আজ বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

জলবায়ু অর্থায়নের রূপরেখা এখনি তৈরি করা প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:47:18 pm, Wednesday, 7 October 2026
  • 24
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশের আর্থিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু অর্থায়নের রূপরেখা এখনি তৈরি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো আগামী কয়েক দশকের জন্য আমাদের জলবায়ু ঝুঁকির রূপরেখা নির্ধারণ করে দেবে।

জাতীয় নীতি ও কৌশলগুলোকে সমন্বিত কর্মসূচি, মানসম্মত প্রকল্প, উপযুক্ত অর্থায়ন এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। ’ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ নলেজ কনফারেন্স ২০২৬’ এর মঙ্গলবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করে বিসিডিপি ওয়েব পোর্টালের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন এবং বর্তমান অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন মন্ত্রী।

অভিযোজনসংক্রান্ত উদ্যোগগুলোর বিশেষ আর্থিক বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘বাণিজ্যিক মুনাফা না থাকলেও এগুলো অপরিহার্য এবং সামাজিক কল্যাণ সাধন করে। তাই বাংলাদেশের আর্থিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু অর্থায়নের রূপরেখা এখনি তৈরি করা প্রয়োজন।

’ পাশাপাশি তিনি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ‘ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি’ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জলবায়ু সুবিচারের দাবি এবং প্রকল্প প্রণয়ন ও পরিচালনায় নারী, তরুণ, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।

ঢাকায় দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি) নলেজ কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ৫০০ জনেরও বেশি জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ অংশ নিয়েছেন।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত যুগান্তকারী সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০’ বাস্তবায়ন এবং ‘জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি ৩.০)’-এর কৌশলগত বিনিয়োগ রূপরেখাকে ত্বরান্বিত করা। উদ্বোধনী দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘জলবায়ু সমাধান প্রদর্শনী’র পাশাপাশি ‘বিসিডিপি ওয়েব পোর্টাল’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিনিয়োগ সহজতর করতে রিয়েল-টাইম প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, পাইপলাইন ব্যবস্থাপনা, ডেটা একত্রীকরণ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের কেন্দ্রীয় হাব হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়া, সম্মেলনে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিসিডিপি প্ল্যাটফর্মটিকে জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহ, সম্পদ বণ্টন এবং নীতি নির্ধারণে একক জাতীয় প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে পুনরায় সুদৃঢ় করা হয়।

আয়োজনের পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে জ্বালানি রূপান্তর, টেকসই পরিবহন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, লাও পিডিআর, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের প্রতিনিধিত্বকারী নির্বাহী পরিচালক শ্রী সত্য শ্রীনিবাস লোলা বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ এবং চলমান জলবায়ু ঝুঁকির দ্বিমুখী বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘সম্মেলনের প্রকৃত সাফল্য কেবল আলোচনায় নয়, বরং পরবর্তী পদক্ষেপ ও কার্যকর বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করবে। উচ্চাকাক্সক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাত থেকেই বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। ’ তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এই পার্টনারশিপের মূল লক্ষ্য হলো অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং অংশীদারিত্বকে একসুতোয় বাঁধা।

যাতে বাংলাদেশ নীতিগত অঙ্গীকার থেকে সরাসরি কার্যকর বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। ’ উদ্বোধনী অধিবেশনে সরকারি ও উন্নয়ন খাতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ এবং অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। প্রথম দিনে তিনটি কৌশলগত প্লেনারি বা পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ‘পাথওয়েজ টু রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড লো কার্বন গ্রোথ’ শীর্ষক প্রথম প্লেনারিতে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির মাঝেও অর্থনৈতিক প্রগতি বজায় রাখার ম্যাক্রো-কৌশলগত রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।

দ্বিতীয় প্লেনারিতে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন, খাতভিত্তিক ব্যয় নির্ধারণ এবং জাতীয় বাজেট বরাদ্দ প্রক্রিয়ার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০’ কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তৃতীয় প্লেনারিতে এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নে বহু পাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর (এমডিবি) আর্থিক সরঞ্জাম এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ পুঁজি ব্যবহারের কৌশলসমূহ মূল্যায়ন করা হয়।

আগামীকাল ৮ অক্টোবর জলবায়ু বিনিয়োগের ঝুঁকি হ্রাস, বিনিয়োগবান্ধব প্রকল্প পাইপলাইন তৈরি এবং জ্বালানি, পরিবহন ও কৃষি খাতে সরকারি-বেসরকারি অর্থায়ন কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি অধিবেশন ও বিশেষায়িত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন সমাপ্ত হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ১৮৬০ বিদ্রোহী নিহত

