তালতলীতে পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, খাবারের উচ্ছিষ্ট, হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগলের নাড়িভুঁড়ি, পচা সবজি, পলিথিন, বিয়ারের ক্যান ও কাচের বোতলসহ নানা ধরনের আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে।
দিনের বেলায় এসব বর্জ্য ঘরে রেখে গভীর রাতে নদীতে ফেলা হয় বলেও দাবি তাদের। এ ঘটনায় নদীর পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের ছাড়পত্রের শর্ত পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলেদের প্রশ্ন, বর্জ্য অপসারণের নির্ধারিত ব্যবস্থা থাকার পরও নদীতে এসব আবর্জনা ফেলা হচ্ছে কেন? পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের শর্ত অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে কিনা, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত শুক্রবার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র-সংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা পায়রা নদীতে ফেলা হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, এসব বর্জ্যরে মধ্যে পচনশীল উচ্ছিষ্টের পাশাপাশি পলিথিন, প্লাস্টিক ও কাচের বোতলও রয়েছে। স্থানীয় জেলেদের দাবি, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হলেও বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়নি। দিনের বেলায় বর্জ্য ঘরে ওপরে গভীর রাতে তা নদীতে ফেলা হয়। বক্তারা বলেন, নদীতে নিয়মিত বর্জ্য ফেলা হলে পানির গুণগত মান নষ্ট হতে পারে।
এতে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের জীবিকা হুমকিতে পড়তে পারে। নদীতীরবর্তী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। স্থানীয় জেলেদের দাবি, বর্জ্য শোধনাগার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নেই। তাদের প্রশ্ন, শোধনাগার না থাকলে পরিবেশগত ছাড়পত্র কীভাবে দেওয়া হয়েছে? আর শোধনাগার থাকলে সেটি কার্যকর কিনা এবং পরিবেশের ছাড়পত্রের শর্ত অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের বর্জ্য একই শোধনাগারে ব্যবস্থাপনা করা যায় না। শিল্পকারখানার তরল বর্জ্য শোধনের জন্য বর্জ্য শোধনাগার প্রয়োজন। অন্যদিকে, খাবারের উচ্ছিষ্ট, পশুর নাড়িভুঁড়ি, পলিথিন ও কাচের বোতলসহ বিভিন্ন কঠিন বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নিরাপদ স্থানে অপসারণ করতে হয়। এসব বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে নদীতে ফেলা হলে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এতে পায়রা নদীর জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও নদীনির্ভর মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অনুমোদিত পরিকল্পনা, পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্ত এবং বাস্তবে বর্জ্য কোথায় ও কীভাবে অপসারণ করা হচ্ছে, তা সরেজমিনে দেখা দরকার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মিরাজ হাওলাদার বলেন, অভিযোগের পর প্রশাসন ডেকেছিল।
পরে তাদের আশ্বস্ত করেছি, নদীতে আর বর্জ্য ফেলা হবে না। এরপর থেকে বর্জ্য গাড়িতে করে আমতলী পৌরসভার নির্ধারিত ময়লা ফেলার স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ইউএনও অতীশ সরকার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ নষ্ট করে ও নদীর পানি দূষিত করে কাউকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















