যুক্তরাষ্ট্রের গালফ কোস্ট বা উপসাগরীয় উপকূলের দিকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন ‘ইসাইয়াস’। প্রচণ্ড বাতাসের সাথে ধেয়ে আসা এই হারিকেনটি উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস ও ভয়াবহ বন্যার বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানায়, এই হারিকেনের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরের জানালার ওপর কাঠের তক্তা লাগিয়ে ও বালির বস্তা সাজিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন। একই সময়ে মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসাইয়াস’ হলো আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেন; স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাতে স্থলভাগে আঘাত হানার সময় এটি ফ্লোরিডা প্যানহ্যান্ডেল, দক্ষিণ আলাবামা এবং দক্ষিণ মিসিসিপিতে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর প্রভাবে টেনেসি ও নর্থ ক্যারোলিনার মতো উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতেও ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার আশঙ্কা আছে। আলাবামার ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাটাগরি ২-এর এই হারিকেনটি আলাবামা ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সীমানা বরাবর আঘাত হানার এবং পেনসাকোলা উপসাগর এলাকায় প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। হারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ‘ইসাইয়াস’-এর সর্বোচ্চ একটানা বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০৫ মাইল (১৬৫ কিলোমিটার)।
এটি ঘণ্টায় ১৪ মাইল (২২ কিলোমিটার) গতিতে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং মিসিসিপি নদীর মোহনা থেকে প্রায় ২৩০ মাইল (৩৭০ কিলোমিটার) দক্ষিণে অবস্থান করছে। এদিকে মেক্সিকো উপকূলে বুধবার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় হিসেবে সৃষ্ট এবং বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হারিকেনে পরিণত হওয়া ‘সাইমন’-এর শক্তি বেড়ে ক্যাটাগরি ৪ হারিকেনে রূপ নেওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সিএনএনএর আবহাওয়াবিদ মেরি গিলবার্ট বলেছেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এটি একটি ‘আই’ বা কেন্দ্রস্থলের শান্ত বৃত্তাকার অঞ্চল (যা শক্তিশালী হারিকেনের লক্ষণ) তৈরি করেছিল, যা মূলত অপরিবর্তিতই রয়েছে। তবে আজ সকালে এটিকে আমার কাছে সাধারণ কোনো শক্তিশালী ‘ক্যাটাগরি ২’ হারিকেনের মতো মনে হচ্ছে না। তিনি বলেন, বায়ুমণ্ডলে বিদ্যমান বাতাসের বাধার কারণে এর বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার বেশির ভাগ অংশই ঘূর্ণামান কেন্দ্রস্থলের উত্তর ও পূর্ব দিকে সরে গেছে।
সপ্তাহের শুরুর দিকে সৃষ্টির পর থেকেই ইসাইয়াসকে থেমে থেমে এই প্রতিকূল বাতাসের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এটি একটি শক্তিশালী হারিকেন হওয়া সত্ত্বেও, ওই বাতাসের কারণেই এটি আরও বিধ্বংসী বা তীব্র আকার ধারণ করতে পারেনি।
