জলবায়ু অর্থায়নের রূপরেখা এখনি তৈরি করা প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী

Update Time : 06:47:18 pm, Wednesday, 7 October 2026

বাংলাদেশের আর্থিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু অর্থায়নের রূপরেখা এখনি তৈরি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো আগামী কয়েক দশকের জন্য আমাদের জলবায়ু ঝুঁকির রূপরেখা নির্ধারণ করে দেবে।

জাতীয় নীতি ও কৌশলগুলোকে সমন্বিত কর্মসূচি, মানসম্মত প্রকল্প, উপযুক্ত অর্থায়ন এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। ’ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ নলেজ কনফারেন্স ২০২৬’ এর মঙ্গলবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করে বিসিডিপি ওয়েব পোর্টালের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন এবং বর্তমান অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন মন্ত্রী।

অভিযোজনসংক্রান্ত উদ্যোগগুলোর বিশেষ আর্থিক বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘বাণিজ্যিক মুনাফা না থাকলেও এগুলো অপরিহার্য এবং সামাজিক কল্যাণ সাধন করে। তাই বাংলাদেশের আর্থিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু অর্থায়নের রূপরেখা এখনি তৈরি করা প্রয়োজন।

’ পাশাপাশি তিনি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ‘ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি’ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জলবায়ু সুবিচারের দাবি এবং প্রকল্প প্রণয়ন ও পরিচালনায় নারী, তরুণ, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।

ঢাকায় দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি) নলেজ কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ৫০০ জনেরও বেশি জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ অংশ নিয়েছেন।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত যুগান্তকারী সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০’ বাস্তবায়ন এবং ‘জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি ৩.০)’-এর কৌশলগত বিনিয়োগ রূপরেখাকে ত্বরান্বিত করা। উদ্বোধনী দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘জলবায়ু সমাধান প্রদর্শনী’র পাশাপাশি ‘বিসিডিপি ওয়েব পোর্টাল’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিনিয়োগ সহজতর করতে রিয়েল-টাইম প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, পাইপলাইন ব্যবস্থাপনা, ডেটা একত্রীকরণ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের কেন্দ্রীয় হাব হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়া, সম্মেলনে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিসিডিপি প্ল্যাটফর্মটিকে জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহ, সম্পদ বণ্টন এবং নীতি নির্ধারণে একক জাতীয় প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে পুনরায় সুদৃঢ় করা হয়।

আয়োজনের পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে জ্বালানি রূপান্তর, টেকসই পরিবহন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, লাও পিডিআর, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের প্রতিনিধিত্বকারী নির্বাহী পরিচালক শ্রী সত্য শ্রীনিবাস লোলা বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ এবং চলমান জলবায়ু ঝুঁকির দ্বিমুখী বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘সম্মেলনের প্রকৃত সাফল্য কেবল আলোচনায় নয়, বরং পরবর্তী পদক্ষেপ ও কার্যকর বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করবে। উচ্চাকাক্সক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাত থেকেই বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। ’ তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এই পার্টনারশিপের মূল লক্ষ্য হলো অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং অংশীদারিত্বকে একসুতোয় বাঁধা।

যাতে বাংলাদেশ নীতিগত অঙ্গীকার থেকে সরাসরি কার্যকর বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। ’ উদ্বোধনী অধিবেশনে সরকারি ও উন্নয়ন খাতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ এবং অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। প্রথম দিনে তিনটি কৌশলগত প্লেনারি বা পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ‘পাথওয়েজ টু রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড লো কার্বন গ্রোথ’ শীর্ষক প্রথম প্লেনারিতে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির মাঝেও অর্থনৈতিক প্রগতি বজায় রাখার ম্যাক্রো-কৌশলগত রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।

দ্বিতীয় প্লেনারিতে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন, খাতভিত্তিক ব্যয় নির্ধারণ এবং জাতীয় বাজেট বরাদ্দ প্রক্রিয়ার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০’ কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তৃতীয় প্লেনারিতে এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নে বহু পাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর (এমডিবি) আর্থিক সরঞ্জাম এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ পুঁজি ব্যবহারের কৌশলসমূহ মূল্যায়ন করা হয়।

আগামীকাল ৮ অক্টোবর জলবায়ু বিনিয়োগের ঝুঁকি হ্রাস, বিনিয়োগবান্ধব প্রকল্প পাইপলাইন তৈরি এবং জ্বালানি, পরিবহন ও কৃষি খাতে সরকারি-বেসরকারি অর্থায়ন কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি অধিবেশন ও বিশেষায়িত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন সমাপ্ত হবে।