আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৩%

সরকারের মাত্র সাত মাসে ৩২ কূপ খনন

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:06:39 pm, Thursday, 8 October 2026
  • 35
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। সেই সরকারের অধীনে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত সেপ্টেম্বরে ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাস পার করল দলটি। এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ ভাসমান টার্মিনাল ইস্যুতে জ্বালানি খাত নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সরকারকে।

উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাতের কারণেই এমনটা হয়েছে— দাবি সংশ্লিষ্টদের। তবে সেই আমদানিনির্ভরতা থেকে বের হতে কাজ করছে সরকার। যার সাফল্যস্বরূপ গত সাত মাসে দেশে ৩২টি কূপ খনন করা হয়েছে। যেগুলো থেকে ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এই কার্যক্রম আরও জোরদার করলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসপ্রাপ্তি আরও বাড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) তথ্যমতে, সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি ২০৩১-৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতার চাপও কমানো সম্ভব হবে জানিয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৩২টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১৪টি হলো— বিয়ানীবাজার-১, বিয়ানীবাজার-২, কৈলাশটিলা-১, কৈলাশটিলা-২, কৈলাশটিলা-৭, কৈলাশটিলা-৮, রশিদপুর-৩, রশিদপুর-৫, রশিদপুর-১১, সিলেট-৭, সিলেট-১০, সিলেট-১১, সিলেট-১০ এক্স ও রশিদপুর-২।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ১১টি কূপ হলো— টবগি-১, শ্রীকাইল নর্থ-১, শরীয়তপুর-১, ভোলা নর্থ-২, ইলিশা-১, সুন্দলপুর-৩, বেগমগঞ্জ-৪ ওয়েস্ট, জামালপুর-১, শ্রীকাইল-৫, সেমুতাং-৬ ও রূপগঞ্জ-১। অপরদিকে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) সাতটি কূপ হলো— তিতাস-১৪, তিতাস-১৬, তিতাস-২৪, তিতাস-২৮, হবিগঞ্জ-৫, বাখরাবাদ-৭ ও কামতা-২।

তিনি বলেন, খনন সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে দৈনিক ১৩৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস পাওয়ার সম্ভাব্যতা ছিল। কিন্তু হবিগঞ্জ-৫ কূপে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়ায় বর্তমানে ৩২টি কূপ থেকে প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। এদিকে পেট্রোবাংলার রিজার্ভার অ্যান্ড ডেটা ম্যানেজমেন্ট বিভাগ জানিয়েছে, কূপ খননের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও এর পুরোটা এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে আরও প্রায় ৬০ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও সাতটি কূপের খননকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এগুলো হলো— রশিদপুর-১৩, সুন্দলপুর-১ ও ৪, তিতাস-২৯ ও ৩১, ভোলা নর্থ এবং বাখরাবাদ-৬। পেট্রোবাংলার হিসাবে, জানুয়ারি নাগাদ এসব কূপের খননকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। খননকাজ শেষ হলে এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৯৬ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাইপলাইন ও প্রসেসিং প্ল্যান্টের সক্ষমতার ভিত্তিতেই এ গ্যাসের পুরোটা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বর্তমানে ১৯টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আরও ৯টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার বোর্ডের মাধ্যমে আরও চারটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে দেশের গ্যাস খাতে একটা বিপ্লব তৈরি হবে উল্লেখ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা সব সময় দেশীয় কূপ খননে তাগিদ দিয়ে আসছিলাম।

কিন্তু তারা নিজেদের আখের গোছাতে দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন বাড়ানোর চেয়ে আমদানিতে বেশি উৎসাহী ছিল। যার খেসারত সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বর্তমান সরকারকে চরমভাবে দিতে হয়েছে। তবে যেহেতু বর্তমান সরকার দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, সেহেতু আশা করছি দেশের গ্যাস খাতে অদূর ভবিষ্যতে সুফল আসবেই। তিনি বলেন, নতুন করে গ্যাসের মজুত শনাক্ত হওয়ার পর তা গ্রিডে সরবরাহের অবকাঠামোর অভাবে যেন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কারণ বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি ইতোমধ্যে প্রতিদিন ১ হাজার এমএমসিএফেরও বেশি। জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, সরকার স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে। এ জন্য বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছে মোট ২৬টি অফশোর ব্লক উন্মুক্ত করে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ চালু করেছে।

একই সঙ্গে নতুন কূপের সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণে সার্ভে কার্যক্রম চলছে। প্রকল্প গ্রহণের আগে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় স্থানে কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে গ্যাস উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এখনো কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফ। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ।

এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ দেশীয় উৎস থেকে এবং ৯০০ থেকে ১ হাজার এমএমসিএফ এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশীয় উৎসের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭০০ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন কূপ থেকে গ্যাস যুক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৫৬৬ এমএমসিএফ থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৭০০ এমএমসিএফে উন্নীত হয়েছে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো (আইওসি) থেকে দৈনিক প্রায় ৯০০ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমরা জ্বালানি খাতটা কী রকম তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে পেয়েছি। সেই ঝুড়ি মেরামতে কিছুটা সময় লাগলেও আমরা সফল হতে পেরেছি দেশবাসীর সহযোগিতায়।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সময় দেশবাসী যে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন, এর জন্য তাদের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতা। আমরা এখন আমদানিনির্ভরতা থেকে বের হতে নানা রকম পদক্ষেপ নিচ্ছি। এর মধ্যে অন্যতম দেশীয় কূপ খনন কার্যক্রম জোরদার করা। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছি। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। ৩২টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

তবে পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলমান। এসব কূপের কাজ শেষ হলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৯টি প্রকল্প চলমান এবং আরও ৯টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করা যায় কীভাবে, আমরা সেই পরিকল্পনা করছি। ’

