আজ বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

ভারতে ১১০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ ও ১০ মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:29:29 pm, Tuesday, 20 October 2026
  • 25

ভারতে ১১০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ ও ১০ মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভারতের আসাম রাজ্যে দুই দিনে এক হাজার ১০০টির বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় এসব অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।

অভিযানে কয়েক দশক পুরোনো ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর এক দিনেই তিন জেলায় ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁও জেলায় ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার রয়েছে। পরদিন ১৮ অক্টোবর নগাঁও জেলার লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযান শুরুর আগেই অনেক বাসিন্দা খননযন্ত্র পৌঁছানোর খবর পেয়ে নিজেদের মালপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান। বনভূমি দখলমুক্ত করার এ অভিযান আরও চলতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লুটুমারির বাসিন্দারা নিজেদের অবৈধ দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। পূর্বপুরুষেরা বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রচলিত ‘টাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার আওতায় সরকারই তাঁদের সেখানে বসতি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছিল।

উচ্ছেদে বাড়ি হারানো আবদুল নূর জানান, ১৯৭৪ সালে তার পরিবারকে ওই জমি দেওয়া হয়েছিল। তবে উচ্ছেদ অভিযানে তাদের কয়েক দশকের বসতি হারাতে হয়েছে। এ সময় ১০টিরও বেশি পুরোনো মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্ছেদের শিকার পরিবারগুলোর কয়েকজন সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে তারা প্রতিকার পাননি।

গত জুনে আদালত তাদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার জনস্বার্থ সেখানে বসবাসের ব্যক্তিগত দাবির চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে লুটুমারি এলাকায় পৃথক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল।

ওই অভিযানে প্রায় এক হাজার ৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া হোজাই জেলার যমুনা-মৌডাঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং গোলাঘাট জেলার ২ নম্বর নেঘেরিবিল এলাকাতেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আসাম সরকার বলছে, বনভূমি ও সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় বসবাস করছেন এবং তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে বন বিভাগের কাজের সম্পর্ক ছিল।

সরকারি সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সংকলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসামে বিজেপির এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বনভূমি সংরক্ষণ ও সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বসতি, ভূমির অধিকার এবং উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

এসএসসি যোগ্যতার চাকরিতে ইঞ্জিনিয়ার ও এমবিএ: বর্তমান চাকরির বাজারের করুণ চিত্র

ভারতে ১১০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ ও ১০ মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা

Update Time : 03:29:29 pm, Tuesday, 20 October 2026

ভারতের আসাম রাজ্যে দুই দিনে এক হাজার ১০০টির বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় এসব অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।

অভিযানে কয়েক দশক পুরোনো ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর এক দিনেই তিন জেলায় ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁও জেলায় ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার রয়েছে। পরদিন ১৮ অক্টোবর নগাঁও জেলার লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযান শুরুর আগেই অনেক বাসিন্দা খননযন্ত্র পৌঁছানোর খবর পেয়ে নিজেদের মালপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান। বনভূমি দখলমুক্ত করার এ অভিযান আরও চলতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লুটুমারির বাসিন্দারা নিজেদের অবৈধ দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। পূর্বপুরুষেরা বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রচলিত ‘টাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার আওতায় সরকারই তাঁদের সেখানে বসতি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছিল।

উচ্ছেদে বাড়ি হারানো আবদুল নূর জানান, ১৯৭৪ সালে তার পরিবারকে ওই জমি দেওয়া হয়েছিল। তবে উচ্ছেদ অভিযানে তাদের কয়েক দশকের বসতি হারাতে হয়েছে। এ সময় ১০টিরও বেশি পুরোনো মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্ছেদের শিকার পরিবারগুলোর কয়েকজন সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে তারা প্রতিকার পাননি।

গত জুনে আদালত তাদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার জনস্বার্থ সেখানে বসবাসের ব্যক্তিগত দাবির চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে লুটুমারি এলাকায় পৃথক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল।

ওই অভিযানে প্রায় এক হাজার ৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া হোজাই জেলার যমুনা-মৌডাঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং গোলাঘাট জেলার ২ নম্বর নেঘেরিবিল এলাকাতেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আসাম সরকার বলছে, বনভূমি ও সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় বসবাস করছেন এবং তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে বন বিভাগের কাজের সম্পর্ক ছিল।

সরকারি সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সংকলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসামে বিজেপির এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বনভূমি সংরক্ষণ ও সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বসতি, ভূমির অধিকার এবং উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।