ১১ দেশের আইন বিশ্লেষণ করতে পারে। ১ হাজার ৪৯টি সরকারি উৎস থেকে সংগৃহীত ৭৪৬টি আইন ও বিধিমালা থেকে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি আইনি ধারা। পুরো প্ল্যাটফর্মটি উন্মুক্ত সোর্স প্রযুক্তিতে তৈরি।

দেশের অবকাঠামোতেই বিশ্বমানের এআই এই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ডেটা সেন্টারের এনভিডিয়া ডিজিএক্স স্পার্ক কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে দলটি নিজস্বভাবে ভাষা মডেল, টেক্সট বিশ্লেষণ মডেল ও ওসিআর প্রযুক্তি চালাতে পেরেছে। ফলে বিদেশি বাণিজ্যিক এআই সেবা বা এপিআইয়ের ওপর নির্ভর না করেই পুরো কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিযোগিতার মূল্যায়নে এই সক্ষমতাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দলনেতা নাফিউ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন ব্যবস্থা তৈরি করা, যার প্রতিটি তথ্য মূল সরকারি নথি পর্যন্ত যাচাই করা যায়। বিডিরেনের ডেটা সেন্টারের ডিজিএক্স স্পার্ক আমাদের দেখিয়েছে, বাংলাদেশের নিজস্ব অবকাঠামোতেই বিশ্বমানের এআই চালানো সম্ভব। এই অর্জন পুরো বাংলাদেশের। ‘ নাফিউ ফেসবুকে সাফল্যের খবর পোস্ট করার পর থেকেই বদলগাছীর সর্বস্তরের নানা বয়সি মানুষ তাকে শুভেচ্ছায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন।

বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. মুজাফফর হোসেন উকিল বলেন, ‘নাফিউ খুবই মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে, অষ্টম শ্রেণিতেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে উপজেলা সেরা হয়েছে। এরপর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে আবারও উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে। তার এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে শিক্ষক হিসেবে আমি সত্যিই অনেক গর্বিত।

তার জন্য দোয়া ও শুভকামনা রইল।