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

রূপপুর থেকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস রোসাটমের

সরকারের মাত্র সাত মাসে ৩২ কূপ খনন

Update Time : 11:06:39 pm, Thursday, 8 October 2026

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। সেই সরকারের অধীনে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত সেপ্টেম্বরে ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাস পার করল দলটি। এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ ভাসমান টার্মিনাল ইস্যুতে জ্বালানি খাত নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সরকারকে।

উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাতের কারণেই এমনটা হয়েছে— দাবি সংশ্লিষ্টদের। তবে সেই আমদানিনির্ভরতা থেকে বের হতে কাজ করছে সরকার। যার সাফল্যস্বরূপ গত সাত মাসে দেশে ৩২টি কূপ খনন করা হয়েছে। যেগুলো থেকে ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এই কার্যক্রম আরও জোরদার করলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসপ্রাপ্তি আরও বাড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) তথ্যমতে, সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি ২০৩১-৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতার চাপও কমানো সম্ভব হবে জানিয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৩২টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১৪টি হলো— বিয়ানীবাজার-১, বিয়ানীবাজার-২, কৈলাশটিলা-১, কৈলাশটিলা-২, কৈলাশটিলা-৭, কৈলাশটিলা-৮, রশিদপুর-৩, রশিদপুর-৫, রশিদপুর-১১, সিলেট-৭, সিলেট-১০, সিলেট-১১, সিলেট-১০ এক্স ও রশিদপুর-২।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ১১টি কূপ হলো— টবগি-১, শ্রীকাইল নর্থ-১, শরীয়তপুর-১, ভোলা নর্থ-২, ইলিশা-১, সুন্দলপুর-৩, বেগমগঞ্জ-৪ ওয়েস্ট, জামালপুর-১, শ্রীকাইল-৫, সেমুতাং-৬ ও রূপগঞ্জ-১। অপরদিকে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) সাতটি কূপ হলো— তিতাস-১৪, তিতাস-১৬, তিতাস-২৪, তিতাস-২৮, হবিগঞ্জ-৫, বাখরাবাদ-৭ ও কামতা-২।

তিনি বলেন, খনন সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে দৈনিক ১৩৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস পাওয়ার সম্ভাব্যতা ছিল। কিন্তু হবিগঞ্জ-৫ কূপে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়ায় বর্তমানে ৩২টি কূপ থেকে প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। এদিকে পেট্রোবাংলার রিজার্ভার অ্যান্ড ডেটা ম্যানেজমেন্ট বিভাগ জানিয়েছে, কূপ খননের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও এর পুরোটা এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে আরও প্রায় ৬০ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও সাতটি কূপের খননকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এগুলো হলো— রশিদপুর-১৩, সুন্দলপুর-১ ও ৪, তিতাস-২৯ ও ৩১, ভোলা নর্থ এবং বাখরাবাদ-৬। পেট্রোবাংলার হিসাবে, জানুয়ারি নাগাদ এসব কূপের খননকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। খননকাজ শেষ হলে এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৯৬ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাইপলাইন ও প্রসেসিং প্ল্যান্টের সক্ষমতার ভিত্তিতেই এ গ্যাসের পুরোটা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বর্তমানে ১৯টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আরও ৯টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার বোর্ডের মাধ্যমে আরও চারটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে দেশের গ্যাস খাতে একটা বিপ্লব তৈরি হবে উল্লেখ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা সব সময় দেশীয় কূপ খননে তাগিদ দিয়ে আসছিলাম।

কিন্তু তারা নিজেদের আখের গোছাতে দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন বাড়ানোর চেয়ে আমদানিতে বেশি উৎসাহী ছিল। যার খেসারত সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বর্তমান সরকারকে চরমভাবে দিতে হয়েছে। তবে যেহেতু বর্তমান সরকার দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, সেহেতু আশা করছি দেশের গ্যাস খাতে অদূর ভবিষ্যতে সুফল আসবেই। তিনি বলেন, নতুন করে গ্যাসের মজুত শনাক্ত হওয়ার পর তা গ্রিডে সরবরাহের অবকাঠামোর অভাবে যেন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কারণ বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি ইতোমধ্যে প্রতিদিন ১ হাজার এমএমসিএফেরও বেশি। জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, সরকার স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে। এ জন্য বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছে মোট ২৬টি অফশোর ব্লক উন্মুক্ত করে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ চালু করেছে।

একই সঙ্গে নতুন কূপের সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণে সার্ভে কার্যক্রম চলছে। প্রকল্প গ্রহণের আগে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় স্থানে কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে গ্যাস উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এখনো কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফ। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ।

এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ দেশীয় উৎস থেকে এবং ৯০০ থেকে ১ হাজার এমএমসিএফ এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশীয় উৎসের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭০০ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন কূপ থেকে গ্যাস যুক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৫৬৬ এমএমসিএফ থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৭০০ এমএমসিএফে উন্নীত হয়েছে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো (আইওসি) থেকে দৈনিক প্রায় ৯০০ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমরা জ্বালানি খাতটা কী রকম তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে পেয়েছি। সেই ঝুড়ি মেরামতে কিছুটা সময় লাগলেও আমরা সফল হতে পেরেছি দেশবাসীর সহযোগিতায়।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সময় দেশবাসী যে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন, এর জন্য তাদের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতা। আমরা এখন আমদানিনির্ভরতা থেকে বের হতে নানা রকম পদক্ষেপ নিচ্ছি। এর মধ্যে অন্যতম দেশীয় কূপ খনন কার্যক্রম জোরদার করা। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছি। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। ৩২টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

তবে পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলমান। এসব কূপের কাজ শেষ হলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৯টি প্রকল্প চলমান এবং আরও ৯টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করা যায় কীভাবে, আমরা সেই পরিকল্পনা করছি। ’