কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম আল নুর হাসপাতালে অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু এবং পরে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় চিকিৎসক ডা. খাইরুন্নাহার কেয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি অ্যান্ড অবস্ বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফারজানা খন্দকারকে সভাপতি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর আল নুর হাসপাতালে ডা. খাইরুন্নাহার কেয়ার তত্ত্বাবধানে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের খামার পুস্করনী গ্রামের প্রসূতি নাজমা আক্তারের স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) করানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ ওঠে, ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কারণে নবজাতকের মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে নবজাতকটি মারা যায়।
পরবর্তীতে গত ৫ সেপ্টেম্বর স্বজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ তুললে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ডা. কেয়া নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, “আপনারা একটা কাজ করবেন, এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন। অথবা ব্যথা কেন উঠছে না, পানি কেন ভাঙছে—এই যাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিক থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে।
” চিকিৎসকের এই পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সাংবাদিকদের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চিকিৎসকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে তারাও বিব্রত।
তিনি বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডা. কেয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















