আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৭%

সাতক্ষীরায় জাকারিয়া হত্যার বিচার ও সব আসামির গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:25:10 pm, Saturday, 10 October 2026
  • 17
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন থেকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এজাহারভুক্ত সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনা না হলে পুরো জেলাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা নিউমার্কেট চত্বরে ‘জাকারিয়া হত্যার বিচার বাস্তবায়ন কমিটি’-র উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী, শিক্ষক, ছাত্র ও শ্রমিক নেতাসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

বিচার বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আযাদ হোসেন বেলালের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীনের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— যুগ্ম আহ্বায়ক: অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাঁড়, আবুল কাসেম, অ্যাডভোকেট আকবার হোসেন, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, মশিউর রহমান ও কামরুজ্জামান রাসেল। ছাত্রনেতা: শেখ আবু রায়হান, মো. নূরুন্নবী ও আল ইমরান ইমু।

শ্রমিক নেতা: আজিজ বাবু, নবাবজান ও অজিয়ার রহমানসহ আরও অনেকে। মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাকারিয়া নির্মমভাবে খুন হওয়ার পর প্রায় দেড় সপ্তাহ পার হতে চলেছে। অথচ এজাহারভুক্ত সকল আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের ভূমিকা ও তৎপরতা অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা আরও বলেন, মামলার প্রধান আসামি নাহিদসহ ৩ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও বাকি আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

এই গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় পুলিশের নিজস্ব তৎপরতার চেয়ে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাই বেশি ছিল। তাই অনতিবিলম্বে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশকে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণার আলটিমেটাম দেন বক্তারা। উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর (শুক্রবার) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

সেখানে চায়ের দোকানদার রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে ‘কিশোর গ্যাং’ নেতা নাহিদসহ তার সহযোগীদের বাগবিতণ্ডা ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কলেজ ছাত্র জাকারিয়া বাপ্পি হাসানকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তার ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে নাহিদ ধারালো ছুরি দিয়ে জাকারিয়াকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাকারিয়ার মৃত্যু হয়।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ভাই শাহারিয়ার খাঁন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭ জনকে আসামি করা হয়। এ পর্যন্ত পুলিশ প্রধান আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

অস্ট্রেলিয়ায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে চিকিৎসকের দোষ স্বীকার

সাতক্ষীরায় জাকারিয়া হত্যার বিচার ও সব আসামির গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

Update Time : 07:25:10 pm, Saturday, 10 October 2026

সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন থেকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এজাহারভুক্ত সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনা না হলে পুরো জেলাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা নিউমার্কেট চত্বরে ‘জাকারিয়া হত্যার বিচার বাস্তবায়ন কমিটি’-র উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী, শিক্ষক, ছাত্র ও শ্রমিক নেতাসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

বিচার বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আযাদ হোসেন বেলালের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীনের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— যুগ্ম আহ্বায়ক: অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাঁড়, আবুল কাসেম, অ্যাডভোকেট আকবার হোসেন, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, মশিউর রহমান ও কামরুজ্জামান রাসেল। ছাত্রনেতা: শেখ আবু রায়হান, মো. নূরুন্নবী ও আল ইমরান ইমু।

শ্রমিক নেতা: আজিজ বাবু, নবাবজান ও অজিয়ার রহমানসহ আরও অনেকে। মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাকারিয়া নির্মমভাবে খুন হওয়ার পর প্রায় দেড় সপ্তাহ পার হতে চলেছে। অথচ এজাহারভুক্ত সকল আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের ভূমিকা ও তৎপরতা অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা আরও বলেন, মামলার প্রধান আসামি নাহিদসহ ৩ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও বাকি আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

এই গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় পুলিশের নিজস্ব তৎপরতার চেয়ে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাই বেশি ছিল। তাই অনতিবিলম্বে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশকে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণার আলটিমেটাম দেন বক্তারা। উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর (শুক্রবার) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

সেখানে চায়ের দোকানদার রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে ‘কিশোর গ্যাং’ নেতা নাহিদসহ তার সহযোগীদের বাগবিতণ্ডা ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কলেজ ছাত্র জাকারিয়া বাপ্পি হাসানকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তার ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে নাহিদ ধারালো ছুরি দিয়ে জাকারিয়াকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাকারিয়ার মৃত্যু হয়।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ভাই শাহারিয়ার খাঁন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭ জনকে আসামি করা হয়। এ পর্যন্ত পুলিশ প্রধান আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।