আজ রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

প্যারিসে বিক্ষোভের সুযোগে সংঘবদ্ধ লুটপাট, ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৮ বাংলাদেশি উদ্যোক্তা

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:26:50 am, Sunday, 18 October 2026
  • 11

প্যারিসে বিক্ষোভের সুযোগে সংঘবদ্ধ লুটপাট, ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৮ বাংলাদেশি উদ্যোক্তা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

তিন মাস আগে নতুন একটি দোকান চালু করেছিলেন আজিম উদ্দিন। তবে সম্প্রতি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক বিক্ষোভের সুযোগে সংঘবদ্ধ লুটপাটের ঘটনায় তার সেই স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হামলায় অন্তত আটটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাবে সম্মিলিত ক্ষতি মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো মেলেনি। শূন্য হাতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জিএসআর ইনফোরমেটিক, থ্রি-জি ইনফরমেটিক, থ্রি-ডি ইনফোরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিকস। রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসানের দোকানে ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্য।

তাঁর ভাষ্য, দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সেখানে লুটপাট চালায় এবং প্রায় পুরো পুঁজি হারিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘এখন আমার উঠে দাঁড়ানোর মতো আর কোনো সম্বল নেই। ’ আজিম উদ্দিনের ফোন স্টোর ও বদি টেলিকম দুটিই পুরোপুরি লুট হয়েছে। একটি দোকানে রিয়া মানি ট্রান্সফারের কাউন্টারেই ছিল প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ।

দুই দোকানে তাঁর মোট ক্ষতি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো বলে দাবি করেছেন তিনি। ‘পুলিশকে ফোন দিয়েও সাড়া মেলেনি’ আজিম উদ্দিনের অভিযোগ, ‘পুলিশকে বারবার ফোন দিয়ে উদ্ধারের অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। ’ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীও জরুরি মুহূর্তে পুলিশের তাৎক্ষণিক সহায়তা না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে আঁচ করে অনেকে নিজ উদ্যোগে দোকান পাহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। মোবাইল ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান জানান, তাতেও সব জায়গায় লুট ঠেকানো যায়নি। দামি ফোন ও মানি ট্রান্সফারের নগদ টাকা থাকায় এসব দোকান লুটেরাদের কাছে বাড়তি আকর্ষণীয় ছিল বলে ব্যবসায়ীদের ধারণা।

লক্ষ্যবস্তু কি বাংলাদেশিরাই? প্যারিসের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এনামুল হক চৌধুরীর মতে, ‘প্রতিবাদ বা ক্ষোভ প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে, কিন্তু তার সুযোগ নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালাল, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। তিনি বলেন- ‘রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এমন নিরাপত্তাহীনতা ও নৈরাজ্য আগে কখনো দেখা যায়নি।

’ তবে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিক্ষোভ যেভাবে সহিংস হলো ১৭ শনিবার অক্টোবর জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও সরকারি সেবার মান নিয়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো মজুরি, পেনশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়েও দাবি তোলে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাবে ১১০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। আয়োজকদের দাবি, সংখ্যাটি প্রায় ৮ লাখ। বেশির ভাগ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, সরকারি ভবনে হামলা ও দোকানে লুটপাট হয়। প্রায় ৬শ’ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দোকান কীভাবে নিরাপদ রাখা যাবে, সেই দুশ্চিন্তায় প্যারিসের প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

প্যারিসে বিক্ষোভের সুযোগে সংঘবদ্ধ লুটপাট, ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৮ বাংলাদেশি উদ্যোক্তা

Update Time : 11:26:50 am, Sunday, 18 October 2026

তিন মাস আগে নতুন একটি দোকান চালু করেছিলেন আজিম উদ্দিন। তবে সম্প্রতি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক বিক্ষোভের সুযোগে সংঘবদ্ধ লুটপাটের ঘটনায় তার সেই স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হামলায় অন্তত আটটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাবে সম্মিলিত ক্ষতি মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো মেলেনি। শূন্য হাতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জিএসআর ইনফোরমেটিক, থ্রি-জি ইনফরমেটিক, থ্রি-ডি ইনফোরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিকস। রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসানের দোকানে ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্য।

তাঁর ভাষ্য, দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সেখানে লুটপাট চালায় এবং প্রায় পুরো পুঁজি হারিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘এখন আমার উঠে দাঁড়ানোর মতো আর কোনো সম্বল নেই। ’ আজিম উদ্দিনের ফোন স্টোর ও বদি টেলিকম দুটিই পুরোপুরি লুট হয়েছে। একটি দোকানে রিয়া মানি ট্রান্সফারের কাউন্টারেই ছিল প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ।

দুই দোকানে তাঁর মোট ক্ষতি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো বলে দাবি করেছেন তিনি। ‘পুলিশকে ফোন দিয়েও সাড়া মেলেনি’ আজিম উদ্দিনের অভিযোগ, ‘পুলিশকে বারবার ফোন দিয়ে উদ্ধারের অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। ’ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীও জরুরি মুহূর্তে পুলিশের তাৎক্ষণিক সহায়তা না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে আঁচ করে অনেকে নিজ উদ্যোগে দোকান পাহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। মোবাইল ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান জানান, তাতেও সব জায়গায় লুট ঠেকানো যায়নি। দামি ফোন ও মানি ট্রান্সফারের নগদ টাকা থাকায় এসব দোকান লুটেরাদের কাছে বাড়তি আকর্ষণীয় ছিল বলে ব্যবসায়ীদের ধারণা।

লক্ষ্যবস্তু কি বাংলাদেশিরাই? প্যারিসের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এনামুল হক চৌধুরীর মতে, ‘প্রতিবাদ বা ক্ষোভ প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে, কিন্তু তার সুযোগ নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালাল, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। তিনি বলেন- ‘রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এমন নিরাপত্তাহীনতা ও নৈরাজ্য আগে কখনো দেখা যায়নি।

’ তবে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিক্ষোভ যেভাবে সহিংস হলো ১৭ শনিবার অক্টোবর জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও সরকারি সেবার মান নিয়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো মজুরি, পেনশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়েও দাবি তোলে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাবে ১১০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। আয়োজকদের দাবি, সংখ্যাটি প্রায় ৮ লাখ। বেশির ভাগ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, সরকারি ভবনে হামলা ও দোকানে লুটপাট হয়। প্রায় ৬শ’ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দোকান কীভাবে নিরাপদ রাখা যাবে, সেই দুশ্চিন্তায় প্যারিসের প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা।