আজ বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৬%

রামেবি উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ, কার্যালয়ে তালা

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:48:43 pm, Tuesday, 6 October 2026
  • 18

রামেবি উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ, কার্যালয়ে তালা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার (অর্থ) নাজমুল হোসাইনকে মারধর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি হঠাৎ উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

এ সময় তারা উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেন এবং চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করান বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় সেকশন অফিসার (অর্থ) নাজমুল হোসাইন উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করলে তাকেও আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তার কাছ থেকেও জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন নাজমুল।

নাজমুল হোসাইন বলেন, প্রতিদিনের মতো তারা অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, তারা উপাচার্যকে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেয়। এর মধ্যে আমি ওই কক্ষে প্রবেশ করলে আমাকেও আটকে রাখা হয়। পরে আমাকে মারধর করে জোরপূর্বক ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়। নাজমুল হোসাইনের অভিযোগ, ঘটনার পর কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট বা সরিয়ে ফেলার উদ্দেশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

একই সময়ে অফিসের কম্পিউটারের হার্ডডিস্কও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে কি না, তা নিয়ে, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে একজন উপাচার্যের পদত্যাগ, অপসারণ বা পদত্যাগ গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও সরকারি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে চলতি বছরের ৩ আগস্ট রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। সে সময় উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, নিয়োগে অনিয়ম এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। এদিকে, মঙ্গলবারের ঘটনার পর উপাচার্যের পদত্যাগপত্রের বৈধতা, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

মানিকগঞ্জে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মামাতো ভাই গ্রেপ্তার

রামেবি উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ, কার্যালয়ে তালা

Update Time : 05:48:43 pm, Tuesday, 6 October 2026

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার (অর্থ) নাজমুল হোসাইনকে মারধর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি হঠাৎ উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

এ সময় তারা উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেন এবং চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করান বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় সেকশন অফিসার (অর্থ) নাজমুল হোসাইন উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করলে তাকেও আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তার কাছ থেকেও জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন নাজমুল।

নাজমুল হোসাইন বলেন, প্রতিদিনের মতো তারা অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, তারা উপাচার্যকে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেয়। এর মধ্যে আমি ওই কক্ষে প্রবেশ করলে আমাকেও আটকে রাখা হয়। পরে আমাকে মারধর করে জোরপূর্বক ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়। নাজমুল হোসাইনের অভিযোগ, ঘটনার পর কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট বা সরিয়ে ফেলার উদ্দেশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

একই সময়ে অফিসের কম্পিউটারের হার্ডডিস্কও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে কি না, তা নিয়ে, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে একজন উপাচার্যের পদত্যাগ, অপসারণ বা পদত্যাগ গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও সরকারি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে চলতি বছরের ৩ আগস্ট রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। সে সময় উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, নিয়োগে অনিয়ম এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। এদিকে, মঙ্গলবারের ঘটনার পর উপাচার্যের পদত্যাগপত্রের বৈধতা, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।