আজ বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৬%

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ, চলছে রংতুলির আঁচড়

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:28:10 pm, Wednesday, 7 October 2026
  • 15
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা। আর কয়েক দিন পরই শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

এখন রংতুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গা ও তাঁর সঙ্গীদের পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। গতকাল বুধবার উপজেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও প্রতিমায় রঙের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ। কাদা-মাটি, বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি প্রতিমাগুলো মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে রূপ পাচ্ছে।

দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নানা রং ও নকশা। প্রতিমা তৈরির কারিগর দীপা পাল (২০) বলেন, প্রতিবছর দুর্গাপূজার মৌসুমে তিনি প্রায় ৫৫ থেকে ৬০টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। তবে এবার কাজ পেয়েছেন প্রায় ৪০টি মণ্ডপে। প্রতিটি প্রতিমার দাম ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম।

দীপা পাল বলেন, প্রতিমা তৈরির মাটি, বাঁশ, খড়, রং ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে। বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। কিন্তু সেই তুলনায় প্রতিমার দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে আগের তুলনায় আয় কমে যাচ্ছে। তবু দুর্গাপূজার মৌসুমে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে তাঁর ভালো লাগে। দীপা পালের মতো একই অভিজ্ঞতার কথা জানান প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত বিজয় পালসহ অন্য মৃৎশিল্পীরা।

তাঁদের ভাষ্য, একদিকে উপকরণ ও শ্রমিকের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রতিমার কাজ কমেছে। ফলে বাড়তি খরচ সামলে কাজ করে আগের মতো আয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পূজামণ্ডপ ঘিরে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্যান্ডেল নির্মাণ, কোথাও আলোকসজ্জা, আবার কোথাও চলছে মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।

পূজাকে ঘিরে বাজার ও স্থানীয় এলাকাগুলোতেও তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট বিনয় চক্রবর্তী বলেন, নবীনগর উপজেলায় এবার ১৩২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিনয় চক্রবর্তী বলেন, ‘নবীনগর সব সময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত ধরে রেখেছে।

এবারও আমরা চাই, আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে সবাই মিলে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করব। পূজার আনন্দ যেন কোনোভাবেই কারও জন্য অস্বস্তির কারণ না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ’ তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে দুর্গাপূজা যেন সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়, সে বিষয়েও তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুতি নিচ্ছে। পূজার সময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, যান চলাচল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মণ্ডপভিত্তিক নজরদারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রস্তুতি নিয়েছে।

প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পূজার সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে। পূজা উদ্‌যাপন কমিটি ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সমন্বয় করেও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূজা উদ্‌যাপন কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হওয়ায় এখন তাঁরা অপেক্ষা করছেন পূজার মূল আয়োজনের।

তাঁদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে এবারও নবীনগরে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এবার ২০ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২১ অক্টোবর মহানবমী এবং ২২ অক্টোবর মহাদশমী বা বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে। বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আওয়ামী লীগ আমলে নির্যাতনকারী ওসি কীভাবে খুলশীতে, প্রশ্ন মেয়র শাহাদাতের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ, চলছে রংতুলির আঁচড়

Update Time : 07:28:10 pm, Wednesday, 7 October 2026

মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা। আর কয়েক দিন পরই শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

এখন রংতুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গা ও তাঁর সঙ্গীদের পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। গতকাল বুধবার উপজেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও প্রতিমায় রঙের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ। কাদা-মাটি, বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি প্রতিমাগুলো মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে রূপ পাচ্ছে।

দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নানা রং ও নকশা। প্রতিমা তৈরির কারিগর দীপা পাল (২০) বলেন, প্রতিবছর দুর্গাপূজার মৌসুমে তিনি প্রায় ৫৫ থেকে ৬০টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। তবে এবার কাজ পেয়েছেন প্রায় ৪০টি মণ্ডপে। প্রতিটি প্রতিমার দাম ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম।

দীপা পাল বলেন, প্রতিমা তৈরির মাটি, বাঁশ, খড়, রং ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে। বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। কিন্তু সেই তুলনায় প্রতিমার দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে আগের তুলনায় আয় কমে যাচ্ছে। তবু দুর্গাপূজার মৌসুমে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে তাঁর ভালো লাগে। দীপা পালের মতো একই অভিজ্ঞতার কথা জানান প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত বিজয় পালসহ অন্য মৃৎশিল্পীরা।

তাঁদের ভাষ্য, একদিকে উপকরণ ও শ্রমিকের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রতিমার কাজ কমেছে। ফলে বাড়তি খরচ সামলে কাজ করে আগের মতো আয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পূজামণ্ডপ ঘিরে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্যান্ডেল নির্মাণ, কোথাও আলোকসজ্জা, আবার কোথাও চলছে মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।

পূজাকে ঘিরে বাজার ও স্থানীয় এলাকাগুলোতেও তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট বিনয় চক্রবর্তী বলেন, নবীনগর উপজেলায় এবার ১৩২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিনয় চক্রবর্তী বলেন, ‘নবীনগর সব সময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত ধরে রেখেছে।

এবারও আমরা চাই, আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে সবাই মিলে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করব। পূজার আনন্দ যেন কোনোভাবেই কারও জন্য অস্বস্তির কারণ না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ’ তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে দুর্গাপূজা যেন সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়, সে বিষয়েও তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুতি নিচ্ছে। পূজার সময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, যান চলাচল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মণ্ডপভিত্তিক নজরদারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রস্তুতি নিয়েছে।

প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পূজার সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে। পূজা উদ্‌যাপন কমিটি ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সমন্বয় করেও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূজা উদ্‌যাপন কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হওয়ায় এখন তাঁরা অপেক্ষা করছেন পূজার মূল আয়োজনের।

তাঁদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে এবারও নবীনগরে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এবার ২০ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২১ অক্টোবর মহানবমী এবং ২২ অক্টোবর মহাদশমী বা বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে। বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।