আজ বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় শিক্ষার্থীদের

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:25:49 pm, Thursday, 8 October 2026
  • 15
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশের তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদার মধ্যে ব্যবধান এখনো বড়। শুধু উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি নয়, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের উপযোগী প্রশিক্ষণ এখন সময়ের দাবি।

এই বাস্তবতায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বৃত্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীদারত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে বাড়ছে দুই দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ। বিশেষ করে চিকিৎসা শিক্ষায় বাংলাদেশি অনেক তরুণের এখন অন্যতম পছন্দ বন্ধুপ্রতিম দেশটি।

কিন্তু দেশটি থেকে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ে এসে তাদের ভুগতে হচ্ছে দুর্ভোগ। এদের একটা বড় অংশ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সনদ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছেন না। ফলে এত বছর পড়ালেখা করেও অনেককে বেকার জীবন কাটাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সহযোগিতার পরিধি এখন শুধু বৃত্তি বা উচ্চশিক্ষার সুযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

দুই দেশের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গবেষণা এবং চীনা ভাষা শিক্ষার সুযোগ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারের উপযোগী করে তুলতে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্প-শিক্ষা সংযোগে জোর দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি, বৃত্তি ও গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বৃত্তি ও গবেষণার সুযোগ : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক শেষ করে বর্তমানে চীনের তসিংহু ইউনিভার্সিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্স বিষয়ে পড়ছেন আসিফুর রহমান।

চীনা সরকারি বৃত্তির (সিজিএস) আওতায় তিনি সম্পূর্ণ অর্থায়নে মাস্টার্স করছেন। আসিফুর রহমান জানান, স্নাতক শেষ করার পর বিশ্বমানের গবেষণাগারে কাজ করার আগ্রহ থেকেই তিনি চীনের বৃত্তির জন্য আবেদন করেন। একাডেমিক ফল ও গবেষণা প্রস্তাবনার ভিত্তিতে তিনি এই সুযোগ পান। তার অভিজ্ঞতায়, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নত গবেষণাগার, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং গবেষণায় অর্থায়ন উচ্চশিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।

তবে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়াও সহজ ছিল না বলে জানান তিনি। বিশেষ করে মান্দারিন ভাষা ও চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্রথম দিকে সমস্যা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে ভাষাগত দক্ষতা বাড়ায় শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশে যোগাযোগ সহজ হয়েছে। সুযোগের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের চিত্র : অন্যদিকে, চীনে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ থাকলেও সুযোগ পাওয়া সবার জন্য সমান সহজ নয়।

ঢাকার একটি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা শেষ করা তানজিলা আক্তার চীনে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তির চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সুযোগ পাননি। তানজিলার অভিজ্ঞতায়, বৃত্তি ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকা, ভাষাগত যোগ্যতার বিভিন্ন শর্ত এবং তীব্র প্রতিযোগিতা তার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ব্যক্তিগত অর্থায়নে চীনে পড়াশোনার খরচ বহন করার সক্ষমতা না থাকায় শেষ পর্যন্ত দেশেই উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে। তানজিলার মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষা সহযোগিতার সুফল শুধু বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পলিটেকনিক, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার্থীদের কাছেও পৌঁছানো প্রয়োজন। কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রভাব : চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর একটি হলো উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কর্মবাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরি করা।

প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কাজের উপযোগী করে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের শিক্ষা সহযোগিতার গুরুত্বও বাড়ছে। চীনে আইটি, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দেশে ফিরে বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে চীনা ভাষা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং দুই দেশের ব্যাবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে এসব শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানে প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়ছে, তা বোঝার জন্য নিয়োগ ও বেতনসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য আরও প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় চীনা সহযোগিতার প্রভাব : চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর একটি এখন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একাডেমিক অংশীদারত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, গবেষণা সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও সম্প্রসারিত করছে।

বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণার সুযোগ দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চীনের উন্নত গবেষণাগার, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও গবেষণা অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় তাদের গবেষণার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়ছে।

এই অংশীদারত্বের ফলে বাংলাদেশের কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিগত সুবিধাও পাচ্ছে। আইসিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ল্যাব ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রেও যৌথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে। ফলে শুধু শিক্ষার্থীর দক্ষতা নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

তবে বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশে কতটা কাজে লাগানো যাচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন। চীন থেকে এআই, রোবোটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা সায়েন্স বা অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফেরা শিক্ষার্থীরা অনেক সময় পর্যাপ্ত গবেষণাগার, অর্থায়ন কিংবা সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের সুযোগের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হন। চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা : চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য। ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও চীনে দৈনন্দিন জীবন, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অনেক ক্ষেত্রে গবেষণা ও শিল্পপর্যায়ের যোগাযোগে মান্দারিন ভাষার প্রয়োজন হয়। ফলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় ও প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ে। অন্যদিকে, বৃত্তি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়লেও বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণের তুলনায় এসব সুযোগ এখনো সীমিত।

