দেশের গার্মেন্টস শিল্প খাতে শ্রমিকদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে এমনটা জানিয়েছেন তিনি। শ্রম সচিব বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট প্রকাশ করা হবে এবং মজুরি বোর্ড কার্যক্রম শুরু করবে। এ সময় চলতি অক্টোবরের মধ্যেই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মজুরি বোর্ডে কারা থাকবেন জানিয়ে তিনি বলেন, বোর্ডে একজন চেয়ারম্যান ছাড়াও নিরপেক্ষ একজন সদস্য, শ্রমিকদের একজন প্রতিনিধি এবং মালিক পক্ষের একজন প্রতিনিধি থাকবেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের একজন শ্রমিক ও একজন মালিক প্রতিনিধিও বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ ছাড়াও তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে এ খাতের প্রতিনিধিরা থাকবেন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিবেশী দেশগুলোর মজুরির হার এবং বিভিন্ন কারখানার বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নেয়া হবে।
মজুরি বোর্ড বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থাৎ, প্রশাসনিকভাবে মন্ত্রণালয় এককভাবে মজুরির পরিমাণ নির্ধারণ করবে না। মজুরি বোর্ড গঠনে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে জানিয়ে শ্রম সচিব বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য ইতোমধ্যে শ্রম অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রম অধিদপ্তর শ্রমিক ও মালিকপক্ষকে তাদের প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য চিঠি দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করবে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। শ্রমিক নেতাদেরও এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। সরকার শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা নিয়ে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা চলছে।
এ নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। শ্রম সচিব জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় শ্রমিকপক্ষ, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মজুরি বোর্ড গঠন এবং শ্রম বিধিমালা প্রণয়নসহ সাম্প্রতিক শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এ সময় শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আন্দোলনকে ঘিরে বাইরের কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সরকার সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।






















