আজ বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

ঢিমেতালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:32:22 am, Tuesday, 20 October 2026
  • 22

ঢিমেতালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প ঘিরে জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। কোথাও পুরোনো পিচ তুলে ফেলে রাখা হয়েছে, কোথাও বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। আবার রোদ উঠলেই সড়কজুড়ে উড়ছে ধুলাবালি।

কাজের ধীরগতি, অব্যবস্থাপনা ও পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের মে মাসে।

প্রকল্পের আওতায় বিপজ্জনক বাঁক সরলীকরণ, বাজার এলাকায় চার লেন সড়ক নির্মাণ এবং নতুন কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক থাকলেও বর্তমানে ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দেড় বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে সওজ।

সম্প্রতি শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুরের ফুলতলা থেকে বহলাবাড়ি, বোর্ডঘর মোড় থেকে হরিনগর কালভার্ট এলাকা পর্যন্ত কাজ শুরু করলেও তা চলছে ঢিমেতালে এবং ধোবড়া বাজার থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের দিকে মহাসড়কের কয়েকটি অংশের পুরোনো পিচ তুলে ফেলে রাখা হয়েছে। এসব স্থানে পর্যাপ্ত সংস্কার ও ধুলা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি কোথাও কর্দমাক্ত, কোথাও ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।

বর্ষা শেষ হলেও বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। বৃষ্টি থামলে শুকনো সড়কে যানবাহন চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। এতে পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় যানজটও বাড়ছে। এ মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক হাসান আলী বলেন, শুরুতে কাজের গতি ভালো থাকলেও এখন একদিন যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করার পর তিন দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকতে দেখা যায়।

ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে গাড়ির টায়ার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে চালকদের। সড়কের দুরবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীরা। সোনামসজিদ স্থলবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হওয়ায় এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে।

সড়কের বেহাল অবস্থায় পণ্য পরিবহনেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা। ট্রাকচালক রুবেল আলী বলেন, পিচ তুলে ফেলা অংশে বৃষ্টির পর কাদামাটি তৈরি হচ্ছে। ভারী ট্রাক চলাচলের সময় কোথাও কোথাও চাকা দেবে যাচ্ছে। নির্মাণকাজ চলাকালে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে সওজ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রায়হান ইমতিয়াজ জানান, বর্ষা মৌসুমের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় গত ১৭ জুন থেকে সড়কের পিচ কার্পেটিংয়ের কাজ বন্ধ রাখা হলেও সম্প্রতি কাজ শুরু হয়েছে। আগে পিচ তুলে ফেলা অংশগুলোয় আপাতত পাথর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি জমে কোথাও খানাখন্দ সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ভরাট করার নির্দেশনা রয়েছে।

পাশাপাশি ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সড়কে পানি ছিটানোর স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজের দায়িত্বে থাকা রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন এন্টারপ্রাইজের সুপারভাইজধর মামুন বলেন, তারা প্রকল্পের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনুসরণ করেই কাজ করছেন। তবে কয়েক দিন ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাননি।

এ কারণে ওই এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তার জানা নেই।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের র‌্যাম বাড়াতে যা করবেন

ঢিমেতালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

Update Time : 04:32:22 am, Tuesday, 20 October 2026

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প ঘিরে জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। কোথাও পুরোনো পিচ তুলে ফেলে রাখা হয়েছে, কোথাও বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। আবার রোদ উঠলেই সড়কজুড়ে উড়ছে ধুলাবালি।

কাজের ধীরগতি, অব্যবস্থাপনা ও পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের মে মাসে।

প্রকল্পের আওতায় বিপজ্জনক বাঁক সরলীকরণ, বাজার এলাকায় চার লেন সড়ক নির্মাণ এবং নতুন কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক থাকলেও বর্তমানে ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দেড় বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে সওজ।

সম্প্রতি শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুরের ফুলতলা থেকে বহলাবাড়ি, বোর্ডঘর মোড় থেকে হরিনগর কালভার্ট এলাকা পর্যন্ত কাজ শুরু করলেও তা চলছে ঢিমেতালে এবং ধোবড়া বাজার থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের দিকে মহাসড়কের কয়েকটি অংশের পুরোনো পিচ তুলে ফেলে রাখা হয়েছে। এসব স্থানে পর্যাপ্ত সংস্কার ও ধুলা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি কোথাও কর্দমাক্ত, কোথাও ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।

বর্ষা শেষ হলেও বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। বৃষ্টি থামলে শুকনো সড়কে যানবাহন চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। এতে পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় যানজটও বাড়ছে। এ মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক হাসান আলী বলেন, শুরুতে কাজের গতি ভালো থাকলেও এখন একদিন যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করার পর তিন দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকতে দেখা যায়।

ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে গাড়ির টায়ার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে চালকদের। সড়কের দুরবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীরা। সোনামসজিদ স্থলবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হওয়ায় এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে।

সড়কের বেহাল অবস্থায় পণ্য পরিবহনেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা। ট্রাকচালক রুবেল আলী বলেন, পিচ তুলে ফেলা অংশে বৃষ্টির পর কাদামাটি তৈরি হচ্ছে। ভারী ট্রাক চলাচলের সময় কোথাও কোথাও চাকা দেবে যাচ্ছে। নির্মাণকাজ চলাকালে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে সওজ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রায়হান ইমতিয়াজ জানান, বর্ষা মৌসুমের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় গত ১৭ জুন থেকে সড়কের পিচ কার্পেটিংয়ের কাজ বন্ধ রাখা হলেও সম্প্রতি কাজ শুরু হয়েছে। আগে পিচ তুলে ফেলা অংশগুলোয় আপাতত পাথর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি জমে কোথাও খানাখন্দ সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ভরাট করার নির্দেশনা রয়েছে।

পাশাপাশি ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সড়কে পানি ছিটানোর স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজের দায়িত্বে থাকা রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন এন্টারপ্রাইজের সুপারভাইজধর মামুন বলেন, তারা প্রকল্পের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনুসরণ করেই কাজ করছেন। তবে কয়েক দিন ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাননি।

এ কারণে ওই এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তার জানা নেই।