প্রত্যন্ত অঞ্চল ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য, আবেদন প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতার শর্ত সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা পান না। সে জন্য তথ্যপ্রবাহ ও আবেদন-সহায়তা আরও সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। চীনের ইউনান প্রদেশের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে আসার ৪ বছর পরও বিএমডিসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে হতাশায় দিন পার করতে হচ্ছে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা তীর্থ সরকারকে।

তিনি বলেন, সব মিলিয়ে ৫ বছর পড়ালেখা করে এমবিবিএস পাস করে দেশে এসেছি এখানে ইন্টার্নি করে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবা বলে। কিন্তু ৪ বছরে অন্তত ১০ বার বিএমডিসি’র পরীক্ষায় বসেছি। একবারও পাস করতে পারিনি। এখন মনে হচ্ছে, ওই দেশে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্তটাই ভুল ছিল। এদিকে চীনে পড়াশোনার সঙ্গে বিএমডিসি’র পরীক্ষা পাসের কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

যারা মেধাবী তারা তো পাস করছেই। তবে অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসা শিক্ষার পাশাপাশি এআই, রোবোটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, ন্যানোটেকনোলজি কিংবা উন্নত প্রকৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফেরার পরও শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত গবেষণাগার, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও অর্থায়নের সুযোগ পান। আর এতে করে অর্জিত দক্ষতার পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ২০৪১ সালের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে দক্ষ মানবসম্পদ ও কারিগরি শিক্ষা অপরিহার্য। চীনের সাথে অতি সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর মাধ্যমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে। বৃত্তি ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ যাতে কেবল ঢাকা বা বড় শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর জন্য বিশেষ কোটা এবং তথ্য সহায়তার চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ইউজিসির নীতিগত অবস্থান হলো, অনেক বেসরকারি বা মাঝারি মানের চীনা কলেজের ডিগ্রির মান যাচাইয়ে ইউজিসি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যাতে চীন থেকে ফিরে এসে ডিগ্রির স্বীকৃতি বা ইকুইভ্যালেন্স সার্টিফিকেট পেতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় না পড়েন, সে জন্য একটি সমন্বিত গাইডলাইন তৈরির কাজ চলছে।

এ ছাড়া, যৌথ পিএইচডি প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্রেডিট ট্রান্সফার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় শিক্ষার্থীদের

Update Time : 10:25:49 pm, Thursday, 8 October 2026

বাংলাদেশের তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদার মধ্যে ব্যবধান এখনো বড়। শুধু উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি নয়, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের উপযোগী প্রশিক্ষণ এখন সময়ের দাবি।

এই বাস্তবতায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বৃত্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীদারত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে বাড়ছে দুই দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ। বিশেষ করে চিকিৎসা শিক্ষায় বাংলাদেশি অনেক তরুণের এখন অন্যতম পছন্দ বন্ধুপ্রতিম দেশটি।

কিন্তু দেশটি থেকে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ে এসে তাদের ভুগতে হচ্ছে দুর্ভোগ। এদের একটা বড় অংশ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সনদ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছেন না। ফলে এত বছর পড়ালেখা করেও অনেককে বেকার জীবন কাটাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সহযোগিতার পরিধি এখন শুধু বৃত্তি বা উচ্চশিক্ষার সুযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

দুই দেশের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গবেষণা এবং চীনা ভাষা শিক্ষার সুযোগ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারের উপযোগী করে তুলতে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্প-শিক্ষা সংযোগে জোর দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি, বৃত্তি ও গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বৃত্তি ও গবেষণার সুযোগ : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক শেষ করে বর্তমানে চীনের তসিংহু ইউনিভার্সিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্স বিষয়ে পড়ছেন আসিফুর রহমান।

চীনা সরকারি বৃত্তির (সিজিএস) আওতায় তিনি সম্পূর্ণ অর্থায়নে মাস্টার্স করছেন। আসিফুর রহমান জানান, স্নাতক শেষ করার পর বিশ্বমানের গবেষণাগারে কাজ করার আগ্রহ থেকেই তিনি চীনের বৃত্তির জন্য আবেদন করেন। একাডেমিক ফল ও গবেষণা প্রস্তাবনার ভিত্তিতে তিনি এই সুযোগ পান। তার অভিজ্ঞতায়, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নত গবেষণাগার, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং গবেষণায় অর্থায়ন উচ্চশিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।

তবে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়াও সহজ ছিল না বলে জানান তিনি। বিশেষ করে মান্দারিন ভাষা ও চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্রথম দিকে সমস্যা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে ভাষাগত দক্ষতা বাড়ায় শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশে যোগাযোগ সহজ হয়েছে। সুযোগের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের চিত্র : অন্যদিকে, চীনে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ থাকলেও সুযোগ পাওয়া সবার জন্য সমান সহজ নয়।

ঢাকার একটি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা শেষ করা তানজিলা আক্তার চীনে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তির চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সুযোগ পাননি। তানজিলার অভিজ্ঞতায়, বৃত্তি ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকা, ভাষাগত যোগ্যতার বিভিন্ন শর্ত এবং তীব্র প্রতিযোগিতা তার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ব্যক্তিগত অর্থায়নে চীনে পড়াশোনার খরচ বহন করার সক্ষমতা না থাকায় শেষ পর্যন্ত দেশেই উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে। তানজিলার মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষা সহযোগিতার সুফল শুধু বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পলিটেকনিক, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার্থীদের কাছেও পৌঁছানো প্রয়োজন। কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রভাব : চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর একটি হলো উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কর্মবাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরি করা।

প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কাজের উপযোগী করে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের শিক্ষা সহযোগিতার গুরুত্বও বাড়ছে। চীনে আইটি, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দেশে ফিরে বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে চীনা ভাষা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং দুই দেশের ব্যাবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে এসব শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানে প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়ছে, তা বোঝার জন্য নিয়োগ ও বেতনসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য আরও প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় চীনা সহযোগিতার প্রভাব : চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর একটি এখন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একাডেমিক অংশীদারত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, গবেষণা সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও সম্প্রসারিত করছে।

বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণার সুযোগ দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চীনের উন্নত গবেষণাগার, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও গবেষণা অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় তাদের গবেষণার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়ছে।

এই অংশীদারত্বের ফলে বাংলাদেশের কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিগত সুবিধাও পাচ্ছে। আইসিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ল্যাব ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রেও যৌথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে। ফলে শুধু শিক্ষার্থীর দক্ষতা নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

তবে বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশে কতটা কাজে লাগানো যাচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন। চীন থেকে এআই, রোবোটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা সায়েন্স বা অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফেরা শিক্ষার্থীরা অনেক সময় পর্যাপ্ত গবেষণাগার, অর্থায়ন কিংবা সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের সুযোগের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হন। চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা : চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য। ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও চীনে দৈনন্দিন জীবন, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অনেক ক্ষেত্রে গবেষণা ও শিল্পপর্যায়ের যোগাযোগে মান্দারিন ভাষার প্রয়োজন হয়। ফলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় ও প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ে। অন্যদিকে, বৃত্তি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়লেও বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণের তুলনায় এসব সুযোগ এখনো সীমিত।

প্রত্যন্ত অঞ্চল ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য, আবেদন প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতার শর্ত সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা পান না। সে জন্য তথ্যপ্রবাহ ও আবেদন-সহায়তা আরও সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। চীনের ইউনান প্রদেশের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে আসার ৪ বছর পরও বিএমডিসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে হতাশায় দিন পার করতে হচ্ছে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা তীর্থ সরকারকে।

তিনি বলেন, সব মিলিয়ে ৫ বছর পড়ালেখা করে এমবিবিএস পাস করে দেশে এসেছি এখানে ইন্টার্নি করে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবা বলে। কিন্তু ৪ বছরে অন্তত ১০ বার বিএমডিসি’র পরীক্ষায় বসেছি। একবারও পাস করতে পারিনি। এখন মনে হচ্ছে, ওই দেশে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্তটাই ভুল ছিল। এদিকে চীনে পড়াশোনার সঙ্গে বিএমডিসি’র পরীক্ষা পাসের কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

যারা মেধাবী তারা তো পাস করছেই। তবে অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসা শিক্ষার পাশাপাশি এআই, রোবোটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, ন্যানোটেকনোলজি কিংবা উন্নত প্রকৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফেরার পরও শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত গবেষণাগার, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও অর্থায়নের সুযোগ পান। আর এতে করে অর্জিত দক্ষতার পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ২০৪১ সালের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে দক্ষ মানবসম্পদ ও কারিগরি শিক্ষা অপরিহার্য। চীনের সাথে অতি সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর মাধ্যমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে। বৃত্তি ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ যাতে কেবল ঢাকা বা বড় শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর জন্য বিশেষ কোটা এবং তথ্য সহায়তার চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ইউজিসির নীতিগত অবস্থান হলো, অনেক বেসরকারি বা মাঝারি মানের চীনা কলেজের ডিগ্রির মান যাচাইয়ে ইউজিসি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যাতে চীন থেকে ফিরে এসে ডিগ্রির স্বীকৃতি বা ইকুইভ্যালেন্স সার্টিফিকেট পেতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় না পড়েন, সে জন্য একটি সমন্বিত গাইডলাইন তৈরির কাজ চলছে।

এ ছাড়া, যৌথ পিএইচডি প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্রেডিট ট্রান্সফার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।