আমরা নিজ নিজ ধর্ম পালন করি। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন একপাশে তাদের মসজিদে নামাজ আদায় করেন, আর আমরা পাশের মণ্ডপে পূজা অর্চনা করে থাকি। কখনো কারো সঙ্গে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিবাদ হয়নি।
আশা করি, ভবিষ্যতেও এমনটা বজায় থাকবে। ’ এভাবেই নিজেদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা জানাচ্ছিলেন শিক্ষক ও মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার পাল। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা কাকিনা পাল পাড়ায় দেয়ালের একপাশে মসজিদ আর অপর পাশে মন্দির অবস্থিত। একপাশে ধুপকাঠি অপর পাশে আতরের সুঘ্রাণ। প্রত্যেকে যে যার ধর্ম পালন করছেন। পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় উপাসনালয় থাকা সত্ত্বেও কোনোদিন অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। জানা যায়, ১৮৩৮ সালে কাকিনা পাল পাড়ায় কালীমন্দির ও দূর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ১৪৪ বছর পর ১৯৮২ সালে একই স্থানে কাকিনা বেলতলা জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই যুগের পর যুগ ধরে দুই ধর্মের মানুষ বিভেদ ভুলে শান্তি শৃঙ্খল ভাবে পালন করে আসছে ধর্মীয় রীতিনীতি। এক স্থানে মসজিদ ও মন্দির অবস্থিত হওয়ায় ব্যবধান শুধু একটি দেয়াল।
এটি ধর্মীয় সম্প্রীতির এমন উজ্জ্বল নিদর্শন। মসজিদের ছোট্ট একটি মাঠ,পাশেই কবরস্থান। তারসাথে দেয়াল ঘেঁষা মন্দির। একপাশে মসজিদ আর অন্যপাশে মন্দির। সময় হলে কেউ যাচ্ছেন নামাজে, আর কেউ যাচ্ছেন দেবী দর্শনে। স্বাধীনভাবে যে যার ধর্ম পালন করছেন সবাই, চলছেন সম্প্রীতি রক্ষা করে। মসজিদ কমিটির সভাপতি শিক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মন্দিরের কয়েক যুগ পর কাকিনা বেলতলা মসজিদ নির্মাণ হয়।
কয়েকযুগ থেকে এখানে যে যার ধর্ম পালন করে আসছি। কোন সংঘাত নেই আমাদের মাঝে। ইনশাআল্লাহ দুই সম্প্রদায়ের মানুষ এভাবেই বিভেদ ভুলে মিলেমিশে থাকতে চাই। মন্দির কমিটির সভাপতি অশ্বনী কুমার পাল জানান, মসজিদ ও মন্দিরের টাকা দিয়ে আমরা দুই ধর্মের মানুষ মাঝ স্থানে একটি দেয়াল নির্মাণ করেছি। আমাদের পূজা পার্বনে কোনো বিঘ্ন ঘটে না। ওনারা যখন নামাজ আদায় করেন তখন আমাদের পূজা অর্চনা বন্ধ থাকে।
আমাদের অনুষ্ঠান চলাকালে আজ অবধি কোনো সমস্যা হয়নি। এভাবে মিলেমিশে দুই ধর্মের মানুষ ধর্মীয় সম্পৃতি রক্ষা করে আসছি। মসজিদের সাবেক মোয়াজ্জিন বলেন, এখানে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়নি। আমার আগেও অনেক মোয়াজ্জিম আজান দিত। তাদের কাছ থেকেও কোনোদিন শুনি নাই যে, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। দুই ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে মিলেমিশে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এখানে প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পূজা অর্চনা করে আসছে। সনাতন ধর্মের লোক ও মুসলিম ধর্মের লোক তারা উভয়ের মধ্যে সু-সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আশা করি এখানে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না। এ ছাড়াও আমরা কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন পূজার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব।
কালীগঞ্জ থানার ওসি এস এম মনজুরে মওলা জানান, এখানে দুই সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। ইতিপূর্বে এমন কোনো নজির নেই যে, মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্ম পালন করতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এটি আসলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য মেলবন্ধন। এটি আসলে এক বিরল দৃষ্টান্ত। পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে।





















