আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮১%

সারের লাইসেন্স দিতে প্রশাসনের লোকেরা কত নিয়েছেন সবই জানি: এমপি মাজেদ

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:45:16 pm, Friday, 9 October 2026
  • 22
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সারের ডিলার নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। সারের লাইসেন্স দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (অক্টোবর) দুপুর ১টায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে তিনি এই পোস্টটি দেন। পোস্টে এমপি মাজেদ অভিযোগ করেন, সারের লাইসেন্স দেওয়ার নামে অনৈতিক লেনদেন ও আওয়ামী লীগের লোকদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সারের লাইসেন্স নিয়ে বিভিন্ন মানুষ টাকা দিতে চায়, আমি সেগুলো বাদ দিয়েছি। ঈশ্বরগঞ্জে এক টাকার অনৈতিক সুবিধা আমি নেই না, কোনদিন নিবোও না।

সরিসা ইউনিয়নে লাইসেন্স বণ্টনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরিসা ইউনিয়নে এমন লাইসেন্স যখন আমাদের ত্যাগি লোকের বাইরে যায় আর ফ্যাসিষ্টের লোক, টাকা নিয়ে ঘোরা লোভী মানুষ যখন সবাইকে ডিঙিয়ে লাইসেন্স পায়, তখন উপজেলা এবং জেলার সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, আমার কাছে তার পক্ষে ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলার কারণ খুঁজে পাই।

আমি সব জানি, এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাই নাই। কে কোথা থেকে কত পারসেন্ট টাকা নেয় তা আমি জানি। যতক্ষণ এর অফিশিয়াল উত্তর না পাবো, ঈশ্বরগঞ্জে কেউ কোন মনোনীত লোক সারের লাইসেন্স নিবে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য আরও বলেন, আমাদের লোকেরা মামলা, হামলা খাবে আর আপনারা পয়সার বিনিময়ে সারের লাইসেন্স দিবেন তা হবে না। আমরা নিজের টাকায় থানায় গাড়ি কিনে দিবো, আর আপনারা ফ্যাসিষ্টকে সাপোর্ট করবেন তা হবে না।

পোস্টের শেষ অংশে প্রশাসনের শুদ্ধি অভিযানের দাবি জানিয়ে এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু লিখেন, কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানো দরকার। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট জেলার ১৪টি উপজেলার ১৪৫টি ইউনিয়নে ১৫৬ জন সার ডিলার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

এর মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১২ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। জেলায় এ নিয়োগের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়। আজ সকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা থেকে ময়মনসিংহ জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশ এবং সারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদিত তালিকায় ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে জিয়া এন্টারপ্রাইজ। জেলা কমিটির সুপারিশে প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল এক নম্বরে। তবে সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ হোয়াটসঅ্যাপে উপজেলা থেকে জেলায় পাঠানো একটি তালিকা পাঠিয়ে দাবি করেন, সরিষা ইউনিয়নের জন্য সেখানে দুজনের নাম ছিল।

প্রথম স্থানে ছিল জিওস্ট্রাক্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের মালিক তাকলিমা আক্তারের নাম। দ্বিতীয় স্থানে ছিল জিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক জিয়াউর রহমান ভূঁইয়ার নাম। লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ফেসবুক পোস্টে বলেন, সব জায়গায় তালিকায় থাকা এক নম্বর ব্যক্তিকেই ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরিষা ইউনিয়নে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সে তালিকায় এক নম্বরে ছিল না।

এখন যে নিয়োগ পেয়েছে, সে টাকা নিয়ে ঘুরেছে। তালিকায় থাকা দুই নম্বর ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো ইন্টারেস্ট (স্বার্থ) আছে। তা না হলে কেন এমন করা হবে? উপজেলা থেকে তালিকা আসলেও ডিসি এটা চেঞ্জ করেছেন, এমনকি ইউএনও তলেতলে কলকাঠি নেড়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া জিয়াউর রহমান নিজেকে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য বলে দাবি করেন।

তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি আবেদন করার পর সংসদ সদস্যের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি কাউকে একটি টাকাও ঘুষ দিইনি। জেলা প্রশাসনের কারও সঙ্গেও যোগাযোগ করিনি। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, শুধু জেলা প্রশাসককে জানিয়েছিলাম, দ্বিতীয়জন আমার কাছে অভিযোগ দিয়ে গেছে প্রথমজনের আয়কর রিটার্ন নেই। নিয়োগের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক ছিল।

বিষয়টি সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছিল। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, যিনি বাদ গেছেন, নিশ্চয়ই তার কোনো ঘাটতি ছিল। তালিকায় থাকা দুই নম্বর ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখুন-তার কী ঘাটতি ছিল। নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালার বাইরে কোনো কিছু করা হয়নি। সংক্ষুব্ধ যে কেউ হতেই পারে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ফ্রান্সে সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠিত

