রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুরে সম্পত্তির বিরোধের জেরে ফখরুল হাসান ফরহাদ (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত মর দেহ উদ্ধার করে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ। নিহতের বোন নার্গিস সুলতানা জানান, তারা দুই বোন ও এক ভাই। শাহজাহানপুরের চারতলা বাড়ির জমিটি দুই বোনের নামে নিবন্ধিত। এই সম্পত্তি, গ্যাস ও পানি বিল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আফসানা ও তার স্বামী সুজনের সঙ্গে তাদের বিবাদ চলছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সবাইকে বঞ্চিত করে পুরো বাড়িটি তাদের দখলে নেওয়া।
তিনি জানান, ভবনের চারতলার ছাদের অংশ আমার নামে থাকায় সেখানে ভাই ফরহাদকে থাকতে দিয়েছিলাম আমি। সেখানে একটি টিনশেড ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন ফরহাদ। তার স্ত্রী বিউটি পার্লারে কাজ করেন। বুধবার রাতে সুজন চাপাতি নিয়ে ঘরে ঢুকে ফরহাদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে আমার ভাইকে। এমন নৃশংসভাবে আমার ভাইকে খুন হতে হবে এটা আমি কখনো ভাবতে পারিনি।
আমি এই হত্যার সঠিক বিচার চাই। আজ আমার ভাইকে হত্যা করেছে। এরপরে তো আমাদেরও সে হত্যা করতে পারে আমাদের দেশে হত্যা করবে না এটা গ্যারান্টি কে দিতে পারে। নিহতের বোন আরো অভিযোগ করে আরো বলেন, একবার হত্যা করে তার হাতে জোস এসে গেছে এরপর তো সে সিরিয়াল কিলারও হয়ে যেতে পারে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আমরা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করি।
পরে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। নিহত ফরহাদ শাহজাহানপুর আমতলা এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে। কয়েকবার স্ট্রোক করায় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং বেশিরভাগ সময় তিনি বাসায় থাকতেন। ১০ বছর আগে বিয়ে হলেও তার কোনো সন্তান ছিল না।






















