বিদ্যুৎ সাশ্রয়, প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সব স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল।
এ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাফায়াত হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী ছিলেন। স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, অনুষদ, বিভাগ, গ্রন্থাগার ও প্রশাসনিক ভবনসহ উপযুক্ত স্থাপনাগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও যথাযথ ব্যবহারের পাশাপাশি নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি করা গেলে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান বাড়বে।
এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, দৈনন্দিন জীবনযাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। একইভাবে শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনার উপযোগী ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হবে।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে ছাত্রদল। এতে ভবনগুলোর ছাদের উপযোগিতা, বিদ্যুতের চাহিদা, কারিগরি সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ব্যয় যাচাই করে পর্যায়ক্রমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল, সরকারি বরাদ্দ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি উপযুক্ত আবাসিক হল ও অনুষদে পরীক্ষামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে পরবর্তী সময়ে পুরো ক্যাম্পাসে তা সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকারিতা মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন এবং একটি বাস্তবায়ন রূপরেখা প্রণয়নের কথাও উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হবে। উদ্যোগটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মো. শাফায়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলা, ব্যয় কমানো এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক জীবন স্বাভাবিক রাখতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সৌরবিদ্যুৎ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।





