সারের লাইসেন্স দিতে প্রশাসনের লোকেরা কত নিয়েছেন সবই জানি: এমপি মাজেদ

Update Time : 07:45:16 pm, Friday, 9 October 2026

সারের ডিলার নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। সারের লাইসেন্স দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (অক্টোবর) দুপুর ১টায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে তিনি এই পোস্টটি দেন। পোস্টে এমপি মাজেদ অভিযোগ করেন, সারের লাইসেন্স দেওয়ার নামে অনৈতিক লেনদেন ও আওয়ামী লীগের লোকদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সারের লাইসেন্স নিয়ে বিভিন্ন মানুষ টাকা দিতে চায়, আমি সেগুলো বাদ দিয়েছি। ঈশ্বরগঞ্জে এক টাকার অনৈতিক সুবিধা আমি নেই না, কোনদিন নিবোও না।

সরিসা ইউনিয়নে লাইসেন্স বণ্টনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরিসা ইউনিয়নে এমন লাইসেন্স যখন আমাদের ত্যাগি লোকের বাইরে যায় আর ফ্যাসিষ্টের লোক, টাকা নিয়ে ঘোরা লোভী মানুষ যখন সবাইকে ডিঙিয়ে লাইসেন্স পায়, তখন উপজেলা এবং জেলার সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, আমার কাছে তার পক্ষে ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলার কারণ খুঁজে পাই।

আমি সব জানি, এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাই নাই। কে কোথা থেকে কত পারসেন্ট টাকা নেয় তা আমি জানি। যতক্ষণ এর অফিশিয়াল উত্তর না পাবো, ঈশ্বরগঞ্জে কেউ কোন মনোনীত লোক সারের লাইসেন্স নিবে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য আরও বলেন, আমাদের লোকেরা মামলা, হামলা খাবে আর আপনারা পয়সার বিনিময়ে সারের লাইসেন্স দিবেন তা হবে না। আমরা নিজের টাকায় থানায় গাড়ি কিনে দিবো, আর আপনারা ফ্যাসিষ্টকে সাপোর্ট করবেন তা হবে না।

পোস্টের শেষ অংশে প্রশাসনের শুদ্ধি অভিযানের দাবি জানিয়ে এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু লিখেন, কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানো দরকার। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট জেলার ১৪টি উপজেলার ১৪৫টি ইউনিয়নে ১৫৬ জন সার ডিলার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

এর মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১২ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। জেলায় এ নিয়োগের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়। আজ সকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা থেকে ময়মনসিংহ জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশ এবং সারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদিত তালিকায় ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে জিয়া এন্টারপ্রাইজ। জেলা কমিটির সুপারিশে প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল এক নম্বরে। তবে সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ হোয়াটসঅ্যাপে উপজেলা থেকে জেলায় পাঠানো একটি তালিকা পাঠিয়ে দাবি করেন, সরিষা ইউনিয়নের জন্য সেখানে দুজনের নাম ছিল।

প্রথম স্থানে ছিল জিওস্ট্রাক্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের মালিক তাকলিমা আক্তারের নাম। দ্বিতীয় স্থানে ছিল জিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক জিয়াউর রহমান ভূঁইয়ার নাম। লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ফেসবুক পোস্টে বলেন, সব জায়গায় তালিকায় থাকা এক নম্বর ব্যক্তিকেই ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরিষা ইউনিয়নে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সে তালিকায় এক নম্বরে ছিল না।

এখন যে নিয়োগ পেয়েছে, সে টাকা নিয়ে ঘুরেছে। তালিকায় থাকা দুই নম্বর ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো ইন্টারেস্ট (স্বার্থ) আছে। তা না হলে কেন এমন করা হবে? উপজেলা থেকে তালিকা আসলেও ডিসি এটা চেঞ্জ করেছেন, এমনকি ইউএনও তলেতলে কলকাঠি নেড়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া জিয়াউর রহমান নিজেকে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য বলে দাবি করেন।

তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি আবেদন করার পর সংসদ সদস্যের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি কাউকে একটি টাকাও ঘুষ দিইনি। জেলা প্রশাসনের কারও সঙ্গেও যোগাযোগ করিনি। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, শুধু জেলা প্রশাসককে জানিয়েছিলাম, দ্বিতীয়জন আমার কাছে অভিযোগ দিয়ে গেছে প্রথমজনের আয়কর রিটার্ন নেই। নিয়োগের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক ছিল।

বিষয়টি সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছিল। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, যিনি বাদ গেছেন, নিশ্চয়ই তার কোনো ঘাটতি ছিল। তালিকায় থাকা দুই নম্বর ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখুন-তার কী ঘাটতি ছিল। নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালার বাইরে কোনো কিছু করা হয়নি। সংক্ষুব্ধ যে কেউ হতেই পারে।